খুঁজুন
                               
, ,
           

সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না হলে ভালো সাংবাদিকরা কাজের আগ্রহ হারাবেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিক তৈরি বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, ওয়েজবোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে দশম ওয়েজবোর্ডের দাবিও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

মিডিয়া হাউজের মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এতে জনগণ ও গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার জন্য এ আইন করা হচ্ছে না। জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানি, অসত্য তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন।

সভায় ডিইউজে নেতারা সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত, নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তুমব্রু সীমান্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
তুমব্রু সীমান্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক বার্তায় এ তথ্য জানান বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুমব্রু বিওপির পশ্চিমকুল রুহুলের দোকান-কাটাপাহাড় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। পরে ৩৪ বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশনায় তুমব্রু বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে কয়েকজনের সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে বিজিবি। টহলদল তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার ও পানির সুযোগ নিয়ে মালামাল ফেলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে লুঙ্গিতে মোড়ানো তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগগুলোতে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে: মাহ্‌দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে: মাহ্‌দী আমিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় সত্যের ভিত্তিতে আলোচনা-সমালোচনা না করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি প্রকাশের পরও অনেকে সেটি নিয়ে অপপ্রচার করেছেন।

তিনি বলেন, ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। পরে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও ছবিটি নিজেদের মাধ্যমে শেয়ার করেছে। এরপরও কেন এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন—এটি স্বাভাবিক বিষয়। তাদের মধ্যে আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারপ্রধান মিথ্যাচার করবেন কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাহ্‌দী আমিন। তার দাবি, জাইমা রহমান যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে জাতিসংঘে চাকরি পেয়েছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ চাকরিটি সরকার দিয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপিকে নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন তিনি। মাহ্‌দী আমিনের দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি অবৈধ হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল এবং এর সঙ্গে রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে ভাঙচুরের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং গ্রেপ্তার, মামলা ও তদন্ত চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা ব্যাপক ভিউ বা প্রচার পেলেই সেটিকে সত্য ধরে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সত্য ও ন্যায্য বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অনৈতিক ও অন্যায় কর্মকাণ্ডেরও নির্মোহ সমালোচনা করার আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ বাক্‌স্বাধীনতা রয়েছে দাবি করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, সমালোচনা করা যাবে, তবে অশোভন ও অশালীন আচরণ না করে বাক্‌স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যবোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রভাবশালীদের অপরাধে আইন প্রয়োগে আপস হয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রভাবশালীদের অপরাধে আইন প্রয়োগে আপস হয়: ডেপুটি স্পিকার

প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং শিশু অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশে অনেক ভালো আইন রয়েছে। কিন্তু এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় আপস করে ফেলেন। বিশেষ করে প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলেও সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় না। জনগণের করের টাকায় যাদের বেতন দেওয়া হয়, তাদের কাজেরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

শিশুশ্রম নিরসনে নিজ নিজ ঘরে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে না রাখার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান কায়সার কামাল। একই সঙ্গে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হওয়ায় শিশুরাই বিভিন্ন ঘটনায় বেশি ভুক্তভোগী হয়। শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি হেল্পলাইন ‘১০৩৮’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সংলাপে শিশুদের কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। হতাশা থাকলেও প্রত্যাশা শেষ হয়ে যায়নি। শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, রাজনৈতিক কর্মী, এনজিও, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইএলও প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি