খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বামী খুন, ওয়ার্ড জয়; দুই দশক পর সংসদ, পাঁচ মাসেই বিদায় মিষ্টির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
স্বামী খুন, ওয়ার্ড জয়; দুই দশক পর সংসদ, পাঁচ মাসেই বিদায় মিষ্টির

স্বামী খুন হলেন, তাঁর শূন্য হয়ে যাওয়া ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ালেন স্ত্রী। জয়ী হয়ে কমিশনার হলেন ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টি। সেখান থেকে স্থানীয় রাজনীতি, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব, মামলা-মোকদ্দমা পেরিয়ে দুই দশকের পথচলায় পৌঁছালেন জাতীয় সংসদে। কিন্তু সংসদে শপথ নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় সেই যাত্রায় ছেদ পড়ল। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসার পর পদত্যাগ করলেন তিনি।

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থানের গল্পে দুটি নাম বারবার ফিরে আসে—স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন এবং বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু। নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও একই ওয়ার্ডের কমিশনার। পিন্টু ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, পরে সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়া যেমন মিষ্টির পথচলায় ছিল, তেমনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ও তৈরি করেছেন তিনি স্থানীয় নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে।

  • নিউটনের অসমাপ্ত পথ থেকে মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান
  • ভাই পিন্টুর কেন্দ্রীয় রাজনীতিও ছিল পাশে
  • রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় বিতর্কের পর পদত্যাগ

স্বামীর মৃত্যুই খুলে দেয় নতুন দরজা

মিষ্টির রাজনৈতিক হাতেখড়ি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে। ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। তখন তাঁর বড় ভাই পিন্টুও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। এরপর আসে ২০০২ সাল। মিষ্টির স্বামী নিউটন তখন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতিও ছিলেন তিনি।

কিন্তু কমিশনার হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিন পরই ধানমন্ডিতে গুলিতে নিহত হন নিউটন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁরই ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন মিষ্টি। সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। রাজনীতিতে তাঁর প্রথম বড় নির্বাচনী জয় আসে স্বামীর মৃত্যুর পর, স্বামীরই ওয়ার্ডে।

নিউটনের গল্প যেখানে থেমেছিল

নিউটনের রাজনীতির শুরু ছাত্রদল দিয়ে। তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় সংগঠনটিতে যুক্ত হয়ে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে মহানগর পেরিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হন। কমিশনার হওয়ার পরও বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ধানমন্ডিতে গিয়ে অর্কিড প্লাজার একটি সেলুন থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। নিউটনের মা রাবেয়া বেগম সেদিনই হত্যা মামলা করেন।

২০০৬ সালে বিচারিক আদালত মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টের রায়ে কয়েকজন খালাস পান এবং কয়েকজনের সাজা পরিবর্তিত হয়। নিউটনের বিরুদ্ধে ৩৬টি ফৌজদারি মামলার তথ্যও সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, রাজনৈতিক কারণে এসব মামলা করা হয়েছিল। স্বামীর হত্যার পর তাঁর ওয়ার্ডে জয়ী হওয়া মিষ্টির জন্য তাই শুধু একটি নির্বাচনী বিজয় ছিল না; সেটিই তাঁকে স্থানীয় রাজনীতির দৃশ্যমান মুখ করে তোলে।

কমিশনারের চেয়ার থেকে মহানগর বিএনপি

কমিশনার হিসেবে মিষ্টি নিজের কাজের যে বিবরণ দিয়েছিলেন, তাতে ছিল গ্যাসলাইনের সমস্যা সমাধান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে শিশুদের খেলার মাঠ তৈরি এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমার দাবি। গৃহকর্মীদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও নেতৃত্ব দেন।

এরপর স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে দলীয় সংগঠনে তাঁর অবস্থান তৈরি হয়। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ওই বছর ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নও চেয়েছিলেন।

তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, মামলাগুলো ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। পরে বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

ভাই পিন্টু: ছাত্রদল থেকে সংসদ

মিষ্টির নিজের রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি পরিবারের আরেকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয় ছিল বড় ভাই পিন্টু। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি—দুই পদেই ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন পিন্টু। ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। পরে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনও ছিল মামলা ও কারাবাসে জর্জরিত। ২০০১ সালে একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির নিলামের দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে বিএনপি সরকার মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে ২০০৫ সালে তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা পিলখানা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে পিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাবন্দী অবস্থায় ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাইলেও দণ্ডিত হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

একই বছরের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা জানান। পরিবার ও বিএনপি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললেও কারা কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তা অস্বীকার করেন।

দুই দশকের পর সংসদে

স্বামী ও ভাই—দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর পরও মিষ্টি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। স্থানীয় নির্বাচন, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি তাঁকে ত্রয়োদশ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়। সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত হয়ে ৩ মে শপথ নেন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম সংসদীয় মেয়াদ। কিন্তু সংসদে প্রবেশের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দ্রুত বাঁক আসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায়।

রাড্ডার ঘটনায় সামনে পুরোনো স্বাক্ষর

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

এরপর সামনে আসে ২০০৬ সালের একটি আবেদন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে সভাপতি হিসেবে মিষ্টির স্বাক্ষর ছিল। তখন তিনি শাহ আলী থানা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার।

হামলার সঙ্গে অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠতার তথ্যও সামনে আসে। তবে মিষ্টি সমিতির সঙ্গে বর্তমানে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি নাকচ করেছেন। রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার এ ঘটনায় মামলা করেছেন। এতে হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পাঁচ মাসেই শেষ অধ্যায়

ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও দ্রুত পদক্ষেপ আসে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত হয়। বিএনপির তিনজন, ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।

এর পরদিন, ১ অক্টোবর, মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেদিনই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

স্বামীর হত্যার পর তাঁরই ওয়ার্ডের ভোটে যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা গড়িয়েছিল স্থানীয় সরকার থেকে মহানগর বিএনপি হয়ে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত। সেই যাত্রায় ছিল নিউটনের অসমাপ্ত রাজনীতি, পিন্টুর উত্থান, নিজের নির্বাচনী সাফল্য ও দলীয় পদ। শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রবেশের মাত্র পাঁচ মাস পর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা ঘিরে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে থামল মিষ্টির সংসদীয় অধ্যায়।

কালের আলো/জেএন/এমকে

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের নৈশভোজের ছবি প্রকাশ করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের নৈশভোজের ছবি প্রকাশ করলেন তারেক রহমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবি শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই নৈশভোজের।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হওয়া বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে নৈশভোজটির আয়োজন করেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।

জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীরা নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ১৪৫টি দেশের নেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীরা অংশ নেন।

এর আগে একই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি (সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক) শাখা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটিতে ‘ব্রাঞ্চ ম্যানেজার’ পদে স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নেওয়া হবে। পদ ও প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও কর্মস্থল: এসবিএসি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে ফুলটাইম ও স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদমর্যাদা হবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত। নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে না। সিএ, সিএমএ, এসিসিএ, সিএফএ, এমপিএ, এমপিএফ, এমপিবি অথবা এমবিএম কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অভিজ্ঞতা: প্রার্থীর যেকোনো স্বনামধন্য ব্যাংকে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যারা এমটিও বা প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়সসীমা: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৫৫ বছর হতে হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: শাখা পরিচালনা, ব্যাংকিং অপারেশনস, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা ও আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। চাকরিতে বিরতি রয়েছে—এমন প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান দায়িত্ব: নির্বাচিত ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে শাখার পোর্টফোলিও পরিচালনা এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করতে হবে। উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সেলস টিম পরিচালনা এবং নতুন ব্যবসা ও গ্রাহক সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (এএমএল) নির্দেশিকাসহ ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান, কমপ্লায়েন্স ও অভ্যন্তরীণ তদারকি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শাখার কর্মীদের পরিচালনা এবং তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার মাধ্যমে দক্ষ টিম গঠন করাও দায়িত্বের অংশ।

আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। চাকরির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার ফিরতে হচ্ছে একেবারে খালি হাতে। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানে হেরে ব্রোঞ্জও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে তিনবার অংশ নিয়ে প্রতিবারই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতেছিল দলটি। পরের আসরগুলোতেও পদক নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইটাও জিততে পারেনি লিটন দাসের দল। এই ব্যর্থতার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আমরা খুবই লজ্জিত’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন বলেন, দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক। আমরা লজ্জিত এবং পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে অবশ্য ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ওই সময় তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫১ রান।কিন্তু শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলিং এলোমেলো হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।

ব্যাটিংয়েও চরম ব্যর্থতা

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনই ফেরেন শূন্য রানে।শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদ। তবে তাঁর এই ইনিংসও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

হারের কারণ জানালেন কোচ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন উইকেট ও বোলিংয়ের পাশাপাশি পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানোর বিষয়টি সামনে আনেন।তিনি বলেন, ম্যাচের উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি ওভার খুব খারাপ করেছে। বিশেষ করে দলের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ মূল বোলাররাই বেশি রান দিয়েছেন। ব্যাটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাওয়ার প্লেতে একাধিক উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্রিকেটারদের পাশে লিটন

দলের এমন ব্যর্থতার পরও সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা সবসময় দেশের হয়ে লড়াই করেন। এবার তারা ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি নিয়ে দল অবশ্যই লজ্জিত। লিটনের ভাষায়, পুরো দল হিসেবেই তারা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, এখন সেটিই দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের এবারের অভিযান তাই শেষ হলো কোনো পদক ছাড়াই। সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও হেরে দেশে ফিরছে খালিহাতে।

কালের আলো/এসএ