খুঁজুন
                               
, ,
           

৪০ বছর পর ব্যক্তিগত পদক, সংবর্ধনা পাচ্ছেন জিন্নাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
৪০ বছর পর ব্যক্তিগত পদক, সংবর্ধনা পাচ্ছেন জিন্নাত

এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়া উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তারকে সংবর্ধনা দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জিন্নাত আক্তারকে সংবর্ধনা দেবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ক্রীড়াঙ্গনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ

এশিয়ান গেমসে উশুর নারী বিভাগের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন জিন্নাত আক্তার। সেমিফাইনালে পৌঁছানোর সুবাদে তিনি নিশ্চিত করেন ব্রোঞ্জ পদক। তার এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদ পদক জিতলেন।

এর আগে ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন বাংলাদেশের মোশাররফ হোসেন। তার পর দীর্ঘ চার দশক ব্যক্তিগত ইভেন্টে এশিয়ান গেমসের পদকের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ।

উশুতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা

জিন্নাতের ব্রোঞ্জজয় শুধু একটি পদক অর্জন নয়, বাংলাদেশের উশুর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে তার এই অর্জনের ফলে দেশের উশু নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে এশিয়ান গেমসের পদক পাওয়ায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য জিন্নাতের সাফল্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিন্নাত আক্তারের এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি জানাতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সাফল্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হবে।

কালের আলো/এসএ

বাম্পার ফলনেও লোকসান, লাউ খাওয়াচ্ছেন গবাদিপশুকে

পঞ্চগড় সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও লোকসান, লাউ খাওয়াচ্ছেন গবাদিপশুকে

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধস নেমেছে দামে। কোথাও এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ, আবার কোথাও প্রতি পিসের দাম মিলছে মাত্র দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে একই লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় এত কম দামে ফসল বিক্রি করতে গিয়ে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক লাউবাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ বাগান কেটে ফেলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। ভালো ফলন পেয়েও ন্যায্য দাম না মেলায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

এক কেজি চাল কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ লাউ
কৃষকদের অভিযোগ, লাউয়ের দাম এতটাই কমে গেছে যে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও বিপুলসংখ্যক লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, এক কেজি মোটা চাল কেনার টাকা জোগাড় করতে প্রায় ২০০টি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। আর কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ। পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পরও উৎপাদন খরচের সামান্য অংশ তুলতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অনেকের আশঙ্কা, এভাবে লোকসান চলতে থাকলে আগামীতে লাউ চাষে আগ্রহ হারাবেন তাঁরা।

৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ, আয় মাত্র তিন হাজার
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে তাঁর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা।

এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ফলে জমিতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, চাষাবাদের খরচ মেটানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই কৃষক। একই নামের আরেক কৃষক জানান, লাউ চাষ করে কতটা লোকসানে পড়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা পাওয়া যায় না। ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুকেও খাওয়াচ্ছেন।

তাঁর অভিযোগ, কৃষকের কাছ থেকে অল্প দামে লাউ কেনা হলেও খুচরা বাজারে সেই লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায়। উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যবর্তী বাজারব্যবস্থায় দামের এই বড় ব্যবধান কৃষকদের দুরবস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

পরিচর্যা বন্ধ, শ্রমিকের মজুরি দিতেও হিমশিম
উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন তিনি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস।

আনসারুল ইসলামের ভাষ্য, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেলে একসময় মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। লাউ চাষে জমি প্রস্তুত করা, বীজ ও সার কেনা, কীটনাশক ব্যবহার এবং শ্রমিকের মজুরি—সব মিলিয়ে কৃষকদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না।

উৎপাদন বেশি হওয়ায় কমেছে দাম
স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন—দুটিই ভালো হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভালো ফলনও তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় লোকসানের চাপ শেষ পর্যন্ত কৃষকদের ওপরই পড়ছে।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি কৃষকদের
কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে দাম পড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়। এ অবস্থায় উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও কৃষকেরা যেন লোকসানে না পড়েন, সে জন্য বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মডেল অভিনেত্রী তুলনা আল হারুন আর নেই

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
মডেল অভিনেত্রী তুলনা আল হারুন আর নেই

মডেল, অভিনেত্রী ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা তুলনা আল হারুন আর নেই। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মডেল ও অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছোট ভাই আয়াজ।

তুলনার মৃত্যুতে দেশের বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার, ডিজাইনার ও ভক্তরা। তবে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স কত হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি।

ব্রেন টিউমার থেকে ক্যান্সার শনাক্ত
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে তুলনা আল হারুনের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে সেটি থেকে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এ জটিল রোগের চিকিৎসায় তাঁর অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি আবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মডেলিং ও অভিনয়ে গড়েছিলেন স্বতন্ত্র পরিচিতি
দীর্ঘ কর্মজীবনে মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তুলনা আল হারুন। বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি ফ্যাশন জগতেও পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন এই শিল্পী।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রতিভা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল। ব্যক্তিগত জীবনের নানা কঠিন সময় আড়ালে রেখেও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন তিনি।

তুলনার মৃত্যুতে শোক সহকর্মী ও ভক্তদের
তুলনা আল হারুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানাচ্ছেন তাঁর পরিচিতজন ও ভক্তরা। বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি ফ্যাশন জগতের অনেকেই তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন। তাঁর মৃত্যুতে একজন মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকা ও ফ্যাশন পেশাজীবীকে হারাল দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

শনিবার জানাজা, দাফন রায়েরবাজারে
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ পিসিকালচার হাউজিংয়ের ৩ নম্বর রোডে তুলনা আল হারুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

রাজকীয় সংবর্ধনায় মেসি পেলেন স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
রাজকীয় সংবর্ধনায় মেসি পেলেন স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার

স্পেনে ফিরেই ভক্তদের উন্মাদনায় সিক্ত হলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের ওভিয়েদো শহরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজারো সমর্থক রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁদের প্রিয় তারকাকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে ঘিরে কয়েক দিনের এই উন্মাদনা ২০২৩ সালে হলিউড কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপের সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)  রাতে ওভিয়েদোর ক্যাম্পোয়ামোর থিয়েটারে স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন মেসি। স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে এই পুরস্কার নেন তিনি। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

মেসিকে ঘিরে ওভিয়েদোতে উৎসবের আমেজ
উত্তর স্পেনের আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে মেসির আগমনকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। ব্যাগপাইপ ও ড্রামের বাদ্য, আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকদের উল্লাস আর রাস্তার দুপাশে ভক্তদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তাঁকে বরণ করে নিতে শহরজুড়ে তৈরি হয় বিশেষ পরিবেশ।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের আয়োজনে মেসির উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। মঞ্চে প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। গত জুনেই তাঁকে ক্রীড়াক্ষেত্রে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পুরস্কার প্রদানকারী জুরিবোর্ড মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেছে।

মেসির প্রশংসায় প্রিন্সেস লিওনর
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষ দিকে বিজয়ীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রিন্সেস লিওনর। মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ফুটবলে আর্জেন্টাইন তারকার অসাধারণ প্রভাব ও দলগত চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রিন্সেস লিওনর বলেন, একটি গোলের অপেক্ষায় থাকা মুহূর্তেও ফুটবল কীভাবে মানুষকে একই অনুভূতিতে একত্র করে, মেসির ক্যারিয়ার তার বড় উদাহরণ। তাঁর বক্তব্যে স্পোর্তিং গিহনের এক সাবেক খেলোয়াড়ের মন্তব্যও উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, মেসি মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যেই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে দলগত চেতনাকে প্রাধান্য দেন।

পুরস্কার পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন মেসি
পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মেসি। তিনি লেখেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তাঁর জন্য দারুণ সম্মানের। একই সঙ্গে অন্য পুরস্কারজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় ভালো লাগার কথাও জানান তিনি।

১৯৮১ সালে প্রবর্তিত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড স্প্যানিশভাষী বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হিসেবে পরিচিত। শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। মানবিক সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলোও পুরস্কারটির বিবেচনায় থাকে। সম্মাননার সঙ্গে দেওয়া হয় ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য।

বার্সেলোনায় কেটেছে মেসির ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনা। ২০০০ সালে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২১ বছর সেখানে কাটান তিনি। এই ক্লাবেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মেসি।

বার্সেলোনা ছাড়ার পর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ে দুই মৌসুম খেলেন তিনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের আগের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়বিদ এলিউদ কিপচোগে এবং মার্কিন স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

রাজকীয় সংবর্ধনায়ও অংশ নেন মেসি
স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ফেরার আগে রাজকীয় সংবর্ধনায় অংশ নেন মেসি। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্য পুরস্কারজয়ীদের সঙ্গে কোভাদোঙ্গা কক্ষে ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।  এবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক ছিল, স্পেনের রাজা ও রানির পরিবর্তে প্রিন্সেস লিওনর একাই এর আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও।

মেসির প্রশংসা করে স্পেনের এই কোচ বলেন, খেলাধুলা ও ফুটবলে মেসি যে ঐতিহ্য রেখে যাচ্ছেন, তা ব্যতিক্রমী। একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বহু মূল্যবোধের অসাধারণ উদাহরণ। এভাবেই স্পেনে কয়েক দিনের সফরে পুরস্কার, রাজকীয় সংবর্ধনা আর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা লিওনেল মেসি।

কালের আলো/এসএ/টিসি