খুঁজুন
                               
, ,
           

দলের নামে অপকর্মে বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দলের নামে অপকর্মে বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান

একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, এক দিনে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—মাত্র কয়েক দিনের এই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভেতরে নতুন এক সাংগঠনিক বার্তা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দলের নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুর কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে এবার শুধু স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম হিসেবে দেখছে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অভিযোগ যাচাই করে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

  • মিষ্টির পদত্যাগে কঠোর বার্তা
  • এক দিনের ব্যবধানে তিন কমিটি বিলুপ্ত
  • এক দিনে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
  • ৫ আগস্টের পর ব্যবস্থা ১,০২৩ জনের বিরুদ্ধে
  • রাজধানী ছাড়িয়ে জেলাতেও একই অভিযোগ
  • দলীয় শাস্তি আলাদা, বিচার হবে আইনে

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশ এবং তার পদত্যাগের পরদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘটনা এই বার্তাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। একই সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য বলছে, এই প্রক্রিয়া অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বৈশিষ্ট্য আলাদা—অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু দলীয় শৃঙ্খলা নয়, দখল, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের মতো অপরাধের অভিযোগও উঠে আসছে। ফলে দলীয় শুদ্ধি কার্যক্রম এবার কোন পর্যায়ে গিয়ে থামে, নজর সেদিকেই।

কয়েক দিনের সিদ্ধান্তে বদলে যাচ্ছে বার্তা

রাড্ডার ঘটনায় মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হয়েছে, পরবর্তী কয়েক দিনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর তিনটি সংগঠনের কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দেখিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তকে রাড্ডা ঘটনার সরাসরি শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে সাংগঠনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণেও বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে সময়ের কারণে। রাড্ডার ঘটনার পরপরই এসব সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দলের ভেতরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

মিষ্টির ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি শুধু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নন; তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন। ২০২৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগের নির্দেশ এবং তার দ্রুত পদত্যাগ দলীয় জবাবদিহির প্রশ্নে একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা আর ফৌজদারি বিচার এক বিষয় নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে; চার্জশিট হলে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে। অর্থাৎ দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক হলেও অপরাধের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।

এক দিনে ১৪ জন, সব অভিযোগের পরিণতি

তিন কমিটি বিলুপ্তির দিনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের তিন নেতা—শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রদলের পাঁচ নেতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা এবং শ্রমিক দলের চার নেতার বিরুদ্ধেও একই দিনে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে একটি বিষয় লক্ষণীয়—অভিযোগ উঠলেই সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও বহিষ্কার, কোথাও পদ স্থগিত, কোথাও কারণ দর্শানোর নোটিস, আবার কোথাও তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ঘটনাটি তার উদাহরণ। চেম্বার অব কমার্স কার্যালয় দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগ যাচাই ও ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পথ খোলা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে একই ছক 

ঢাকার বাইরের ঘটনাগুলোতেও অভিযোগের ধরনে মিল পাওয়া যাচ্ছে। বরিশালের গৌরনদীতে ব্যবসায়ী এসএম জামিল হাসান মিঠুর কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির তিন নেতা এসএম জাকির হোসেন, ফরহাদ শরীফ ও নাজমুল হাসান মিঠুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাজীপুরে পোশাক কারখানা থেকে চাঁদা দাবি ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকির অভিযোগে ফারুক খান ও আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে মাহবুব হাসান পিয়ারু ও কেএম জিয়াউস সাদাতকে গ্রেপ্তারের পর বহিষ্কার করেছে মহানগর বিএনপি। নোয়াখালীতে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে তিন নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামেও দখল, আধিপত্য বিস্তার, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, কোথাও দল বহিষ্কার করেছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পর্ক অস্বীকার করেছে।

১,০২৩ থেকে নতুন তালিকা—কতদূর যাবে অভিযান?

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর একপর্যায়ে ১ হাজার ২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনের পদ স্থগিত এবং ৩৫ জনকে সতর্ক করা হয়। আরও চারজনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগটি সাম্প্রতিক কয়েক দিনের প্রতিক্রিয়া নয়। কিন্তু এবার যে পরিবর্তনটি লক্ষণীয়, তা হলো—দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগকে রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নতুন করে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে সামনে কতটা বিস্তৃত পদক্ষেপ আসছে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, অভিযোগ যাচাই করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থার কথাও বলেছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের নামে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন। সরকারের অবস্থানও একই ধরনের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দখলদার, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

দলীয় শাস্তি নয়, শেষ কথা আদালতের

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপি ও সরকারের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—দলীয় বহিষ্কারকে ফৌজদারি বিচারের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দলীয় ব্যবস্থা দলের নিজস্ব বিষয়। তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলে চার্জশিটসহ আইনি প্রক্রিয়া এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে।

‘আইন সবার জন্য সমান’

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ফেনীতে বলেছেন, বিএনপিকে দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনাকে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তার বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; এতে দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে প্রশ্রয় না দেওয়ার বার্তা গেছে।

সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও গাফিলতি পাওয়া গেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমকে 

এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অননুমোদিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঘটনায় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে নিজেদের এআই মডেলগুলো কীভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তা খতিয়ে দেখতে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওপেনএআই তাদের এআই মডেলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অননুমোদিত কার্যক্রমের বিষয়ে ১০০টির বেশি সংগঠনকে অবহিত করেছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যখন বাড়তি নজরদারি চলছে, তখনই এ তথ্য সামনে এলো।

৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের প্রকৃত পরিধি বোঝার জন্য প্রায় ৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ধরন, কারণ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এই পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তদন্তের আওতায় এআই মডেলগুলোর বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

‘রগ এজেন্ট’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর ‘রগ এজেন্ট’ কার্যক্রম হিসেবে হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনাটিকে চিহ্নিত করেছে।

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় তাদের মডেল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধও যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।

এসব ঘটনার পর গত কয়েক মাসে অননুমোদিত কার্যক্রম প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট

সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার কারণে ভুল নির্দেশনা, অতিরিক্ত অনুমতি কিংবা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার ত্রুটি থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো এআই এজেন্টকে ইন্টারনেট বা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাগিং ফেসের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে

ওপেনএআই জানিয়েছে, হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। পাশাপাশি এআই মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এসব ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা।

এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, অনুমতি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিরোনাম ২: ৫০ পেটাবাইট তথ্য বিশ্লেষণ করছে ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অননুমোদিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঘটনায় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে নিজেদের এআই মডেলগুলো কীভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তা খতিয়ে দেখতে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওপেনএআই তাদের এআই মডেলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অননুমোদিত কার্যক্রমের বিষয়ে ১০০টির বেশি সংগঠনকে অবহিত করেছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যখন বাড়তি নজরদারি চলছে, তখনই এ তথ্য সামনে এলো।

৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের প্রকৃত পরিধি বোঝার জন্য প্রায় ৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ধরন, কারণ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এই পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তদন্তের আওতায় এআই মডেলগুলোর বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

‘রগ এজেন্ট’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর ‘রগ এজেন্ট’ কার্যক্রম হিসেবে হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনাটিকে চিহ্নিত করেছে।

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় তাদের মডেল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধও যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।

এসব ঘটনার পর গত কয়েক মাসে অননুমোদিত কার্যক্রম প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট

সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার কারণে ভুল নির্দেশনা, অতিরিক্ত অনুমতি কিংবা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার ত্রুটি থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো এআই এজেন্টকে ইন্টারনেট বা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাগিং ফেসের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে

ওপেনএআই জানিয়েছে, হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। পাশাপাশি এআই মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এসব ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা।

এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, অনুমতি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

সেন্টমার্টিনের অদূরে গভীর সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৬৫ যাত্রীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিন লাইটহাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায় মাছ ধরার ট্রলার ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’। বোটে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।

পরে নিয়মিত টহলে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটিকে উদ্ধার করে। নৌবাহিনী জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে বোটে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত তা নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং ৬৫ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার অধিকাংশ ব্যক্তিকে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের বোটে তোলা হয়।

উদ্ধারের পর ৬৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আটক ১১ জন এবং জব্দ করা বোটকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গভীর সাগর থেকে উদ্ধার করা ব্যক্তি ও আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হচ্ছে। তবে শুক্রবার সকালে তারা থানায় পৌঁছাননি।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানবপাচার, চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিশোরদের হোয়াটসঅ্যাপে নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
কিশোরদের হোয়াটসঅ্যাপে নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ

কিশোরদের নিরাপদে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্য নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এসব ফিচারের মাধ্যমে সন্তানের প্রোফাইলের গোপনীয়তা, গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ, স্ট্যাটাস, চ্যানেল এবং মেটা এআই ব্যবহারের কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন অভিভাবকরা।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নতুন সুবিধাগুলো ঐচ্ছিক। অভিভাবক ও কিশোররা একসঙ্গে বসে এসব সেটিংস নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্তানের ব্যক্তিগত মেসেজ পড়া বা ফোনকল শোনার সুযোগ অভিভাবকদের থাকবে না।

প্রোফাইল ও গ্রুপে নিয়ন্ত্রণ

নতুন ব্যবস্থায় অভিভাবকরা নির্ধারণ করতে পারবেন, কিশোরের প্রোফাইল ছবি কারা দেখতে পারবেন। পাশাপাশি কারা তাকে হোয়াটসঅ্যাপের কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

কিছু সেটিংস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে অভিভাবকের অনুমোদন ও পিনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে কিশোরের অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অভিভাবকের নজরদারি আরও বাড়বে।

এ ছাড়া কোনো কিশোর নতুন কোনো গ্রুপে যোগ দিলে কিংবা কোনো গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেলে অভিভাবকের কাছে নোটিফিকেশন যাওয়ার সুবিধা থাকবে। কোনো গ্রুপের সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

তবে এসব নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গ্রুপের মেসেজ পড়ার সুযোগ থাকবে না অভিভাবকদের।

স্ট্যাটাস ও চ্যানেল ব্যবহারে নজরদারি

কিশোর কোন কোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল অনুসরণ করতে পারবে, সেটিও নির্ধারণ করতে পারবেন অভিভাবকরা। প্রয়োজনে কিশোর নিজে কোনো চ্যানেল তৈরি করতে পারবে কি না, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

স্ট্যাটাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও থাকছে নিয়ন্ত্রণ। কিশোর কার স্ট্যাটাস দেখতে পারবে এবং কারা তার স্ট্যাটাস দেখতে পারবে—এসব বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সুযোগ থাকবে অভিভাবকদের।

মেটা এআই ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা

নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় মেটা এআই ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। কিশোরদের জন্য সাধারণ ‘১৩+’ সেটিং রাখা যাবে। পাশাপাশি আরও সীমিত কনটেন্টের ‘লিমিটেড কনটেন্ট’ অপশন বেছে নেওয়ার সুযোগও থাকছে।

এর মাধ্যমে কিশোরদের জন্য এআইভিত্তিক বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ব্যক্তিগত চ্যাট ও কল থাকছে সুরক্ষিত

নতুন প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিভাবকরা এর মাধ্যমে সন্তানের ব্যক্তিগত মেসেজ দেখতে বা ফোনকল শুনতে পারবেন না।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ আগের মতোই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকবে। অর্থাৎ নতুন নিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালুর পরও কিশোরদের ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের গোপনীয়তা বজায় থাকবে।

ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে ফিচার

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে। ফলে সব পরিবার বা সব অঞ্চলে একই সময়ে নতুন ফিচারগুলো পাওয়া নাও যেতে পারে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা ও বয়স উপযোগী ব্যবহারের ওপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত মেসেজ ও কলের গোপনীয়তাও বজায় রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ