খুঁজুন
                               
, ,
           

দলের নামে অপকর্মে বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দলের নামে অপকর্মে বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান

একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, এক দিনে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—মাত্র কয়েক দিনের এই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভেতরে নতুন এক সাংগঠনিক বার্তা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দলের নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুর কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে এবার শুধু স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম হিসেবে দেখছে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অভিযোগ যাচাই করে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

  • মিষ্টির পদত্যাগে কঠোর বার্তা
  • এক দিনের ব্যবধানে তিন কমিটি বিলুপ্ত
  • এক দিনে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
  • ৫ আগস্টের পর ব্যবস্থা ১,০২৩ জনের বিরুদ্ধে
  • রাজধানী ছাড়িয়ে জেলাতেও একই অভিযোগ
  • দলীয় শাস্তি আলাদা, বিচার হবে আইনে

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশ এবং তার পদত্যাগের পরদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘটনা এই বার্তাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। একই সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য বলছে, এই প্রক্রিয়া অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বৈশিষ্ট্য আলাদা—অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু দলীয় শৃঙ্খলা নয়, দখল, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের মতো অপরাধের অভিযোগও উঠে আসছে। ফলে দলীয় শুদ্ধি কার্যক্রম এবার কোন পর্যায়ে গিয়ে থামে, নজর সেদিকেই।

কয়েক দিনের সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে বার্তা

রাড্ডার ঘটনায় মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হয়েছে, পরবর্তী কয়েক দিনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর তিনটি সংগঠনের কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দেখিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তকে রাড্ডা ঘটনার সরাসরি শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে সাংগঠনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণেও বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে সময়ের কারণে। রাড্ডার ঘটনার পরপরই এসব সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দলের ভেতরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

মিষ্টির ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি শুধু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নন; তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন। ২০২৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগের নির্দেশ এবং তার দ্রুত পদত্যাগ দলীয় জবাবদিহির প্রশ্নে একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা আর ফৌজদারি বিচার এক বিষয় নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে; চার্জশিট হলে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে। অর্থাৎ দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক হলেও অপরাধের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।

এক দিনে ১৪ জন, সব অভিযোগের পরিণতি

তিন কমিটি বিলুপ্তির দিনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের তিন নেতা—শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রদলের পাঁচ নেতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা এবং শ্রমিক দলের চার নেতার বিরুদ্ধেও একই দিনে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে একটি বিষয় লক্ষণীয়—অভিযোগ উঠলেই সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও বহিষ্কার, কোথাও পদ স্থগিত, কোথাও কারণ দর্শানোর নোটিস, আবার কোথাও তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ঘটনাটি তার উদাহরণ। চেম্বার অব কমার্স কার্যালয় দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগ যাচাই ও ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পথ খোলা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে একই ছক 

ঢাকার বাইরের ঘটনাগুলোতেও অভিযোগের ধরনে মিল পাওয়া যাচ্ছে। বরিশালের গৌরনদীতে ব্যবসায়ী এসএম জামিল হাসান মিঠুর কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির তিন নেতা এসএম জাকির হোসেন, ফরহাদ শরীফ ও নাজমুল হাসান মিঠুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাজীপুরে পোশাক কারখানা থেকে চাঁদা দাবি ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকির অভিযোগে ফারুক খান ও আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে মাহবুব হাসান পিয়ারু ও কেএম জিয়াউস সাদাতকে গ্রেপ্তারের পর বহিষ্কার করেছে মহানগর বিএনপি। নোয়াখালীতে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে তিন নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামেও দখল, আধিপত্য বিস্তার, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, কোথাও দল বহিষ্কার করেছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পর্ক অস্বীকার করেছে।

১,০২৩ থেকে নতুন তালিকা—কতদূর যাবে অভিযান?

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর একপর্যায়ে ১ হাজার ২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনের পদ স্থগিত এবং ৩৫ জনকে সতর্ক করা হয়। আরও চারজনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগটি সাম্প্রতিক কয়েক দিনের প্রতিক্রিয়া নয়। কিন্তু এবার যে পরিবর্তনটি লক্ষণীয়, তা হলো—দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগকে রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নতুন করে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে সামনে কতটা বিস্তৃত পদক্ষেপ আসছে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, অভিযোগ যাচাই করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থার কথাও বলেছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের নামে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন। সরকারের অবস্থানও একই ধরনের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দখলদার, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

দলীয় শাস্তি নয়, শেষ কথা আদালতের

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপি ও সরকারের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—দলীয় বহিষ্কারকে ফৌজদারি বিচারের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দলীয় ব্যবস্থা দলের নিজস্ব বিষয়। তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলে চার্জশিটসহ আইনি প্রক্রিয়া এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে।

‘আইন সবার জন্য সমান’

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ফেনীতে বলেছেন, বিএনপিকে দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনাকে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তার বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; এতে দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে প্রশ্রয় না দেওয়ার বার্তা গেছে।

সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও গাফিলতি পাওয়া গেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমকে 

হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ বিদেশি পর্যটকদের পণ্য ও সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দেবে। এর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে রাখা যাবে। বাকি অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা চলতি লেনদেনসংক্রান্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত গাইডলাইন্স, ২০১৮-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আগে কেবল ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত দোকানের নামে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ ছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হলো।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

মাদারীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

শখ করে ঘরের বারান্দায় গড়ে তুলেছিলেন ইনডোর প্ল্যান্টের ছোট্ট বাগান। সেই শখই একসময় হয়ে ওঠে জীবিকার উৎস। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। বর্তমানে এ বাগান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা তানজিলা আখি। কোনো কোনো মাসে তাঁর আয় তিন থেকে চার লাখ টাকায়ও পৌঁছায়।

তানজিলা একসময় ঢাকায় চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে একটি ডিজাইনার হাউসে কাজ করার সময় গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘরের বারান্দায় ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান গড়ে তোলেন। তখন শখের বশে গাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা করলেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ যে তাঁর পেশা হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় তাঁকে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেই সময়ে বারান্দার গাছগুলো হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। গাছের পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। বাড়তে থাকে বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহের আগ্রহ।

একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে নিজের সংগ্রহের গাছগুলো নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল নরসিংদীতে চলে যান তানজিলা। সেখানে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে শখের বাগানকে ব্যবসায় রূপ দেন। শুরু করেন গাছের চারা বিক্রি এবং বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় ইনডোর প্ল্যান্টের স্টল দেওয়া।

তবে ব্যবসার পথ সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় থাকার সময় বাগান নিয়ে প্রতিবেশীদের আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সব গাছ নিয়ে শিবচরে ফিরে আসেন। নতুন করে শুরু করতে হয় সবকিছু।

পরিবারের সহযোগিতায় শিবচরে নিজেদের আট শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের সংগ্রহ, ক্রেতার আগ্রহ এবং ব্যবসার পরিধি।

বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ

বর্তমানে তানজিলার বাগানে রয়েছে ফিলোডেনড্রন, মনস্টেরা, অ্যাগলোনিমা, সিঙ্গোনিয়াম, থাই লিলি, অর্কিড, ফিটোনিয়া, পারলার পাম, বেগোনিয়া ও পথোসসহ বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট। তাঁর দাবি, বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের চারার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে তাঁর এই উদ্যোগে কাজ করছেন দুজন কর্মচারী। বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে তানজিলা আখি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গাছের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ব্যবসা শুরু করার পর নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও সেগুলো অতিক্রম করে এখন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। আগামী মাস থেকে আরও একটি বাগান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তানজিলার উদ্যোগে গর্বিত এলাকাবাসী

তানজিলার এই উদ্যোগে গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী মিলন বলেন, একজন নারী নিজের পরিশ্রমে এত সুন্দর একটি বাগান গড়ে তুলেছেন, যা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, বাগানটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আরেক প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, শিবচরের মতো এলাকায় এমন পরিবেশবান্ধব নার্সারি দেখে তিনি আনন্দিত। নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, কৃষি ও নার্সারিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।

বারান্দার ছোট্ট বাগান থেকে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তোলা তানজিলা আখির এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত শখও পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। নিজের বাগানকে আরও বড় করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি