খুঁজুন
                               
, ,
           

আখতারুজ্জামানকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
আখতারুজ্জামানকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ঘটনাকে ‘মব ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আকস্মিকভাবে বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালককে ডেকে রূঢ় আচরণ এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা অনভিপ্রেত এবং ইচ্ছাকৃত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি ছিল। বিশেষ করে হজ বা ওমরাহ শেষে ফেরার সময় জমজমের পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগতে পারে। লাগেজ দ্রুত পাওয়া গেলেও জমজমের পানি অনেক সময় পরে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হয়। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং কর্মকর্তাদের কাজ না করার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরে ট্রলি ও কাস্টমসের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, কয়েকটি ফ্লাইট একই সময়ে অবতরণ করলে সব যাত্রীর জন্য ট্রলি আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া যাত্রীদের নির্ধারিত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পথ ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষে ঢাকায় ফেরার পর জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিমানবন্দরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত নেতা ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদকে ডেকে রূঢ় আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি

ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সামনে রেখে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। স্থলভাগে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। অভিযানের পরিধি অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, সৌদি অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে। এ ছাড়া কয়েকটি আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশ সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এসব মিত্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হুথিরা উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

পরিকল্পনায় দুটি সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর একটি হলো বাব আল-মান্দেবের আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান। অন্যটি হলো আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ বিভিন্ন প্রদেশে একযোগে অভিযান চালানো।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথ। হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের কারণে এ নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বাব আল-মান্দেব হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনায় যেতে অনাগ্রহী রিয়াদ।

তবে অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সহায়তা

এক পশ্চিমা কূটনীতিকের দাবি, সৌদি বিমান অভিযানে সামরিক পরামর্শক ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে। তবে রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি সামরিক সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। পাকিস্তান ইয়েমেনের এডেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা পাঠিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তুরস্কের ড্রোনও ইয়েমেনে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখাও রিয়াদের অন্যতম উদ্বেগ।

পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত সুরক্ষা এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পাকিস্তান ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। তবে ইয়েমেনে যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

ফ্রান্সও লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিভক্ত ইয়েমেনি বাহিনী

ইয়েমেনে স্থল অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পাওয়া বিভিন্ন ইয়েমেনি যোদ্ধাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করতে হবে রিয়াদকে।

ইয়েমেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশার মতে, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের জন্য হুথিবিরোধী অনেক বাহিনী এখনো যথেষ্ট সংগঠিত বা প্রস্তুত নয়।

গত শীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় যোদ্ধারা পূর্বাঞ্চলে ভূখণ্ড দখল ও বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ নিলে সৌদি-সমর্থিত যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরে তারা পরাজিত হয়।

সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি শিহাবি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের সাফল্য অনেকটাই স্থানীয় স্থলবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

উদ্যোক্তাদের সুদের চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ:গভর্নর

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
উদ্যোক্তাদের সুদের চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ:গভর্নর

ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ সুদে ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজশাহী নগরের ভেড়িপাড়ার মোড়ের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার।

গভর্নর বলেন, দেশের তরুণদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি স্কিমের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাই করে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্কিমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের আরও বেশি সুবিধা দিতে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো কৃষি-মূল্যশৃঙ্খলকে কার্যকর করতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কাঁচা পাট নয়, মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানিতে জোর: পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
কাঁচা পাট নয়, মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানিতে জোর: পাটমন্ত্রী

কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে পাটকে প্রক্রিয়াজাত করে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজনের পণ্য তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেজিং, ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটের ১৪৫ মণিপুরিপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) কনফারেন্স সেন্টারে প্রতিষ্ঠানটির প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পাটমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্যান্য খাতের বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাটজাত বহুমুখী পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য স্থায়ী শোরুম চালু করা হয়েছে। সেখানে পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, পাটের তৈরি অনেক পণ্য যন্ত্রনির্ভর হলেও বেশ কিছু পণ্য হাতে তৈরি হয়। এসব হাতে তৈরি পণ্যকে ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ খাতকে আরও বিকশিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাটজাত পণ্য ও পাটের তৈরি পলিথিনের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেডিপিসি ও এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হবে পাটের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাঁচা পাট বিক্রি করলে এতে মূল্য সংযোজন খুব কম হয়। পাটের স্লাইভার তৈরির মাধ্যমে কিছুটা মূল্য বাড়ানো সম্ভব। তবে প্যাকেজিং পণ্য তৈরিতে আরও বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, গত বছর বাজারের সর্বোচ্চ সময়ে এক টন কাঁচা পাটের দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা বা ১ হাজার ২০০ ডলারের মতো ছিল। একই পাট প্যাকেজিং পণ্যে রূপান্তর করা হলে প্রতি টনে এর মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে।

পাটের সঙ্গে তুলা বা অন্য তন্তু মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবার তৈরি করা হলে মূল্য আরও বাড়ানো সম্ভব বলে জানান মন্ত্রী। এ ধরনের পণ্যের মূল্য প্রতি টনে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার, এমনকি ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

পাটমন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপাদিত পাটের সর্বোচ্চ পরিমাণকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি জানান, দেশে কী পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয় এবং এর কতটা কোন কোন মূল্য সংযোজনের খাতে ব্যবহার করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও এর কার্যকর ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো, নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পাটজাত পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি