ইসরায়েলগামী বিমানে হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ দাবি নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমান
গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।
এ সময় ককপিটে থাকা প্রধান পাইলটকে সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বেঁধে ফেলেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।
‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলছিলেন হামলাকারী
নেতানিয়াহুর দাবি, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও ক্রুরা তাঁকে কাবু করে বেঁধে ফেলার পর ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজের কর্মীদের উদ্দেশে ‘আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, এটি থেকে তাঁর আত্মঘাতী হওয়ার ইচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসাজশ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর প্রধান পাইলট ও সহকারী পাইলট—দুজনকেই বৃহস্পতিবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।
উড়োজাহাজটি আরব আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় দেশটির কর্মকর্তারা তদন্তের এখতিয়ার নিজেদের বলে জানিয়েছেন।
ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত, তবে সরাসরি দায় নয়
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তাঁরা সরাসরি ইরানকে দায়ী করেননি।
ট্রাম্প বলেছেন, ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জানতে চাইলে নেতানিয়াহুও এর আগে বলেছিলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।
ওমানের নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলট?
ওমানের নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন—এ প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশের পাইলটদের সাধারণত ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। তাঁর ভাষায়, এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ফাঁকফোকর’ ছিল। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সহযোগিতা করছে।
১৭৪ যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে প্রশংসিত পাইলট
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায়ও উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা করায় প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে গিয়ে স্মিথ মছারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ভারতীয় মিশন জানায়, তিনি ভালো আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।
এদিকে ইসরায়েলের পৃথক তদন্তেও প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বিবিসি আরবিকে জানিয়েছেন দেশটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array