খুঁজুন
                               
, ,
           

১৫ টাকার ডিমে পুষ্টির হিসাব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
১৫ টাকার ডিমে পুষ্টির হিসাব

ডিমের বাজারে আবারও বড় ধাক্কা। রাজধানীর খুচরা বাজারে এক ডজন বাদামি ডিমের দাম উঠেছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। একসঙ্গে এক ডজন কেনার সামর্থ্য নেই—এমন নিম্ন আয়ের পরিবারকে এখন একটি ডিম কিনতেও গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৫ টাকা। অর্থাৎ যে ডিম ছিল কম খরচে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম সহজলভ্য উৎস, সেটিই ক্রমে অনেক পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি রয়েছে। ডিম উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড এগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার আহমেদ জানান, গত দুই মাসে মুরগির খাবারের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১২ টাকা বেড়েছে। প্রতি আটটি ডিম উৎপাদনে প্রায় এক কেজি খাবার লাগে। ফলে শুধু ফিডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই হালি ডিম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রায় ১২ টাকা। তাঁর মতে, ফিডের কিছু কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়ায় সেখানকার বাণিজ্যিক পরিবর্তনের প্রভাবও স্থানীয় উৎপাদন ব্যয়ে পড়ছে।

  • ডজন ১৬০ টাকা, এক সপ্তাহেই বেড়েছে ১০
  • ডজন ১৬০ টাকা, এক সপ্তাহেই বেড়েছে ১০
  • ফিডের দাম বেড়েছে, সঙ্গে পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয়ও

খামারে বাড়ছে খরচ, বাজারে বড় চাপ

ডিমের দামের পেছনে শুধু মুরগির খাবার নয়, বেড়েছে ওষুধ, পরিবহন ও জ্বালানির ব্যয়ও। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকলে খামারে জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেই বাড়তি ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত ভোক্তার বাজারে এসে যোগ হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌসুমি উৎপাদন ঘাটতির সম্ভাবনা। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে বছরের এই সময়ে মুরগির ডিম দেওয়ার হার কিছুটা কমে যায়। ফলে একই সময়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়া এবং সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

২ হাজার ৪৪১ কোটি উৎপাদনেও পাতে কমছে

ডিমের উৎপাদন নিয়ে দেশের সামগ্রিক চিত্র অবশ্য সংকটের নয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২ হাজার ৪৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। বছরে জনপ্রতি প্রাপ্যতা ১৩৭টির কিছু বেশি। কিন্তু উৎপাদনের এই পরিসংখ্যান মানুষের পাতে ডিমের উপস্থিতি বাড়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে দেখা যায়, জনপ্রতি দৈনিক ডিম গ্রহণের পরিমাণ ১২ দশমিক ৭ গ্রাম। ২০১৬ সালে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ গ্রাম।

অর্থাৎ উৎপাদন বাড়লেও মানুষের ভোগ কমেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মূল্যবৃদ্ধি। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্য ও ফিডের দাম বাড়ার যে প্রভাব ডিমের বাজারে পড়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

৮৫ টাকা থেকে ১৬০—বদলে গেছে বাজারের হিসাব

একসময় বছরের বড় সময়জুড়ে ডজন ডিমের দাম ৮৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে থাকত। এখন তা ১২৫ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি একপর্যায়ে ডজনপ্রতি দাম ২০০ টাকাতেও উঠেছিল। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের হিসাবে, বর্তমানে ডিমের হালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেশীদের চেয়ে দাম বেশি কেন

পাকিস্তানে ডজন ডিমের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৫ টাকা। শ্রীলঙ্কায় ১৩৮ টাকা এবং ভারতের কলকাতায় প্রায় ১১৫ টাকা। অর্থাৎ একই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডিমের খুচরা দাম এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা, মুরগির খাবার ও ডিমের দাম ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় শিল্পকে উচ্চমাত্রায় সুরক্ষা দেওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে নজর সরবরাহব্যবস্থায়

ডিমের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে উৎপাদন খরচ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার হিসাব খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উৎপাদক, পাইকার ও খুচরা পর্যায়ে কতটা মূল্য সংযোজন এবং মুনাফা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। সেই চাপের বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় ভোক্তার কথাতেও। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসিন্দা শাহানা আক্তারের ভাষায়, তরল দুধ, সয়াবিন তেল, আটা ও চিনির পর ডিমের দামও বাড়ছে; এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের খাবারের জোগানই কঠিন হয়ে পড়বে।

ডিমের বাজারের বর্তমান সংকট তাই কেবল একটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির গল্প নয়। উৎপাদন খরচের চাপ, আমদানি নীতি, সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা—সব মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে এই বাজারচিত্র। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ডিম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে হলে কোন পর্যায়ে খরচ ও মূল্য বাড়ছে, সেই হিসাবই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: জামালপুরে ৭ জনের দাফন

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: জামালপুরে ৭ জনের দাফন

ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত জামালপুরের সাতজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। তাদের মৃত্যুতে জামালপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পৃথক স্থানে নিহতদের জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সকাল ৯টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াকান্দা গ্রামে মর্জিনা আক্তার ও তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। সকাল ১০টার দিকে ভাটিপাড়া গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই সময়ে বাকি তিনজনের মরদেহও দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন—দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। এছাড়া অটোরিকশাচালক বীর গোবিন্দপুর গ্রামের সুজন আলী (৪৪), বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯) নিহত হন।

এর আগে শুক্রবার ময়মনসিংহে রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।

একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। দাফনের সময় কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।

নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার এবং সহযোগিতার ব্যবস্থা করার কথা জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নদী-খাল দখলমুক্ত করতে রাজনৈতিক পরিচয় দেখবে না সরকার

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
নদী-খাল দখলমুক্ত করতে রাজনৈতিক পরিচয় দেখবে না সরকার

দেশের নদী, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত এবং পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, একবার খনন ও পুনরুদ্ধার করা নদী, খাল কিংবা জলাশয় যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদী এলাকা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নোঙর বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নোঙর রিভার ক্যাম্প’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি নদী রয়েছে। এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

ফারাক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে তা নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে একটি কারিগরি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মহানন্দা নদীর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে নোঙর রিভার ক্যাম্পের পতাকা আয়োজকদের হাতে তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আয়োজকরা জানান, নোঙর বাংলাদেশের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে রিভার ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিভিন্ন জেলা ঘুরে কর্মসূচিটি টেকনাফে গিয়ে শেষ হবে।

অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, তেঁতুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আকাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুসহ নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীতে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এ জন্য যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার লক্ষ্য সামনে রেখে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ কমে যায়। তাই নগরবাসীকে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডিএনসিসি এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যেন কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে না হয়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিদিন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাত দখল করে রাখায় নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের দখলে থাকা ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দখলমুক্ত করা এলাকায় স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত পর্যবেক্ষণ করছে এবং মাইকিং করছে, যাতে পুনরায় কেউ সেখানে বসতে না পারে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে আছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। দখলমুক্ত করার পরও কেউ আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিজেই বিএনপির একজন কর্মী এবং দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে কিংবা বাইরে যারাই দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ নিজ এলাকায় থেকে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

ফুটপাত দখলমুক্ত কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, উচ্ছেদের আগে যেমন ফুটপাত দখলের চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তেমনি উচ্ছেদের পর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে নগরবাসীর সচেতনতা বাড়বে এবং ফুটপাত দখল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি