খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বামী খুন, ওয়ার্ড জয়; দুই দশক পর সংসদ, পাঁচ মাসেই বিদায় মিষ্টির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
স্বামী খুন, ওয়ার্ড জয়; দুই দশক পর সংসদ, পাঁচ মাসেই বিদায় মিষ্টির

স্বামী খুন হলেন, তাঁর শূন্য হয়ে যাওয়া ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ালেন স্ত্রী। জয়ী হয়ে কমিশনার হলেন ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টি। সেখান থেকে স্থানীয় রাজনীতি, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব, মামলা-মোকদ্দমা পেরিয়ে দুই দশকের পথচলায় পৌঁছালেন জাতীয় সংসদে। কিন্তু সংসদে শপথ নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় সেই যাত্রায় ছেদ পড়ল। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসার পর পদত্যাগ করলেন তিনি।

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থানের গল্পে দুটি নাম বারবার ফিরে আসে—স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন এবং বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু। নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও একই ওয়ার্ডের কমিশনার। পিন্টু ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, পরে সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়া যেমন মিষ্টির পথচলায় ছিল, তেমনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ও তৈরি করেছেন তিনি স্থানীয় নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে।

  • নিউটনের অসমাপ্ত পথ থেকে মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান
  • ভাই পিন্টুর কেন্দ্রীয় রাজনীতিও ছিল পাশে
  • রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় বিতর্কের পর পদত্যাগ

স্বামীর মৃত্যুই খুলে দেয় নতুন দরজা

মিষ্টির রাজনৈতিক হাতেখড়ি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে। ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। তখন তাঁর বড় ভাই পিন্টুও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। এরপর আসে ২০০২ সাল। মিষ্টির স্বামী নিউটন তখন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতিও ছিলেন তিনি।

কিন্তু কমিশনার হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিন পরই ধানমন্ডিতে গুলিতে নিহত হন নিউটন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁরই ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন মিষ্টি। সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। রাজনীতিতে তাঁর প্রথম বড় নির্বাচনী জয় আসে স্বামীর মৃত্যুর পর, স্বামীরই ওয়ার্ডে।

নিউটনের গল্প যেখানে থেমেছিল

নিউটনের রাজনীতির শুরু ছাত্রদল দিয়ে। তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় সংগঠনটিতে যুক্ত হয়ে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে মহানগর পেরিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হন। কমিশনার হওয়ার পরও বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ধানমন্ডিতে গিয়ে অর্কিড প্লাজার একটি সেলুন থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। নিউটনের মা রাবেয়া বেগম সেদিনই হত্যা মামলা করেন।

২০০৬ সালে বিচারিক আদালত মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টের রায়ে কয়েকজন খালাস পান এবং কয়েকজনের সাজা পরিবর্তিত হয়। নিউটনের বিরুদ্ধে ৩৬টি ফৌজদারি মামলার তথ্যও সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, রাজনৈতিক কারণে এসব মামলা করা হয়েছিল। স্বামীর হত্যার পর তাঁর ওয়ার্ডে জয়ী হওয়া মিষ্টির জন্য তাই শুধু একটি নির্বাচনী বিজয় ছিল না; সেটিই তাঁকে স্থানীয় রাজনীতির দৃশ্যমান মুখ করে তোলে।

কমিশনারের চেয়ার থেকে মহানগর বিএনপি

কমিশনার হিসেবে মিষ্টি নিজের কাজের যে বিবরণ দিয়েছিলেন, তাতে ছিল গ্যাসলাইনের সমস্যা সমাধান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে শিশুদের খেলার মাঠ তৈরি এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমার দাবি। গৃহকর্মীদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও নেতৃত্ব দেন।

এরপর স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে দলীয় সংগঠনে তাঁর অবস্থান তৈরি হয়। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ওই বছর ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নও চেয়েছিলেন।

তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, মামলাগুলো ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। পরে বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

ভাই পিন্টু: ছাত্রদল থেকে সংসদ

মিষ্টির নিজের রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি পরিবারের আরেকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয় ছিল বড় ভাই পিন্টু। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি—দুই পদেই ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন পিন্টু। ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। পরে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনও ছিল মামলা ও কারাবাসে জর্জরিত। ২০০১ সালে একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির নিলামের দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে বিএনপি সরকার মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে ২০০৫ সালে তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা পিলখানা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে পিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাবন্দী অবস্থায় ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাইলেও দণ্ডিত হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

একই বছরের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা জানান। পরিবার ও বিএনপি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললেও কারা কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তা অস্বীকার করেন।

দুই দশকের পর সংসদে

স্বামী ও ভাই—দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর পরও মিষ্টি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। স্থানীয় নির্বাচন, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি তাঁকে ত্রয়োদশ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়। সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত হয়ে ৩ মে শপথ নেন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদ। কিন্তু সংসদে প্রবেশের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দ্রুত বাঁক আসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায়।

রাড্ডার ঘটনায় সামনে পুরোনো স্বাক্ষর

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

এরপর সামনে আসে ২০০৬ সালের একটি আবেদন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে সভাপতি হিসেবে মিষ্টির স্বাক্ষর ছিল। তখন তিনি শাহ আলী থানা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার।

হামলার সঙ্গে অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠতার তথ্যও সামনে আসে। তবে মিষ্টি সমিতির সঙ্গে বর্তমানে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি নাকচ করেছেন। রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার এ ঘটনায় মামলা করেছেন। এতে হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পাঁচ মাসেই শেষ অধ্যায়

ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও দ্রুত পদক্ষেপ আসে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত হয়। বিএনপির তিনজন, ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।

এর পরদিন, ১ অক্টোবর, মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেদিনই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

স্বামীর হত্যার পর তাঁরই ওয়ার্ডের ভোটে যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা গড়িয়েছিল স্থানীয় সরকার থেকে মহানগর বিএনপি হয়ে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত। সেই যাত্রায় ছিল নিউটনের অসমাপ্ত রাজনীতি, পিন্টুর উত্থান, নিজের নির্বাচনী সাফল্য ও দলীয় পদ। শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রবেশের মাত্র পাঁচ মাস পর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা ঘিরে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে থামল মিষ্টির সংসদীয় অধ্যায়।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’—কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান,
  • ৭৯ দলের প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে