খুঁজুন
                               
, ,
           

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিল স্পষ্ট—কতটুকু পড়াশোনা, কত বছরের অভিজ্ঞতা, কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ বয়স কত। কিন্তু নিয়োগের সময় সেই শর্তেরই যেন ভিন্ন ব্যাখ্যা হয়েছে। কারও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না, কারও অভিজ্ঞতা ছিল নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর কম, কেউ দেখিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, কেউ আবার খণ্ডকালীন কাজকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কোথাও আবার নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়েও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • অযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়েই নিয়োগ
  • চাকরির সনদ, বয়সসীমা লঙ্ঘনের তথ্য অডিটে
  • সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়োগে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। অডিটের পর্যবেক্ষণ, বিজ্ঞপ্তির সুস্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘনের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, পরে পদোন্নতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমান সহকারী পদে ১৩টি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। অডিটে বলা হয়েছে, মো. শরিফুল আলম ও রাশেল আহমেদের সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপরও তারা নিয়োগ পান। বর্তমানে দুজনই সহকারী রেজিস্ট্রার। এই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ১৪৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়োগের সময় যোগ্যতা যাচাই না হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি কীভাবে উপেক্ষিত রইল।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পাঁচ থেকে আট বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। দিলীপ কুমার ঘোষ বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতার আট বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে নিয়োগ পান। কিন্তু তার জন্মতারিখ নিয়েও নথিতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অডিটের মতে, নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকা।

পাঁচ বছরের জায়গায় অভিজ্ঞতা দেড় বছর

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের চিত্র আরও বিস্তৃত। ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর পদে মো. আসাদুজ্জামান নূর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার সনদ দেখাতে পারেননি। অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল অফিসার পদে সৈয়দ তৌহিদুল হুদা রিমল দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ, যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবু মোহাম্মদ আরিফের অভিজ্ঞতা ছিল ১ বছর ৮ মাস ১৯ দিন; প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পাপিয়া সেনের অভিজ্ঞতা ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন, প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর।

সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন পদে ডা. আদিত্য চৌধুরী অভি ও ডা. তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও ছিল ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন করে; বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়েছিল পাঁচ থেকে ছয় বছর। এই ছয়জনের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০ টাকা।

বয়সসীমারও তোয়াক্কা নেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল নার্স পদে মাহমুদুল হাসানের অভিজ্ঞতা ছিল এক বছর; বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে এবিএম ইউসুফের বয়স বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন ছিল ৩২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন। অডিটে এটিকে বয়সসীমা লঙ্ঘন বলা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়া আরও ১২ জনের বয়সও ছিল ৩২ বছরের বেশি। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা।

খণ্ডকালীন চাকরিও ‘অভিজ্ঞতা’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারভাইজার পদে রাসেল আহমেদ ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খণ্ডকালীন শিক্ষক। মো. সোহেল রানা ছিলেন খণ্ডকালীন কর্মচারী। অডিটের ভাষ্য, এসব চাকরি স্থায়ী চাকরির অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে না। এরপরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অডিট। সনদটি সত্য নয় বলে প্রতীয়মান হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তির দিন তার বয়স ছিল ৩২ বছর ১ মাস ১৬ দিন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মূল্য কোথায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর প্রশ্ন, বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের পর নিয়োগের সময় তা উপেক্ষা করা হলে বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কোথায়? তার মতে, নিয়োগ থেকে পদোন্নতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাগুলো তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের। তবে অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অডিটে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আপত্তিকৃত অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন—নিয়োগে যে শর্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তি, সেটিই যদি নিয়োগের সময় অকার্যকর হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগব্যবস্থায় মেধা ও স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা কোথায়?

কালের আলো/এএএন/এমকে

সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বিরোধী দলের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, দফা বাড়তে বাড়তে আট থেকে ১০, ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; তাহলে এক দফা কেন হবে?

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের সাত মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের কর্মসূচিতে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাত মাসের মাথায় কখনো আট দফা, আবার তা বাড়তে বাড়তে এক দফায় গিয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকারকে ভোট দিয়েছে। সরকারের কাজের দুর্বলতা, ত্রুটি, দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরে সমালোচনা করা উচিত। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা কারণ ছাড়াই সাত মাসের মধ্যে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের মানুষ বিভিন্ন বাধার মুখে ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারকে পাঁচ বছরের মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন থাকলে সংসদে আলোচনা করে ভুলত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল খনন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশের পানি সংরক্ষণ ও পানির স্তর ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সেভাবে কাজ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পঞ্চগড়ে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করেও কোথাও কোথাও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির স্তর ধরে রাখতে খাল খনন ও পানি সংরক্ষণ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। পাঁচ বছর পর সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবে।

সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে ভুলত্রুটি থাকলে তা সংসদে আলোচনা করে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমানবন্দরে হুমকি-হামলার মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দরে হুমকি-হামলার মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামায়াত নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • বিমানবন্দরের ইডিকে হুমকি
  • নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

লাগেজ-ট্রলি নিয়ে উত্তেজনা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকটে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এজাহারে অভিযোগ, সেখানে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দিলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

আট ধারায় মামলা, তারপরই গ্রেপ্তার
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে এসব ধারায়। মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও জাপান একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ হেলথকেয়ার বিজনেস সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে টেকসই ও ভবিষ্যৎমুখী করতে জাপানের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে জাপানি বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকা ও জেট্রোর মাধ্যমে জাপানের সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক হাসপাতাল অবকাঠামো, রোগনির্ণয়, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা বাড়ছে।

জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সেবা ও চিকিৎসা খাতে নার্স ও কেয়ার গিভারের চাহিদা পূরণে প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ওষুধ, বায়োটেকনোলজি, ভ্যাকসিন ও এপিআই উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

সেমিনারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে দুটি প্রেজেন্টেশন দেন।

এ সময় জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক তেতসুয়া ইয়ামাদা, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ-৪-এর উপপরিচালক হিরোকি সাসাকি এবং জেট্রোর সিনিয়র ডিরেক্টর ফর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি (সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া) ইউজি আন্দো বাংলাদেশ-জাপান স্বাস্থ্য সহযোগিতা, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি