খুঁজুন
                               
, ,
           

রেস্তোরাঁয় বিক্রি কমেছে ৩০%, টিকে থাকাই দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
রেস্তোরাঁয় বিক্রি কমেছে ৩০%, টিকে থাকাই দায়

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে রেস্তোরাঁ খাত। এর প্রভাবে দেশের রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়াতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

  • দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের চাপে সংকটে খাত
  • সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা দাবি

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মশলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয়। কিন্তু এসব ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে খাবারের দাম বাড়াতে গেলে গ্রাহক কমে যায়। ফলে একদিকে খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমছে।

ইমরান হাসান বলেন, ‘রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। যে কারণে এখন ব্যবসায় টিকে থাকা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি ও ব্যয় কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

নয় দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির দাবিগুলো হলো—১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে মালিকরা যেন খাবারের দাম সমন্বয় করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ৩. ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ ও উৎসে কর ২ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে। ৫. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।

৬. রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন, এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। ৭. রেস্তোরাঁ খাতের চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিতে হবে।৮. ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক দলের সঙ্গে ট্যাগিং করে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৯. রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

একাধিক অনুমোদনের জটিলতা দূর করার দাবি

ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি—দুই ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রেও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান ইমরান হাসান। তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বলেন, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হলেও উদ্যোক্তারা এখনো এর সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। শিল্প, চাপ সৃষ্টি, অনৈতিক সুবিধা দাবি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

এলপিজি সংকটে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়

এলপিজির সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে কঠোর বাজার তদারকির দাবি জানানো হয়।

ইমরান হাসান আরও বলেন, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হলেও উদ্যোক্তারা এখনো এর সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং রেস্তোরাঁ খাতের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নগরভিত্তিক রেস্তোরাঁগুলোতে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন গরুর মাংস সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ। বাজারে গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

অক্টোবরজুড়ে বই উপহার দেবে চর্যাপদ একাডেমি

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
অক্টোবরজুড়ে বই উপহার দেবে চর্যাপদ একাডেমি

অক্টোবর মাসকে ‘৬ষ্ঠ বই উপহার মাস’ ঘোষণা করেছে প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। ‘ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই’ স্লোগানকে সামনে রেখে টানা ষষ্ঠবারের মতো মাসব্যাপী এ কর্মসূচি আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে ফিতা কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোহেল রুশদী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম তিনি দেখে আসছেন। তবে বই উপহার কর্মসূচি তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তার ভাষায়, বই উপহার নিয়ে এতটা নিবেদিতভাবে আর কোনো সংগঠন কাজ করে কি না, তা তার জানা নেই।

তিনি ভবিষ্যতেও চর্যাপদ একাডেমির এ আয়োজনের সঙ্গে থাকার এবং সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।

মাসজুড়ে প্রায় এক হাজার বই উপহারের লক্ষ্য

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির বই উপহার মাসের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি জানান, পুরো অক্টোবর মাসজুড়েই চলবে এ কর্মসূচি। এ সময় প্রায় এক হাজার কপি বই উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত সাত বছরে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি বই উপহার দেওয়া হয়েছে। এবারের বই উপহার মাসের প্রতিপাদ্য—‘বই কখনো হয় না পর, বইয়ের সঙ্গে বাঁধব ঘর।’

পথে-ঘাটে, অফিস-আদালতেও পৌঁছাবে বই

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা বলেন, মানুষকে বইমুখী করা এবং মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতেই এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অক্টোবর মাসের প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে বই উপহার দেওয়া হবে। পথে-ঘাট, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে যানবাহনেও মানুষের হাতে বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাধারণ মানুষ ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের হাতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক সংগঠনের নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা সর্দার আবুল বাশার, জাফরানী স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, নাট্যজন ও সাংবাদিক কেএম মাসুদ, নারীনেত্রী ইশিতা বেগম, রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম এবং প্যাপিরাস পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নাট্যজন ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আলমগীর, চাঁদপুর ল’ কলেজের প্রভাষক রোজিনা বেগম চৌধুরী, একাডেমির সহ-সভাপতি শিউলী মজুমদার, উপ-মহাপরিচালক দুখাই মুহাম্মাদ, পর্যবেক্ষক ও ন্যায়পাল দিলীপ ঘোষ, সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, নির্বাহী সদস্য কামরুন্নাহার বিউটি, বিজ্ঞান ও আইসিটি পরিচালক রাসেল ইব্রাহীম, প্যাপিরাস পাঠাগারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাহিত্যানুরাগী নাহিদা আফরোজ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন খোকন দাস।

২০১৯ সাল থেকে বই উপহারের উদ্যোগ

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বই উপহার কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সাল থেকে অক্টোবর মাসকে বই উপহার মাস হিসেবে পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইতোমধ্যে একটি ‘বই উপহার মেলা’রও আয়োজন করেছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস বাড়ানোর লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কালের আলো/এসএ

দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটে চাপে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, মালিকদের ৯ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটে চাপে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, মালিকদের ৯ দফা দাবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থার অভিযানের নামে হয়রানির কারণে দেশের রেস্তোরাঁ খাত চরম সংকটে পড়েছে। এসব কারণে রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। এ সময় রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে ইমরান হাসান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। তবে ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্রাহক কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি ও আয় কমছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ খাত শুধু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কর্মসংস্থান, খাদ্য সরবরাহ ও নগর অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, বাড়িভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকদের মজুরিসহ প্রায় সব ধরনের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা হারানোর ঝুঁকি থাকায় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সমিতির নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালু, খাবারের দাম নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ, ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি বন্ধ এবং সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর প্রত্যাহার।

এ ছাড়া এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, লোডশেডিং কমানো, সরকারি দপ্তরের অভিযানের নামে হয়রানি ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি, ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ খাতের সংকট বিবেচনায় নিয়ে মালিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আইফোন ডুওর বিলাসবহুল সংস্করণের দাম কেন এতো বেশি?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
আইফোন ডুওর বিলাসবহুল সংস্করণের দাম কেন এতো বেশি?

অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে আসার পর এর দাম নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ থেকে ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড, যা প্রায় ২ হাজার ৬৪০ থেকে ৪ হাজার ১২৬ মার্কিন ডলারের সমান। তবে অ্যাপলের এই ফোনের বিশেষ বিলাসবহুল সংস্করণ কিনতে গুনতে হবে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ।

বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার আইফোন ডুওর ‘লিকুইড মেটাল’ নামে একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে। এর সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩৪০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য কয়েক দশমিক লাখ টাকার সমান।

স্টার্লিং সিলভারে তৈরি ফোন

ক্যাভিয়ারের তৈরি ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণটি স্টার্লিং সিলভার দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফোনটির বাইরের অংশে দেওয়া হয়েছে আয়নার মতো চকচকে পলিশ। ক্যাভিয়ারের দাবি, আইফোন ডুও ভাঁজ খোলার সময় এর আকৃতিতে যে পরিবর্তন দেখা যায়, সেটিই এই বিশেষ সংস্করণের নকশার মূল অনুপ্রেরণা।

ক্যাভিয়ারের নকশায় আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য কাঠামোকে একটি ধাতব ভাস্কর্যের মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। ফোনটির শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে প্রবহমান রেখা, যা ভাঁজযোগ্য ডিভাইসটির নকশায় গতিশীলতার অনুভূতি তৈরি করে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, ফোনটি ভাঁজ খোলা কিংবা বন্ধ করার সময় এর বাইরের পৃষ্ঠের নকশাতেও পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি হবে। অর্থাৎ ফোনের ভাঁজযোগ্য কাঠামো শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বিশেষ নকশারও একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দাম

‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণের মাত্র ১৭টি ইউনিট তৈরি করেছে ক্যাভিয়ার। ফোনটির স্টোরেজ বা ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দামও ভিন্ন রাখা হয়েছে।

২৫৬ জিবি সংস্করণের দাম ১৮ হাজার ৮৪০ ডলার। ৫১২ জিবি সংস্করণের দাম ১৯ হাজার ২০০ ডলার এবং ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১৯ হাজার ৯১০ ডলার। সবচেয়ে বেশি ২ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার সংস্করণটির দাম ২১ হাজার ৩৪০ ডলার।

অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের বাজারে অ্যাপলের মূল আইফোন ডুওর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড দামের তুলনায় ক্যাভিয়ারের ২ টেরাবাইট সংস্করণটির দাম ১৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।

হীরা-সোনায় আইফোন ১৮ প্রো

শুধু আইফোন ডুও নয়, অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সেরও বিলাসবহুল সংস্করণ তৈরি করেছে ক্যাভিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এসব বিশেষ সংস্করণের মোট সংখ্যা ৭৬টি।

নকশা ও ব্যবহৃত উপকরণ অনুযায়ী এসব ফোনের দাম ৭ হাজার ১৩০ থেকে ৮৮ হাজার ২৯০ ডলার পর্যন্ত। এর মধ্যে ‘পালমেট ১৮কে’ মডেলটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা ও হীরা দিয়ে।

ফোনটির কাঠামো তৈরি হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতীকী খেজুরগাছের পাতা থেকে অনুপ্রাণিত নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সেই নকশায় হাতে বসানো হয়েছে শতাধিক হীরা। এমনকি ফোনের অ্যাপল লোগোতেও মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

অ্যাপলের বিলাসবহুল ফোনে ক্যাভিয়ারের দীর্ঘদিনের আগ্রহ

অ্যাপলের পণ্যের বিলাসবহুল সংস্করণ তৈরিতে ক্যাভিয়ার অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলের বিভিন্ন আইফোনের বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলেও ক্যাভিয়ার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছিল। ওই সংস্করণে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের পরা বিখ্যাত কালো টার্টলনেক পোশাকের এক টুকরা কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রযুক্তি ও বিলাসবহুল পণ্যের সংমিশ্রণে ক্যাভিয়ারের তৈরি এসব আইফোন সাধারণ সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। মূলত সীমিত সংখ্যক ইউনিট, মূল্যবান ধাতু ও রত্নের ব্যবহার এবং বিশেষ নকশার কারণে এসব ডিভাইস প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি সংগ্রহযোগ্য বিলাসপণ্য হিসেবেও বাজারজাত করা হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

কালের আলো/এসএ