সাত বছর ধরে সেতুর অপেক্ষা, খেয়ায় পারাপার লাখো মানুষের
সাভারের আশুলিয়ায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন নলাম সেতুর কাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। ২০২২ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল নির্ধারণ করা হয়। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে কাজ প্রায় বন্ধ থাকায় নদীর দুই তীরের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে খেয়ানৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের কাছে নলাম সেতু ছিল নিরাপদ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যাশার প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন খেয়ানৌকায় বংশী নদী পার হতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতিদের নিয়ে যাতায়াতে। নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
২০১৯ সালের ২১ জুলাই স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর ৮২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের নলাম সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও সেতুটি এখনও অসম্পূর্ণ।
সম্প্রতি সেতুর সামনে মানববন্ধন করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির ঘাটতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীর ওপারে তাঁর কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। বর্ষাকালে নৌকা না পেলে বাধ্য হয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়েও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা সুলতানা জানায়, প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। পানির কারণে অনেক ছোট শিশু স্কুলে যেতেও ভয় পায়।
সাভার উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা মিনারুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং কার্যাদেশ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array