খুঁজুন
                               
, ,
           

বহিষ্কার থেকে দলবদল, জামায়াতে পরিচয় সংকট আখতারুজ্জামানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
বহিষ্কার থেকে দলবদল, জামায়াতে পরিচয় সংকট আখতারুজ্জামানের

এক দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বারবার বহিষ্কার; পরে সেই দল ও নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমালোচনা। এরপর নির্বাচনে নিজের মতো করে অবস্থান নেওয়া। সবশেষে যে দলকে একসময় সমালোচনা করেছেন, সেই জামায়াতে যোগদান। আর যোগ দেওয়ার পরও নতুন দলটির পক্ষ থেকেই বলা হলো—তিনি নেতা নন, প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের রাজনৈতিক জীবন যেন একাধিক বাঁকের সমষ্টি।

কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে দুবার সংসদ সদস্য হওয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং পরে পাঁচবার দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অধ্যায়। ২০২২ সালে বিএনপি থেকে সর্বশেষ বহিষ্কারের পরও রাজনীতি থেকে দূরে থাকেননি। বরং প্রকাশ্য বক্তব্য, টকশো ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিয়েছেন। এখন বিমানবন্দরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর সেই রাজনৈতিক অতীতই নতুন করে সামনে এসেছে।

  • বিএনপির সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক পথচলায় বারবার বাঁক
  • জামায়াত বলছে, তিনি নেতা নন, প্রাথমিক সহযোগী সদস্য
  • গ্রেপ্তারের পর পুরোনো রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোও সামনে

যে দল থেকে পাঁচবার বহিষ্কার

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্থান বিএনপিকে ঘিরেই। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরপর দুবার সংসদ সদস্য হন তিনি। একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

কিন্তু দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো স্থায়ীভাবে মসৃণ ছিল না। দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। বহিষ্কারের পরও নিজেকে বিএনপির রাজনীতির বাইরে ভাবেননি—এমন বক্তব্যও তাঁর কাছ থেকে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক পরিচয় আর ধরে রাখেননি। পরবর্তী সময়ে তাঁর গন্তব্য হয় জামায়াতে ইসলামী।

যে জামায়াতকে সমালোচনা, সেখানেই যোগ

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাঁক আসে জামায়াতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। একসময় জামায়াতের সমালোচনা করা এই মুক্তিযোদ্ধা পরে দলটির প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করে সংগঠনটিতে যোগ দেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ার ব্যাখ্যাও তিনি নিজেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিএনপির নেতৃত্বের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর মতের মিল নেই; সেই অবস্থানের প্রতিবাদেই তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতকে ‘দেশপ্রেমিক’ দল হিসেবে বর্ণনা করেন।

ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে পুরোনো বক্তব্যের তুলনা সামনে আসে। একই ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থানে এমন পরিবর্তন কেন—এ প্রশ্ন ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যায়, এটি ছিল রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

এবার জামায়াতের কাছেই পরিচয় পরিষ্কার

সাম্প্রতিক ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পরিচয় নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এসেছে জামায়াতের ভেতর থেকেই। গত ৩ অক্টোবর দলটির নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন; তিনি দলের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দিয়ে প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেন।

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের সদস্য থেকে পরবর্তী ধাপে কর্মী, সদস্য এবং এরপর নেতৃত্বের পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান আজহারুল ইসলাম। অর্থাৎ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জেলা সভাপতির যে রাজনৈতিক পরিচয় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিল, জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর বর্তমান অবস্থান সেই পর্যায়ের নয়।

বিমানবন্দরের ঘটনা: নতুন বিতর্কের কেন্দ্র

এর মধ্যেই গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মদিনা থেকে আসা ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত শনিবার আদালতে নেওয়ার সময়ও নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর আগে মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন। সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানও জানান। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

অবস্থানের ধারাবাহিক পরিবর্তন?

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবনকে শুধু দলবদলের তালিকা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। তাঁর ক্ষেত্রে বারবার দেখা গেছে—দলের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়েছে। বিএনপিতে তিনি ছিলেন সংসদ সদস্য ও জেলা সভাপতি। একই দল থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃতও হয়েছেন। বিএনপি ছাড়ার পর নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। পরে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। আবার সেই জামায়াতই এখন তাঁর সাংগঠনিক পরিচয়কে ‘নেতা’ হিসেবে স্বীকার করছে না। এখানেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে।

সামনে এখন কোন পরিচয়?

আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাসকে আবারও জাতীয় আলোচনায় এনেছে। কিন্তু ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু মামলায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর দীর্ঘ দলীয় ইতিহাস, একাধিকবার বহিষ্কার, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং সর্বশেষ জামায়াতে যোগদানের পর দলটির পক্ষ থেকে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার বিষয়টি।

একসময় যিনি সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, এখন তাঁর নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ও দলীয়ভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা—এই তিনটি বাস্তবতা এখন একই বিন্দুতে এসে মিলেছে। ফলে আখতারুজ্জামানের সামনে প্রশ্নটি শুধু কোন দলে আছেন, তা নয়; নতুন দলে তাঁর ভূমিকা কতটা এবং সেই পরিচয় তিনি কীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি