খুঁজুন
                               
, ,
           

বাব আল–মানদেব ঘিরে যুদ্ধের দামামা, ১ লাখ সেনা নামাচ্ছে সৌদি

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
বাব আল–মানদেব ঘিরে যুদ্ধের দামামা, ১ লাখ সেনা নামাচ্ছে সৌদি

ইয়েমেনে যুদ্ধের পুরোনো আগুন আবার বড় পরিসরে জ্বলে উঠছে। এবার লড়াইয়ের কেন্দ্র শুধু হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়; লক্ষ্য লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব। এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থল অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাঁদের সহায়তায় বিমান হামলা চালাবে সৌদি বাহিনী।

অর্থাৎ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে যে সংঘাত তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, তা আবার বড় আকার নেওয়ার পথে। আর এবার সৌদি আরব একা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা, পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তুরস্কের সামরিক সম্পর্ক এবং ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা মিলিয়ে যুদ্ধের সমীকরণও বদলে গেছে।

  • হুতিদের দখলে থাকা উপকূল পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি
  • আকাশে সৌদি, গোয়েন্দা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, পাশে পাকিস্তান-তুরস্ক

কেন বাব আল-মানদেব এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল ইয়েমেনের সামরিক হিসাব নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

হুতিরা উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর এই জলপথে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের সম্ভাব্য অভিযানের প্রধান লক্ষ্য তাই শুধু ভূখণ্ড পুনর্দখল নয়; নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

রয়টার্সকে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি বলেছেন, নতুন অভিযান ২০১৫ সালের সৌদি হস্তক্ষেপের মতো ব্যাপক নাও হতে পারে। বরং বাব আল-মানদেব দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করাই হতে পারে এর মূল লক্ষ্য।

স্থলযুদ্ধে নামবে এক লাখের বেশি সেনা

সম্ভাব্য অভিযানের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে স্থলযুদ্ধে। রয়টার্সের একাধিক মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছে, এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাব আল-মানদেব ছাড়াও আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ অঞ্চলে অভিযান বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলজুড়ে নতুন এলাকা দখলে নেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন পক্ষের ওপর সামরিক চাপ বাড়ে।

ইতিমধ্যে বিমান হামলাও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী গত শুক্রবার তাইজে হুতিদের অবস্থানে ২০টি বিমান হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি ভূখণ্ডেও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থল অভিযান শুরুর আগেই সংঘাতটি দুই দেশের সীমান্ত ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

রিয়াদের পাশে কারা?

এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের ওপর বিমান হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সৌদি আরবের আকাশ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে সৌদির প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে। ফ্রান্স ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনাসদস্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তাঁদের ইয়েমেনে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। এই সহযোগিতা দেখাচ্ছে, ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের স্থানীয় লড়াই হিসেবে থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণ।

যুদ্ধের মধ্যেই কূটনীতির জানালা

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে আলোচনার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগও রয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সমান্তরাল প্রবণতা। একদিকে সৌদি আরব বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে মিত্রদের মাধ্যমে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও খোলা রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ রিয়াদের কৌশল এখন শুধু সামরিক চাপের ওপর নির্ভর করছে না; যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে বিপন্ন ইয়েমেনের মানুষ
যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবার খাবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এর মধ্যেই লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে বড় অভিযান শুরু হলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মানদেব ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সংঘাত বাড়লে এর প্রভাব ইয়েমেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যেও পড়তে পারে।

সৌদির সামনে আসল পরীক্ষা

বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা সৌদি আরবের রয়েছে, মিত্রদের সামরিক সহায়তাও মিলছে। কিন্তু বাব আল-মানদেবের মতো কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলের আসল পরীক্ষা হবে স্থলযুদ্ধে। সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, এখন পর্যন্ত ইয়েমেনি স্থলবাহিনী মূলত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখায় মনোযোগ দিয়েছে। সম্ভাব্য নতুন অভিযানে তাদের ভূমিকা হবে আক্রমণাত্মক। ফলে তাদের প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও যুদ্ধক্ষমতার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে সামনে যে চিত্রটি তৈরি হচ্ছে, তা শুধু ‘সৌদি বনাম হুতি’ সংঘাতের পুনরাবৃত্তি নয়। বাব আল-মানদেবকে ঘিরে লড়াই হলে এর সঙ্গে যুক্ত হবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, সৌদি-ইরান সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক অবস্থান। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে রিয়াদ কী সিদ্ধান্ত নেয়, হুতিরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোয়—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করতে পারে ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ কতটা বিস্তৃত হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

ক্রীড়া কার্ডধারীদের গণপরিবহনে ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
ক্রীড়া কার্ডধারীদের গণপরিবহনে ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত

জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি গণপরিবহনে ভাড়ায় বিশেষ ছাড় এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৪ অক্টোবর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

সভায় জানানো হয়, ক্রীড়া কার্ডধারীদের সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে ছাড়যুক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি খেলা চলাকালে দুর্ঘটনা, উন্নত চিকিৎসার ব্যয় ও জীবনের বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্রীড়াবিদদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকি বীমার আওতায় আনার কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ক্রীড়াকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং ক্রীড়াবিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি শুধু পরিচয়পত্র নয়, বরং এর মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টের ৩২৫ জন নির্বাচিত জাতীয় ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন।

কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং বীমা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম আবু নাইম মো. মারুফ খান এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন মালিক সমিতির মহাপরিচালক ছিদ্দুকুর রহমান পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে দেখতে চান রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে দেখতে চান রাষ্ট্রপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার মান আরও উন্নত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়; দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।

সাক্ষাতে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি, যা নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি।

গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে বিরোধীদল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিপক্ষ ও বিরোধীদলকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়াই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

এ সময় ঢাবির আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব: জামায়াত আমির

জনগণ শান্তিতে ঘুমাতে না পারলে সেই সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার তাদের নিরাপত্তার পাহারা দেবে—এটাই সরকারের দায়িত্ব।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ খেলার মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান কাজ। যে সরকার জনগণকে নিরাপত্তা ও শান্তি দিতে পারে না, তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েমের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে কাজ করেছেন, একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকেও সাজাবেন বলে তিনি আশা করেন।

তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খাল, নর্দমা ও জমাট বাঁধা স্থানে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কারে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান জামায়াত আমির।

রাজধানীতে সাদিক কায়েম ও ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রাম পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জনগণের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের টাকার দায়িত্বশীল হিসেবে সরকারকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ জনস্বার্থের কাজে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজেদের অর্থায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান তিনি।

এ সময় রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে চুরি, ডাকাতি, লুটপাট ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যাতে বন্ধ হয়ে না যায় এবং মানুষ যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুদানের অর্থ হস্তান্তরের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমতি দিতে গড়িমসি করা হলে বিষয়টি জনগণকে জানানো হবে। লোক দেখানো নয়, তারা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি