খুঁজুন
                               
, ,
           

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিল স্পষ্ট—কতটুকু পড়াশোনা, কত বছরের অভিজ্ঞতা, কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ বয়স কত। কিন্তু নিয়োগের সময় সেই শর্তেরই যেন ভিন্ন ব্যাখ্যা হয়েছে। কারও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না, কারও অভিজ্ঞতা ছিল নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর কম, কেউ দেখিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, কেউ আবার খণ্ডকালীন কাজকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কোথাও আবার নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়েও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • অযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়েই নিয়োগ
  • চাকরির সনদ, বয়সসীমা লঙ্ঘনের তথ্য অডিটে
  • সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়োগে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। অডিটের পর্যবেক্ষণ, বিজ্ঞপ্তির সুস্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘনের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, পরে পদোন্নতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমান সহকারী পদে ১৩টি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। অডিটে বলা হয়েছে, মো. শরিফুল আলম ও রাশেল আহমেদের সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপরও তারা নিয়োগ পান। বর্তমানে দুজনই সহকারী রেজিস্ট্রার। এই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ১৪৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়োগের সময় যোগ্যতা যাচাই না হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি কীভাবে উপেক্ষিত রইল।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পাঁচ থেকে আট বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। দিলীপ কুমার ঘোষ বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতার আট বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে নিয়োগ পান। কিন্তু তার জন্মতারিখ নিয়েও নথিতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অডিটের মতে, নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকা।

পাঁচ বছরের জায়গায় অভিজ্ঞতা দেড় বছর

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের চিত্র আরও বিস্তৃত। ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর পদে মো. আসাদুজ্জামান নূর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার সনদ দেখাতে পারেননি। অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল অফিসার পদে সৈয়দ তৌহিদুল হুদা রিমল দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ, যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবু মোহাম্মদ আরিফের অভিজ্ঞতা ছিল ১ বছর ৮ মাস ১৯ দিন; প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পাপিয়া সেনের অভিজ্ঞতা ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন, প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর।

সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন পদে ডা. আদিত্য চৌধুরী অভি ও ডা. তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও ছিল ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন করে; বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়েছিল পাঁচ থেকে ছয় বছর। এই ছয়জনের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০ টাকা।

বয়সসীমারও তোয়াক্কা নেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল নার্স পদে মাহমুদুল হাসানের অভিজ্ঞতা ছিল এক বছর; বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে এবিএম ইউসুফের বয়স বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন ছিল ৩২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন। অডিটে এটিকে বয়সসীমা লঙ্ঘন বলা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়া আরও ১২ জনের বয়সও ছিল ৩২ বছরের বেশি। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা।

খণ্ডকালীন চাকরিও ‘অভিজ্ঞতা’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারভাইজার পদে রাসেল আহমেদ ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খণ্ডকালীন শিক্ষক। মো. সোহেল রানা ছিলেন খণ্ডকালীন কর্মচারী। অডিটের ভাষ্য, এসব চাকরি স্থায়ী চাকরির অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে না। এরপরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অডিট। সনদটি সত্য নয় বলে প্রতীয়মান হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তির দিন তার বয়স ছিল ৩২ বছর ১ মাস ১৬ দিন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মূল্য কোথায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর প্রশ্ন, বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের পর নিয়োগের সময় তা উপেক্ষা করা হলে বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কোথায়? তার মতে, নিয়োগ থেকে পদোন্নতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাগুলো তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের। তবে অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অডিটে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আপত্তিকৃত অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন—নিয়োগে যে শর্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তি, সেটিই যদি নিয়োগের সময় অকার্যকর হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগব্যবস্থায় মেধা ও স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা কোথায়?

কালের আলো/এএএন/এমকে

তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

মাদকাসক্তি, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দ্রুত স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ চালুর আহ্বান জানান। বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে