খুঁজুন
                               
, ,
           

ভয়াবহ বন্যায় ডুবছে ব্যাংকক, ৫০ জেলায় দুর্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ বন্যায় ডুবছে ব্যাংকক, ৫০ জেলায় দুর্যোগ

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কোথাও রাস্তাঘাটের অস্তিত্ব নেই, আবার কোথাও আবাসিক ভবনের নিচতলা ও পার্ক করে রাখা গাড়ি ডুবে গেছে পানিতে। বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংককের ৫০টি জেলাতেই দুর্যোগ ঘোষণা করেছে থাই সরকার। বন্যার কারণে কয়েক হাজার মানুষ শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। মৃতদের অনেকে পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।

দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি

ব্যাংককের কয়েকটি এলাকায় মাত্র দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টি লন্ডনে প্রায় ছয় মাসে যে বৃষ্টি হয়, তার কাছাকাছি।

স্থানীয় ৭৩ বছর বয়সী বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুল বলেন, গত সপ্তাহের বৃষ্টি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টির মতো ছিল না। দিন-রাত একটানা বৃষ্টি হয়েছে এবং পানি ক্রমেই বাড়তে থেকেছে।

উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের খলং চান এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্স বন্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। বাদামি পানিতে ভবনগুলো ঘেরা। কোথাও পার্ক করা গাড়ির শুধু ছাদ দেখা যাচ্ছে। পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

সুলিমাস জানান, রোদ ওঠায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও পানিতে ভাসতে থাকা আবর্জনা ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিমানবন্দরেও বন্যার প্রভাব

বন্যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংককের প্রধান বিমানবন্দরেও। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কর্মস্থলে যেতে পারেননি। এতে বিপুলসংখ্যক লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।

বন্যার কারণে শহরের অনেক স্কুলও বন্ধ রয়েছে। যানজট ও জলাবদ্ধতার কারণে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারাও অনেক ক্ষেত্রে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

কোথাও ফোলানো প্লাস্টিকের পুল ব্যবহার করে মানুষ বাড়িতে যাতায়াত করছেন। আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

পানি নিষ্কাশন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

চাও ফ্রায়া নদীর বিস্তীর্ণ বন্যাপ্রবণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যাংকক। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণের ফলে অনেক খাল ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যাংককের বন্যা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেন, শহরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু এলাকায় এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু এবার কয়েকটি এলাকায় এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এক দফা বৃষ্টির পর আরেক দফা বৃষ্টির মধ্যে পানি সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময়ও পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, উত্তরের দিক থেকে নেমে আসা পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী সপ্তাহেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে বেশি পানি বাষ্পে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারছে। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী নিকোলাওস স্ক্লিরিস বলেন, মধ্য থাইল্যান্ডে অতিবৃষ্টির প্রবণতা ইতোমধ্যে কিছুটা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন জলবায়ু মডেলেও ভবিষ্যতে আরও বেশি ও তীব্র বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এই নির্দিষ্ট বৃষ্টিপাতের জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা এখনই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কপের্নিকাস ক্লাইমেট পালসের তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক উষ্ণ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি নিম্নচাপ কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম হয়ে ব্যাংককের ওপর আটকে যাওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবও রয়েছে। সাধারণত এল নিনোর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এর প্রভাবে কিছু এলাকায় চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনাও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারেও বন্যা ও ভূমিধস

একই আবহাওয়ার প্রভাবে পাশের দেশ মিয়ানমারেও আকস্মিক বন্যা ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কা দেত নে হেইন গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও একটি গ্রামের কাদার নিচে আটজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ব্যাংককে পুরো সক্ষমতায় পানি নিষ্কাশন পাম্প চালানো হচ্ছে। তবে শহরের সব এলাকা থেকে পানি পুরোপুরি সরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কালের আলো/এসএ

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের নৈশভোজের ছবি প্রকাশ করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের নৈশভোজের ছবি প্রকাশ করলেন তারেক রহমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবি শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই নৈশভোজের।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হওয়া বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে নৈশভোজটির আয়োজন করেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।

জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীরা নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ১৪৫টি দেশের নেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীরা অংশ নেন।

এর আগে একই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ

এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি (সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক) শাখা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটিতে ‘ব্রাঞ্চ ম্যানেজার’ পদে স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নেওয়া হবে। পদ ও প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও কর্মস্থল: এসবিএসি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে ফুলটাইম ও স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদমর্যাদা হবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত। নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে না। সিএ, সিএমএ, এসিসিএ, সিএফএ, এমপিএ, এমপিএফ, এমপিবি অথবা এমবিএম কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অভিজ্ঞতা: প্রার্থীর যেকোনো স্বনামধন্য ব্যাংকে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যারা এমটিও বা প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়সসীমা: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৫৫ বছর হতে হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: শাখা পরিচালনা, ব্যাংকিং অপারেশনস, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা ও আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। চাকরিতে বিরতি রয়েছে—এমন প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান দায়িত্ব: নির্বাচিত ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে শাখার পোর্টফোলিও পরিচালনা এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করতে হবে। উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সেলস টিম পরিচালনা এবং নতুন ব্যবসা ও গ্রাহক সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (এএমএল) নির্দেশিকাসহ ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান, কমপ্লায়েন্স ও অভ্যন্তরীণ তদারকি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শাখার কর্মীদের পরিচালনা এবং তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার মাধ্যমে দক্ষ টিম গঠন করাও দায়িত্বের অংশ।

আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। চাকরির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
এশিয়ান গেমসে পদকহীন বাংলাদেশ, ‘লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ সালাহউদ্দীন

সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার ফিরতে হচ্ছে একেবারে খালি হাতে। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানে হেরে ব্রোঞ্জও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে তিনবার অংশ নিয়ে প্রতিবারই পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতেছিল দলটি। পরের আসরগুলোতেও পদক নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইটাও জিততে পারেনি লিটন দাসের দল। এই ব্যর্থতার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আমরা খুবই লজ্জিত’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন বলেন, দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক। আমরা লজ্জিত এবং পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে অবশ্য ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ওই সময় তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫১ রান।কিন্তু শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলিং এলোমেলো হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কা শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।

ব্যাটিংয়েও চরম ব্যর্থতা

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনই ফেরেন শূন্য রানে।শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদ। তবে তাঁর এই ইনিংসও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

হারের কারণ জানালেন কোচ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন উইকেট ও বোলিংয়ের পাশাপাশি পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানোর বিষয়টি সামনে আনেন।তিনি বলেন, ম্যাচের উইকেটে বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি ওভার খুব খারাপ করেছে। বিশেষ করে দলের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ মূল বোলাররাই বেশি রান দিয়েছেন। ব্যাটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাওয়ার প্লেতে একাধিক উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্রিকেটারদের পাশে লিটন

দলের এমন ব্যর্থতার পরও সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা সবসময় দেশের হয়ে লড়াই করেন। এবার তারা ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি নিয়ে দল অবশ্যই লজ্জিত। লিটনের ভাষায়, পুরো দল হিসেবেই তারা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, এখন সেটিই দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের এবারের অভিযান তাই শেষ হলো কোনো পদক ছাড়াই। সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া দলটি শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও হেরে দেশে ফিরছে খালিহাতে।

কালের আলো/এসএ