খুঁজুন
                               
, ,
           

কেন বাড়ছে ‘বর্ধিত আত্মহত্যার’ ঘটনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
কেন বাড়ছে ‘বর্ধিত আত্মহত্যার’ ঘটনা

সন্তানকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা কিংবা ঋণ ও আর্থিক সংকটে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার মতো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার এসেছে। ক্রিমিনোলজি ও মনোরোগবিদ্যার আলোচনায় এ ধরনের ঘটনাকে ‘বর্ধিত আত্মহত্যা’ বা ‘এক্সটেনডেড সুইসাইড’ বলা হয়।

এ ধরনের ঘটনায় একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে তাঁর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করেন। ফলে একই ঘটনায় আত্মহত্যা ও পারিবারিক হত্যার দুটি দিকই যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে গবেষণা এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে পরিস্থিতির একটি চিত্র পাওয়া গেছে।

গবেষণায় ২৬ ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু

২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি গবেষণায় ২৬টি ‘ফিলিসাইড-এক্সটেনডেড সুইসাইড’ ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব ঘটনায় প্রথমে নিজের সন্তানকে হত্যা এবং পরে নিজে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা ছিল।

গবেষণায় শনাক্ত ২৬টি ঘটনায় মোট ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনই ছিল শিশু। গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনায় সন্তান হত্যার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন।

এসব ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট এবং দারিদ্র্যজনিত চাপকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বর্ধিত আত্মহত্যা’ কী

‘এক্সটেনডেড সুইসাইড’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে নিজের ওপর নির্ভরশীল বা ঘনিষ্ঠ স্বজনকে হত্যা করেন। এর মধ্যে সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের মতো পরিবারের সদস্য থাকতে পারেন।

মনোরোগবিদ্যার দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিন্তাভাবনায় গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি নিজের জীবন ও কাছের মানুষের জীবনকে আলাদা করে না দেখে একই ভাগ্যের অংশ হিসেবে ভাবতে পারেন।

কখনো তীব্র হতাশা, বিষণ্নতা, মানসিক বিপর্যয় বা বাস্তবতা সম্পর্কে বিকৃত ধারণা একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয় এবং কোনো একটি মানসিক অবস্থাকে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখাও যথাযথ নয়।

আর্থিক ও পারিবারিক সংকটের ভূমিকা

গবেষণায় পাওয়া ঘটনাগুলোতে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক কলহের মতো বিষয় সামনে এসেছে। ঋণ, দারিদ্র্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক চাপ কোনো কোনো ব্যক্তির মানসিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর চিন্তা অত্যন্ত নেতিবাচক হয়ে ওঠে। নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে—এমন ভুল বা বিকৃত ধারণাও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এ ধরনের চিন্তাকে ‘পরহিতৈষী’ বা পরিবারের ভালোর জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে এটি একটি গুরুতর মানসিক সংকটের অংশ হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে

পরিবারের কারও আচরণে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত হতাশা, নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম নেতিবাচক কথা বলা কিংবা বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই—এমন বক্তব্যকে অবহেলা করা উচিত নয়।

কেউ যদি একই সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁকে একা না রেখে দ্রুত পরিবার, কাছের মানুষ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা জরুরি

বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যাকে লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক stigma কমানো এবং প্রয়োজনের সময়ে পেশাদার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আর্থিক বা সামাজিক সংকটে থাকা মানুষকে একা না ফেলে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। ঋণ, দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা বা সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মতো বিষয়গুলোও সময়মতো শনাক্ত করে সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার।

সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। আত্মহত্যা বা পারিবারিক হত্যার ঘটনাকে চমকপ্রদ, রোমাঞ্চকর কিংবা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন না করে এর পেছনের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষ কোথায় সহায়তা পাবেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে নেওয়া যায় এবং সংকটের সময়ে পরিবার কী করতে পারে—এসব তথ্য তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি ঘটনার খবর প্রকাশের উদ্দেশ্য শুধু ঘটনা জানানো নয়; একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য মানুষদের কাছে সহায়তার পথও তুলে ধরা।

সূত্র: ফিলিসাইড-এক্সটেনডেড সুইসাইড ইন বাংলাদেশ

কালের আলো/এসএ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি