খুঁজুন
                               
, ,
           

৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

ঢাকার ময়লা সরাতে বরাদ্দ বাড়ছে, কিন্তু ময়লার স্তূপ যেন কমছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থের পরও নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, খোলা জায়গা ও ড্রেনের পাশে নিয়মিত জমছে বর্জ্য। কোথাও নির্ধারিত সময় পেরিয়েও ময়লা পড়ে থাকছে, কোথাও আবার সংগ্রহ করা বর্জ্যই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

  • দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতায় বিপুল বরাদ্দ
  • নগরবাসীর অভিযোগ, অর্থ বাড়লেও পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলায়নি
  • পরিচালন ব্যয়ের ভারে আটকে আধুনিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার

একদিকে বাজেটের অঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে নাগরিকের অভিজ্ঞতায় কাঙ্ক্ষিত পরিচ্ছন্নতা মিলছে না—এই বৈপরীত্যই এখন ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, শুধু ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণে অর্থ ঢাললেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয় না। উৎসে বর্জ্য আলাদা করা, দ্রুত সংগ্রহ, কার্যকর পরিবহন, পর্যাপ্ত স্থানান্তরকেন্দ্র, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তি—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দক্ষ ও সমন্বিত করতে হয়।

বাজেট বাড়ে, দৃশ্যপট বদলায় না

চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ দিয়েছে ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সংস্থাটির মোট বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশই যাচ্ছে এই খাতে। বরাদ্দের দিক থেকে এটি ডিএনসিসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা খাতে রেখেছে ৩২৭ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কাগজে-কলমে বরাদ্দ বেড়েছে চার গুণের বেশি। দুই সিটি মিলিয়ে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকার এই বরাদ্দ নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বড় অঙ্ক হলেও প্রশ্ন থাকছে—এই অর্থের কতটা যাচ্ছে ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে, আর কতটা খরচ হচ্ছে প্রতিদিনের পরিচালন ব্যয়ে।

ময়লা সরানোর পরও কেন ময়লা?

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, ব্যবস্থার কাঠামোতেই। দুই সিটি করপোরেশনের বরাদ্দের বড় অংশ শ্রমিকের মজুরি, নর্দমা ও নিকাশি পরিষ্কার, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হচ্ছে। ফলে আধুনিক গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফার স্টেশন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো তৈরিতে কতটা অর্থ থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। ডিএনসিসি এলাকায় গত এপ্রিলে এক দিনে ৪ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন এবং জুনে ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এত বিপুল বর্জ্যের প্রবাহ সামলাতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দরকার পুরো সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটি বড় সমস্যা বর্জ্য পৃথকীকরণে। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ ও চিকিৎসাবর্জ্য অনেক ক্ষেত্রেই একই ধারায় যাচ্ছে। ফলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণও হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত ফেলার বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে।

উৎসেই শুরু হচ্ছে সমস্যার

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। অনেক এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় সংগঠন বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই বর্জ্য কখন, কোথায় এবং কীভাবে সিটি করপোরেশনের মূল ব্যবস্থায় যাবে, তা সব এলাকায় সমানভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা ড্রেনের মুখে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বলভাবে চলছে। এলাকা থেকে সময়মতো বর্জ্য সরানো না গেলে রাস্তায় স্তূপ তৈরি হবে এবং সেখান থেকে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হবে। জনস্বাস্থ্যের বিবেচনাতেও বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ জরুরি। তাঁর মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পিছিয়ে রয়েছে।

টাকার হিসাবের সঙ্গে চাই কাজের হিসাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়াতে শুধু বাজেট প্রকাশ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি টাকার বিপরীতে কাজের ফলাফলও প্রকাশ করা প্রয়োজন। কত টন বর্জ্য সংগ্রহ হলো, কতটি গাড়ি সচল ছিল, দিনে কতটি ট্রিপ হয়েছে, কত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং কত শতাংশ নিরাপদে নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। ঠিকাদারি কাজেও কাজের পরিমাণ ও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি, গাড়ির চলাচল, শ্রমিকের উপস্থিতি ও অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা গেলে নজরদারি ও জবাবদিহি দুটোই বাড়বে।

পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ, নতুন ডাম্প ট্রাক যুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য সবুজ ও হলুদ রঙের ফাইবার বিন বা ঝুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি টাকা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে।

মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস এবং তা থেকে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বর্জ্যকে বোঝা না দেখে সম্পদে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

 

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে