খুঁজুন
                               
, ,
           

টেনেসিতে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম নারীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
টেনেসিতে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম নারীর মৃত্যুদণ্ড

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি শেষ। কারাগারের নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়েছে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে। শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার প্রক্রিয়া। একবার নয়, দেওয়া হয়েছে দুই দফা ইনজেকশন। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিণতি ঘটেনি—মৃত্যু হয়নি ক্রিস্টার। জ্ঞান হারালেও তাঁর হৃৎস্পন্দন চলছিল। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে তাঁর নাক ডাকার শব্দও শোনা যাচ্ছিল বলে আদালতে জরুরি আবেদনে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া থামিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে। ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর রাজ্যটিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।

দুই ইনজেকশনেও থামেনি হৃদস্পন্দন

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম ডোজের পরও মৃত্যু না হওয়ায় দ্বিতীয়বার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এরপরও বেঁচে ছিলেন পাইক। তাঁর আইনজীবীরা দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হন। জরুরি আবেদনে তাঁরা জানান, পাইক অচেতন হয়ে পড়লেও তাঁর হৃৎস্পন্দন ছিল এবং নাক ডাকার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। পরে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও কেন তাঁর মৃত্যু হলো না, তা নিয়ে এখন তদন্তের মুখে পড়েছে টেনেসি কর্তৃপক্ষ।

শেষ মুহূর্তেও চলেছে আইনি লড়াই

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগে পাইকের আইনজীবীরা আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। নিম্ন আদালত প্রথমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশও দেন। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেন। এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় টেনেসি কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন—এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।

১৮ বছর বয়সের অপরাধে ৫০ বছর বয়সে দণ্ড

ক্রিস্টা পাইকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তখন পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, পাইক তাঁর তৎকালীন ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে নির্যাতন ও মারধর করেন। পরে ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়। তিনজনের পরিচয় হয়েছিল সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে। ১৯৯৬ সালে স্লেমার হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর তৎকালীন প্রেমিক শিপকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

‘আমি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছরের একজন কিশোরী’

মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেতে ক্ষমার আবেদন করেছিলেন পাইক। সেখানে তিনি শৈশবে মানসিক আঘাত ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন। নিজের দেওয়া বিবৃতিতে অপরাধের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেন তিনি।

পাইক বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছরের একজন কিশোরী ছিলেন। নিজের কাজের ভয়াবহতা বুঝতে তাঁর বহু বছর লেগেছে এবং তাঁর অপরাধে কত মানুষের জীবন প্রভাবিত হয়েছে, তা উপলব্ধি করতেও সময় লেগেছে। তবে টেনেসির গভর্নর বিল লি তাঁর ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

২০০ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা

টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সেই দীর্ঘ ব্যবধানের অবসান হতো টেনেসিতে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে একমাত্র নারী ছিলেন পাইক। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর থেকে দেশটিতে ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৩।

এবার তদন্তের মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুই ডোজ দেওয়ার পরও একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী বেঁচে যাওয়ায় টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি এ বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইকের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

কালের আলো/জেএন

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি