হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ট্যাংকারটির নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরিও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এতে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করতে পারে।
হরমুজে ট্যাংকারে আগুন
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এর পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে অপরিশোধিত তেল নাকি এলএনজি ছিল, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে এ জলপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই বাহিনীতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন সদস্য রয়েছেন। তাদের বহনকারী নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।
থিওডোর রুজভেল্টের সঙ্গে রয়েছে ইউএসএস চোসিন ক্রুজার। অন্যদিকে মাকিন আইল্যান্ড গ্রুপে রয়েছে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ।
অক্টোবরের শেষে তিন বিমানবাহী রণতরি
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা তিনটিতে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে রয়েছে।
নতুন মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। এ পদক্ষেপের সময় ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক উত্তেজনা—দুই দিকই সামনে রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে টানাপোড়েন
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। একই সঙ্গে তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
এদিকে সাম্প্রতিক একটি বিমান-সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন—তিনটি ঘটনাই অঞ্চলটির সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array