খুঁজুন
                               
, ,
           

৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

ঢাকার ময়লা সরাতে বরাদ্দ বাড়ছে, কিন্তু ময়লার স্তূপ যেন কমছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থের পরও নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, খোলা জায়গা ও ড্রেনের পাশে নিয়মিত জমছে বর্জ্য। কোথাও নির্ধারিত সময় পেরিয়েও ময়লা পড়ে থাকছে, কোথাও আবার সংগ্রহ করা বর্জ্যই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

  • দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতায় বিপুল বরাদ্দ
  • নগরবাসীর অভিযোগ, অর্থ বাড়লেও পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলায়নি
  • পরিচালন ব্যয়ের ভারে আটকে আধুনিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার

একদিকে বাজেটের অঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে নাগরিকের অভিজ্ঞতায় কাঙ্ক্ষিত পরিচ্ছন্নতা মিলছে না—এই বৈপরীত্যই এখন ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, শুধু ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণে অর্থ ঢাললেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয় না। উৎসে বর্জ্য আলাদা করা, দ্রুত সংগ্রহ, কার্যকর পরিবহন, পর্যাপ্ত স্থানান্তরকেন্দ্র, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তি—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দক্ষ ও সমন্বিত করতে হয়।

বাজেট বাড়ে, দৃশ্যপট বদলায় না

চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ দিয়েছে ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সংস্থাটির মোট বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশই যাচ্ছে এই খাতে। বরাদ্দের দিক থেকে এটি ডিএনসিসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা খাতে রেখেছে ৩২৭ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কাগজে-কলমে বরাদ্দ বেড়েছে চার গুণের বেশি। দুই সিটি মিলিয়ে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকার এই বরাদ্দ নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বড় অঙ্ক হলেও প্রশ্ন থাকছে—এই অর্থের কতটা যাচ্ছে ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে, আর কতটা খরচ হচ্ছে প্রতিদিনের পরিচালন ব্যয়ে।

ময়লা সরানোর পরও কেন ময়লা?

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, ব্যবস্থার কাঠামোতেই। দুই সিটি করপোরেশনের বরাদ্দের বড় অংশ শ্রমিকের মজুরি, নর্দমা ও নিকাশি পরিষ্কার, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হচ্ছে। ফলে আধুনিক গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফার স্টেশন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো তৈরিতে কতটা অর্থ থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। ডিএনসিসি এলাকায় গত এপ্রিলে এক দিনে ৪ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন এবং জুনে ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এত বিপুল বর্জ্যের প্রবাহ সামলাতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দরকার পুরো সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটি বড় সমস্যা বর্জ্য পৃথকীকরণে। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ ও চিকিৎসাবর্জ্য অনেক ক্ষেত্রেই একই ধারায় যাচ্ছে। ফলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণও হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত ফেলার বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে।

উৎসেই শুরু হচ্ছে সমস্যার

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। অনেক এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় সংগঠন বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই বর্জ্য কখন, কোথায় এবং কীভাবে সিটি করপোরেশনের মূল ব্যবস্থায় যাবে, তা সব এলাকায় সমানভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা ড্রেনের মুখে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বলভাবে চলছে। এলাকা থেকে সময়মতো বর্জ্য সরানো না গেলে রাস্তায় স্তূপ তৈরি হবে এবং সেখান থেকে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হবে। জনস্বাস্থ্যের বিবেচনাতেও বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ জরুরি। তাঁর মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পিছিয়ে রয়েছে।

টাকার হিসাবের সঙ্গে চাই কাজের হিসাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়াতে শুধু বাজেট প্রকাশ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি টাকার বিপরীতে কাজের ফলাফলও প্রকাশ করা প্রয়োজন। কত টন বর্জ্য সংগ্রহ হলো, কতটি গাড়ি সচল ছিল, দিনে কতটি ট্রিপ হয়েছে, কত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং কত শতাংশ নিরাপদে নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। ঠিকাদারি কাজেও কাজের পরিমাণ ও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি, গাড়ির চলাচল, শ্রমিকের উপস্থিতি ও অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা গেলে নজরদারি ও জবাবদিহি দুটোই বাড়বে।

পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ, নতুন ডাম্প ট্রাক যুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য সবুজ ও হলুদ রঙের ফাইবার বিন বা ঝুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি টাকা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে।

মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস এবং তা থেকে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বর্জ্যকে বোঝা না দেখে সম্পদে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

 

শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ মাদকসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শাড়ির আড়ালে ট্রলিতে লুকিয়ে এসব মাদক আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাহজালাল বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের TG321 ফ্লাইটে আসা যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

পরে সাক্ষী ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনটি ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ, একটি স্মার্টফোন, তিনটি ভারতীয় শাড়ি ও একটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। তিনি বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ করেন বলে জানা গেছে।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় একটি মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করছে। চক্রটি প্রথমে তাদের কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে মাদক বাংলাদেশে আনা হয়। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে চক্রটি কাজ করছে বলেও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করে মাদকের চালান হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ দাসের।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএনসির উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি