খুঁজুন
                               
, ,
           

দুই হাতের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বামীর সঙ্গে জোহরার সংসার

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
দুই হাতের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বামীর সঙ্গে জোহরার সংসার

দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করাই কঠিন। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানেননি যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের জোহরা খাতুন। প্রায় ২৫ বছর ধরে স্বামী রশিদের সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন তিনি।

জোহরা ও রশিদের দাম্পত্যজীবন প্রায় ৪০ বছরের। দীর্ঘ এই সময়ে অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা এলেও দুজন একে অপরের পাশে থেকেছেন। জোহরার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করলেও সংসারের দায়িত্ব থেকে তাঁকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।

প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ঘুম থেকে ওঠেন জোহরা। এরপর চলে যান স্বামীর চায়ের দোকানে। সেখানে চা তৈরি, ক্রেতাদের চা দেওয়া এবং দোকানের বিভিন্ন কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেন। দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে রান্নাসহ ঘরের কাজ শেষ করেন। স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করে আবার দোকানে ফিরে যান। এরপর দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দোকানে কাজ করেন।

দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় প্রতিদিনের কাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তারপরও জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

জোহরা খাতুন বলেন, ‘আমরা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। আমার দুই হাত প্রতিবন্ধী। তারপরও আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কষ্ট করে সংসার চালাই। আমার স্বামী আমাকে দেখে কখনো ঘৃণা করে না। আমরা দুজন দুজনকে নিয়ে বেঁচে আছি।’

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বামী রশিদও দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। সংসারের প্রয়োজনেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন তিনি। দুজনের আয়ে চলে তাঁদের সংসার।

স্থানীয় এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি বলেন, জোহরা ও রশিদের মতো অসচ্ছল মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে তাঁদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই কাটে জোহরার দিন। ঘরের কাজ সামলে আবার দোকানে ছুটে যেতে হয়। এভাবেই প্রায় ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকানে কাজ করছেন তিনি।

জোহরা বলেন, তিনি কারও করুণা চান না। স্বামীর সঙ্গে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে চান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভুয়া তথ্য-গুজব ঠেকাতেই সাইবার সুরক্ষা আইন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ভুয়া তথ্য-গুজব ঠেকাতেই সাইবার সুরক্ষা আইন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা, লেখা বন্ধ করা কিংবা সরকারের পক্ষে লেখানোর জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এর ফলে কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন। এমনকি সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করেও ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে।

এসব থেকে জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদেরও একমত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভাঙচুরের ক্ষত পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
ভাঙচুরের ক্ষত পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক দিন আগেও ছিল ভাঙচুরের ক্ষতচিহ্ন। এখন সেখানে দৃশ্যপট বদলাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালে নতুন ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার ও রং; বসানো হচ্ছে দরজা-জানালা ও লোহার গ্রিল। পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, শৌচাগারগুলোও ব্যবহার উপযোগী করার কাজ চলছে। অর্থাৎ হামলার ধাক্কা সামলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে তার অবকাঠামোগত রূপ ফিরে পাচ্ছে।

তবে এই পুনরুদ্ধারের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ভবন নয়, সেবা। হামলার আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতেন, এখন সেখানে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে। টিনের ছাউনির নিচে শিশুদের টিকা এবং নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে। এই সীমিত কার্যক্রমই দেখাচ্ছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত না হলেও সেবা বন্ধ না রাখার চেষ্টা চলছে।

  • দ্রুত সংস্কারে বদলেছে দৃশ্যপট
  • টিকা ও নারীস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত
  • পূর্ণ কার্যক্রম ফেরাতে নজর চিকিৎসা সরঞ্জামে

সংস্কারের গতি: ক্ষত সারছে দ্রুত

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামনের ও পেছনের বারান্দার দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও টিকা লুটের পাশাপাশি ভবনের কিছু অংশ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় পুনর্গঠন। বর্তমানে দেয়াল মেরামত, প্লাস্টার ও রঙের কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন দরজা-জানালা ও গ্রিল বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন, কর্মীদের বসার জায়গা এবং খাবার কক্ষেও সংস্কার হচ্ছে। পেছনের সীমানাদেয়ালের কাজ শেষ করে এখন রঙের প্রস্তুতি চলছে। এই অগ্রগতির একটি তাৎপর্য রয়েছে। হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন হয়ে থাকেনি; দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগের কারণে সেটি আবার একটি সচল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ফেরার প্রক্রিয়ায় ঢুকেছে।

৫৬ জনের সেবা: ছোট পরিসরে বড় বার্তা

সংস্কার চললেও স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত শনিবার (০৩ অক্টোবর) ৫৬ জন সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ শিশু টিকা পেয়েছে এবং ২১ নারী স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। সংখ্যাটি আগের দৈনিক গড় ৪০০ রোগীর তুলনায় অনেক কম। কিন্তু এটিকে কেবল ঘাটতির হিসাব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ভবনের কাজ চলার মধ্যেও টিকাদান ও নারীস্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ধরে রাখার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টিকা নির্ধারিত সময়ে না পেলে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে নারীদের প্রাথমিক সেবা চালু থাকায় পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েনি।

ভবন প্রস্তুত হলেই যে সেবা প্রস্তুত—তা নয়

রাড্ডার পুনর্গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় এখন সামনে। ভবনের কাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালুর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কার্যকর কর্মপরিবেশ।

হামলায় দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কালার প্রিন্টার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, জেনারেটর এবং তিনটি বড় এসি লুট হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা সেবার উপকরণ, বিশেষ বিছানা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও অটোক্লেভ মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে। চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা, টেবিল, চেয়ার, ফাইল ক্যাবিনেট, স্টিলের আলমারি ও ওষুধ সংরক্ষণের আসবাবও ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। তাই পুনরুদ্ধারের দ্বিতীয় ধাপটি হবে ‘সরঞ্জাম পুনঃস্থাপন’। কোন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, কোনটি ব্যবহারযোগ্য এবং কোনটি নতুন করে সংগ্রহ করতে হবে—এটি নির্ধারণ করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।

উদ্ধার হওয়া দুই ট্রাক সামগ্রী

লুট হওয়া দুই ট্রাক পণ্য উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসনের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এখানেই পুনর্গঠনের একটি সম্ভাবনাময় দিক তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা উপকরণ থাকে, তাহলে নতুন করে সংগ্রহের চাপ কিছুটা কমতে পারে। আবার কী কী সামগ্রী নেই, সেটিও দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া পণ্য শুধু হারানো সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয় নয়; এটি পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর প্রয়োজনীয়তা নিরূপণের ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।

সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে পুনর্গঠনের সুযোগ

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা চালুর বিষয়ে রাড্ডা ট্রাস্টের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিবার পরিকল্পনা সেবার চিকিৎসা উপকরণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এবং টিকা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের জন্য সরকারের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এখানে একটি সমন্বিত পুনর্গঠন কাঠামোর সুযোগ রয়েছে। ভবনের সংস্কার এক পক্ষ করছে, টিকা ও পরিবার পরিকল্পনা উপকরণ আসছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়, আর কেন্দ্রের নিজস্ব কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা প্রস্তুত করছে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে এগোলে পুনরুদ্ধারের সময় কমানো সম্ভব হতে পারে।

বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাঠামো

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অর্থায়নে চলা সংস্কারকাজ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এটি পূরণ হলে পুনর্গঠনের একটি দৃশ্যমান ধাপ শেষ হবে। কিন্তু প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হবে অন্য জায়গায়—কত দ্রুত আগের সেবার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়। শুধু রঙ করা দেয়াল বা নতুন দরজা-জানালা দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কক্ষ, আসবাব ও সেবা-ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে হবে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান অগ্রগতি তাই একটি পুনর্গঠনের মাঝপথের ছবি। ভাঙচুরের ক্ষত দ্রুত মেরামত হচ্ছে, সীমিত সেবা চালু রয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ নিয়েও আলোচনা চলছে। এখন এসব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনায় এনে দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানেনি, ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারে পাঠদান

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানেনি, ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারে পাঠদান

দুই পায়ের শক্তি হারিয়েছেন এক দশক আগে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা না থাকলেও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে থেমে যাননি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বামুন্দী বালিয়াকান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল। হুইলচেয়ারই এখন তার চলাচলের একমাত্র বাহন। বিদ্যালয়ে যাতায়াত থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জানা গেছে, জন্মের পর সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন অপূর্ব লাল মণ্ডল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার পায়ে সামান্য সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা নিয়েই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৯৯ সালে নিজ এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

এর কয়েক বছর পর ধীরে ধীরে তার দুই পায়ের শক্তি কমতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পায়ে ভর করে হাঁটার সক্ষমতা হারান। গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তার একমাত্র চলাচলের মাধ্যম।

অপূর্ব লাল মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীরাই তার চলার সঙ্গী। কখনো কারও কাঁধে ভর করে, আবার কখনো একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তিনি স্কুলে যান। নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেন না তিনি; শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াকেই জীবনের নেশা হিসেবে নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব উল্লাহ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি অপূর্ব স্যারের কাছে পড়ছেন। আগে বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা স্যারকে হুইলচেয়ারে করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। এখন তারা নিজেরাই সেই দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও স্যার খুব সুন্দরভাবে ক্লাস নেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগান।

সহকারী শিক্ষক ফরিদ শেখ বলেন, অপূর্ব লাল মণ্ডল তার বাল্যবন্ধু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং কাছাকাছি সময়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বন্ধুর শারীরিক অসুস্থতার কষ্ট থাকলেও শেষ দিন পর্যন্ত তার পাশে থাকতে চান তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নয়, শ্রেণিকক্ষেও অপূর্ব লালের দায়িত্ব পালনে কোনো ক্লান্তি দেখা যায় না। তিনি যত্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ বুঝিয়ে দেন। তবে একটি আধুনিক হুইলচেয়ার পেলে তার যাতায়াত ও পাঠদান আরও সহজ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি