খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ট্যাংকারটির নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরিও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এতে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করতে পারে।

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এর পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে অপরিশোধিত তেল নাকি এলএনজি ছিল, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে এ জলপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই বাহিনীতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন সদস্য রয়েছেন। তাদের বহনকারী নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।

থিওডোর রুজভেল্টের সঙ্গে রয়েছে ইউএসএস চোসিন ক্রুজার। অন্যদিকে মাকিন আইল্যান্ড গ্রুপে রয়েছে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ।

অক্টোবরের শেষে তিন বিমানবাহী রণতরি

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা তিনটিতে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে রয়েছে।

নতুন মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। এ পদক্ষেপের সময় ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক উত্তেজনা—দুই দিকই সামনে রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে টানাপোড়েন

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। একই সঙ্গে তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

এদিকে সাম্প্রতিক একটি বিমান-সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন—তিনটি ঘটনাই অঞ্চলটির সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

 

১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সমালোচনার মধ্যে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের পর কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা শনাক্ত করে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নতুন ও প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের নামও তালিকায় তোলা হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটার খুঁজবে কর্মকর্তারা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে এসআইআর শেষ হয়েছে, সেখানে আগের ও পরের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। কারা বাদ পড়েছেন, সেই তালিকা তৈরি করে যাচাই করা হবে তাঁদের নাম কেন বাদ গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ডিইও), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে শনাক্ত হলে প্রয়োজনে তার বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইআরে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ গেছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি এবং অন্যান্য কারণে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ভোটার রয়েছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে।

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে ভোটারদের নাম যুক্ত বা বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমনভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

তবে এটি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং অযোগ্য বা একই ব্যক্তির একাধিক নামসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করাই এসআইআরের উদ্দেশ্য। জ্ঞানেশ কুমারও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কেন নতুন করে নাম যুক্ত করার উদ্যোগ

এসআইআরের পর বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই নির্বাচন কমিশন এখন বাদ পড়া ভোটারদের শনাক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

কমিশনের নতুন নির্দেশনায় শুধু যেসব ভোটার নিজেরা আবেদন করবেন, তাঁদের ওপর নির্ভর না করে কর্মকর্তাদেরও আগের ও বর্তমান তালিকা মিলিয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, কারও নাম বাদ পড়লেও তিনি আবেদন না করলে বিষয়টি অদেখা থাকবে না—এমন একটি যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

এসআইআরকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকেও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের কতজনকে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কমিশনের যাচাই ও পরবর্তী হালনাগাদ প্রক্রিয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

শাহজালালে সোনা পাচারের অভিযোগে বিমানকর্মীসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
শাহজালালে সোনা পাচারের অভিযোগে বিমানকর্মীসহ আটক ২

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের সোনার বারসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ারপোর্ট ইউনিট। পরে ওই কর্মীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও এক যাত্রীকে আটক করা হয়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এভসেক ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে শার্টের পকেট ও কোমরের বেল্টে বিশেষভাবে টিস্যুতে মোড়ানো অবস্থায় ৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ১ কেজি ৫ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

আটক ওবায়দুর রহমানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সম্পৃক্ত সন্দেহে আরও এক যাত্রীকে আটক করা হয়।

এনবিআর জানিয়েছে, উদ্ধার করা সোনা ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আইএলটি২০ পঞ্চম আসরের খেলোয়াড় নিলামে নতুন ইতিহাস ফারুকির

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
আইএলটি২০ পঞ্চম আসরের খেলোয়াড় নিলামে নতুন ইতিহাস ফারুকির

ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির (আইএলটি২০) পঞ্চম আসরের খেলোয়াড় নিলামে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আফগানিস্তানের পেসার ফজলহক ফারুকি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত নিলামে ৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে তাকে দলে ভিড়িয়েছে এমআই এমিরেটস।

আইএলটি২০ নিলামের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যের চুক্তি। এর মাধ্যমে আগের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন ফারুকি। এর আগে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়ে সর্বোচ্চ মূল্যের খেলোয়াড় ছিলেন অ্যান্দ্রে ফ্লেচার।

লিভিংস্টোন-গুরবাজ-ডু প্লেসিরও বড় চুক্তি

এবারের নিলামে শুধু ফারুকিই নয়, আগের নিলামমূল্যের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন আরও তিন ক্রিকেটার।

ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার লিয়াম লিভিংস্টোনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দলে নিয়েছে গালফ জায়ান্টস। একই ফ্র্যাঞ্চাইজি রাইট-টু-ম্যাচ (আরটিএম) কার্ড ব্যবহার করে ৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজকেও ধরে রেখেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ৩ লাখ ডলারে যোগ দিয়েছেন দুবাই ক্যাপিটালসে।

চার পাকিস্তানি তারকা ডেসার্ট ভাইপার্সে

আইএলটি২০-এর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ডেসার্ট ভাইপার্সও নিলামে বড় চমক দেখিয়েছে। পাকিস্তানের চার তারকা ক্রিকেটার বাবর আজম, নাসিম শাহ, ফখর জামান ও শাদাব খানকে দলে নিয়েছে তারা।

চারজনকেই ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের ভিত্তিমূল্যে দলে ভিড়িয়েছে ভাইপার্স। এর মাধ্যমে আইএলটি২০-এর পঞ্চম আসরে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন বাবর আজম। অন্যদিকে নাসিম শাহ ও ফখর জামান ফিরছেন তাদের পুরোনো দলে।

ইউএই ক্রিকেটারদেরও বড় দর

নিলামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়েও ছিল বেশ আগ্রহ। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটার হয়েছেন অলরাউন্ডার মুহাম্মদ ওয়াসিম।

আরটিএম কার্ড ব্যবহার করে ২ লাখ ১০ হাজার ডলারে তাকে ধরে রেখেছে এমআই এমিরেটস।

এ ছাড়া আলিশান শারাফুকে ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে দলে নিয়েছে আবুধাবি নাইট রাইডার্স। মুহাম্মদ রোহিদ ও আয়ান খান পেয়েছেন ৯৫ হাজার ডলার করে। রোহিদ যোগ দিয়েছেন নাইট রাইডার্সে, আর আয়ান খান নাম লিখিয়েছেন দুবাই ক্যাপিটালসে।

এবারের নিলামে ফারুকির রেকর্ডমূল্যের চুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তারকাদের বড় অঙ্কে দলে ভেড়ানো এবং স্থানীয় ক্রিকেটারদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ—সব মিলিয়ে আইএলটি২০-এর পঞ্চম আসরের দল গঠনে দেখা গেছে বেশ জমজমাট লড়াই।

কালের আলো/এসএ