কাঁচা পাট নয়, মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানিতে জোর: পাটমন্ত্রী
কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে পাটকে প্রক্রিয়াজাত করে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজনের পণ্য তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেজিং, ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটের ১৪৫ মণিপুরিপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) কনফারেন্স সেন্টারে প্রতিষ্ঠানটির প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটসহ অন্যান্য খাতের বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাটজাত বহুমুখী পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য স্থায়ী শোরুম চালু করা হয়েছে। সেখানে পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, পাটের তৈরি অনেক পণ্য যন্ত্রনির্ভর হলেও বেশ কিছু পণ্য হাতে তৈরি হয়। এসব হাতে তৈরি পণ্যকে ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ খাতকে আরও বিকশিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাটজাত পণ্য ও পাটের তৈরি পলিথিনের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেডিপিসি ও এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হবে পাটের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাঁচা পাট বিক্রি করলে এতে মূল্য সংযোজন খুব কম হয়। পাটের স্লাইভার তৈরির মাধ্যমে কিছুটা মূল্য বাড়ানো সম্ভব। তবে প্যাকেজিং পণ্য তৈরিতে আরও বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, গত বছর বাজারের সর্বোচ্চ সময়ে এক টন কাঁচা পাটের দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা বা ১ হাজার ২০০ ডলারের মতো ছিল। একই পাট প্যাকেজিং পণ্যে রূপান্তর করা হলে প্রতি টনে এর মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে।
পাটের সঙ্গে তুলা বা অন্য তন্তু মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবার তৈরি করা হলে মূল্য আরও বাড়ানো সম্ভব বলে জানান মন্ত্রী। এ ধরনের পণ্যের মূল্য প্রতি টনে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার, এমনকি ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
পাটমন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপাদিত পাটের সর্বোচ্চ পরিমাণকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দেশে কী পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয় এবং এর কতটা কোন কোন মূল্য সংযোজনের খাতে ব্যবহার করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও এর কার্যকর ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো, নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পাটজাত পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array