খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গুতে এক দিনে ৬ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণ গেল ২৫৬ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে এক দিনে ৬ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণ গেল ২৫৬ জনের

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬০৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩১ জন।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২১৫ জন, চট্টগ্রামে ৩১৯, খুলনায় ২৭৬, ময়মনসিংহে ৭৯, রাজশাহীতে ১৩২ এবং রংপুরে ৬২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুলেটিন অনুযায়ী, একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৬২১ জন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৪ হাজার ৩৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ৪৮২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। ওই মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

এদিকে গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। সে বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আল্লাহ ভীতি কেমন ছিল রাসূল (সা.)-এর জীবনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
আল্লাহ ভীতি কেমন ছিল রাসূল (সা.)-এর জীবনে

সুদূর অতীতকালের কোনো এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘তুমি যখন অন্যদের ভয় পাও, তাদের থেকে দূরে পালিয়ে যাও। আর যখন আল্লাহকে ভয় পাও, তখন তার দিকেই তুমি ছুটে যাও।’ ইসলামী ভাবধারায় আল্লাহভীতির এই ধারণা মানুষের সঙ্গে তার সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ককে গভীরভাবে তুলে ধরে।

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহভীতির অন্যতম আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। একটি হাদিসে তার বক্তব্য হিসেবে এসেছে, তিনি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি জানেন এবং মানুষের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় করেন। আল-আলবানি হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষ আল্লাহতায়ালা, তার গুণাবলি এবং তার সর্বব্যাপী জ্ঞান সম্পর্কে যত বেশি জানতে পারে, ততই তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয়, ভক্তি ও শ্রদ্ধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ভুলত্রুটি সম্পর্কে উপলব্ধিও মানুষকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আরও বিনয়ী করে তোলে।

আল্লাহভীতি ও বিনয়

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনযাত্রায় আল্লাহর প্রতি ভয় ও সচেতনতার বিষয়টি বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। আল্লাহ সবকিছু দেখছেন—এই বিশ্বাস তার জীবনযাপন ও আচরণে প্রতিফলিত হতো বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার অন্তর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আত্মসমর্পণে পরিপূর্ণ ছিল বলে বর্ণনা রয়েছে।

কোরআন তেলাওয়াতের সময়ও তার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার কথা বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়। শেষ বিচারের দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলত বলে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি সূরা হুদসহ কয়েকটি সূরার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তার চুল পেকে যাওয়ার বিষয়টিও হাদিসের বর্ণনায় এসেছে।

আল্লাহভীতি তার মধ্যে অহঙ্কারের পরিবর্তে বিনয় সৃষ্টি করেছিল। এ কারণেই নিজের প্রশংসা ও মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে অনুসারীদের বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

‘আমি আল্লাহর একজন বান্দা’

সহিহ বুখারিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বাণী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি তার প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন। খ্রিস্টানরা হজরত মরিয়মের সন্তান ঈসা (আ.)-এর বিষয়ে যেভাবে বাড়াবাড়ি করেছে, তার মতো বাড়াবাড়ি না করে তাকে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে উল্লেখ করতে বলেছেন।

সাহাবিদের সঙ্গেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আচরণ করতেন। নিজেকে আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো আহার করা ও বসার কথা বলেছেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পরিবারের কাজেও তিনি সহযোগিতা করতেন। ঘরের কাজে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করার বিষয়টি বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়। এতে তার বিনয়ী ও সহযোগিতাপূর্ণ জীবনযাপনের চিত্র ফুটে ওঠে।

কথা ও কাজে ছিল সামঞ্জস্য

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের কথা ও কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। তিনি সত্য কথা বলতেন এবং তার বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল।

ব্যক্তিগত কারণে কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা তার ছিল না বলেও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘিত হলে তিনি তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতেন।

প্রাকৃতিক ঘটনাতেও আল্লাহর স্মরণ

ঝড়-ঝঞ্ঝা, আকাশে মেঘের ঘনঘটা কিংবা সূর্যগ্রহণের মতো প্রাকৃতিক ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণেও আল্লাহভীতির প্রকাশ ঘটত বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এসব ঘটনা তাকে আল্লাহর শক্তি ও অতীতের অবাধ্য জাতিগুলোর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তখন তিনি আল্লাহর শরণাপন্ন হতেন, নামাজ ও ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন।

আল্লাহভীতি তাকে দুর্বল করেনি

আল্লাহকে ভয় করা মানে দুর্বল বা ভীতু হওয়া নয়—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেই এর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় বলে ইসলামী ঐতিহ্যে তুলে ধরা হয়। সাহাবিদের বর্ণনায় তার সাহস ও দৃঢ়তার কথা রয়েছে। যুদ্ধের ময়দানেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সামনে থাকতেন।

অর্থাৎ তার আল্লাহভীতি ছিল দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার ভয় নয়; বরং সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, জবাবদিহির অনুভূতি এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা।

ইবাদতের পাশাপাশি ছিল স্বাভাবিক জীবন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আল্লাহভীতির অর্থ সংসার ও পার্থিব জীবন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তান ছিল, তিনি সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং কিছু খাবারও তার পছন্দের ছিল।

তবে তার ও তার পরিবারের জীবন সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে কাটেনি। ইসলামী বর্ণনায় রয়েছে, অনেক সময় পরপর দুই দিন গমের রুটি দিয়ে পেট ভরে খেতে পারেননি তিনি ও তার পরিবার। কখনো কখনো দিনের পর দিন তার ঘরে রান্নার জন্য চুলাও জ্বলত না।

তিন ব্যক্তিকে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন

একবার তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইবাদত ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে এসেছিলেন। তার ইবাদতের ধরন সম্পর্কে জানার পর তারা নিজেদের জন্য আরও কঠোর জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের একজন বলেন, তিনি সারা রাত ইবাদত করবেন এবং ঘুমাবেন না। দ্বিতীয়জন বলেন, তিনি বিয়ে করবেন না। তৃতীয়জন সিদ্ধান্ত নেন, তিনি অবিরাম রোজা রাখবেন।

তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের এমন চিন্তা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তিনি জানান, তিনি তাদের তুলনায় বেশি আল্লাহভীরু। এরপর তিনি বলেন, তিনি রোজা রাখেন আবার রোজা ভাঙেন, রাতে ইবাদত করেন আবার ঘুমান এবং বিয়েও করেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, আল্লাহভীতি মানে স্বাভাবিক জীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। বরং ইবাদত, পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও ইসলামী জীবনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জীবনের জন্য অনুসরণীয় ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনযাত্রার বিভিন্ন বর্ণনায় আল্লাহর প্রতি ভয়, ভালোবাসা, বিনয়, সাহস, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য ফুটে ওঠে।

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই আল্লাহভীতি মানুষকে হতাশ বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য নয়; বরং নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতন, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল করে তোলার শিক্ষা দেয়। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনকে মুসলমানদের জন্য সেই ভারসাম্যের অন্যতম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কালের আলো/এসএ

রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আবাসন এবং যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা।

খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের থাকার জন্য রাজশাহী পর্যটন মোটেল, হোটেল এক্স ও গ্র্যান্ড রিভার ভিউ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব হোটেল ও মোটেল থেকে টেনিস কমপ্লেক্সে যাতায়াতের জন্য সার্বক্ষণিক দুটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফারি ভারতের জয় মুখার্জি। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। এটি তাঁর দশম টুর্নামেন্ট। আন্তর্জাতিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাজশাহীতে টেনিসের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, মিডিয়া কমিটির সদস্য শ.ম. সাজু, পরিচালনা কমিটির সদস্য আক্কাস আলী এবং টেনিস কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ সদস্য মনোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

ব্রুনাইয়ে ১৪৮ পুরুষ কর্মী নেবে সরকার

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
ব্রুনাইয়ে ১৪৮ পুরুষ কর্মী নেবে সরকার

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকারিভাবে ব্রুনাইয়ে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ব্রুনাইয়ের প্রতিষ্ঠান Unity Land Sdn Bhd এসব কর্মী নিয়োগ দেবে। এসব পদে আবেদনের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

যেসব পদে নিয়োগ

নিয়োগের আওতায় কাঠমিস্ত্রি পদে ২০ জন, নির্মাণশ্রমিক পদে ৭০ জন, রাজমিস্ত্রি পদে ২০ জন, ইলেকট্রিশিয়ান পদে ৫ জন, ট্রাক ড্রাইভার পদে ২ জন, ভারী যানবাহন চালক পদে ২ জন, অপারেটর পদে ৪ জন, প্লাম্বার পদে ১০ জন এবং ওয়েল্ডার পদে ১৫ জন নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

কাঠমিস্ত্রি, নির্মাণশ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি পদে দৈনিক মজুরি ২০ ব্রুনেই ডলার, যা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৫৯ টাকা। অন্যদিকে ইলেকট্রিশিয়ান, ট্রাক ড্রাইভার, ভারী যানবাহন চালক, অপারেটর, প্লাম্বার ও ওয়েল্ডার পদে দৈনিক মজুরি ২২ ব্রুনেই ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ৭০৫ টাকা।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের থাকার খরচ কোম্পানি বহন করবে। এছাড়া বিমান ভাড়াও নিয়োগকর্তা বহন করবে। প্রার্থীদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেলের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। আবেদন করা যাবে brms.boesl.gov.bd ওয়েবসাইটে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা।

সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য খরচ

নিয়োগকর্তা কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বোয়েসেলের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় জমা দিতে হবে। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব খাতে ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা এবং আধা-দক্ষ বা অদক্ষ কর্মীদের জন্য ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া দূতাবাস নির্ধারিত ভিসা ফি এবং বাংলাদেশে মেডিক্যাল টেস্টের খরচ কর্মীকেই বহন করতে হবে।

চাকরির মেয়াদ ও কর্মঘণ্টা

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের শ্রম চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর। চুক্তি নবায়নের সুযোগ থাকবে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে।

প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

বোয়েসেল জানিয়েছে, নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তা প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নগদ লেনদেন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বোয়েসেল কোনো নগদ অর্থ গ্রহণ করে না। তাই চাকরির জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে নিয়োগসংক্রান্ত সব শর্ত ও নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করার পর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ