খুঁজুন
                               
, ,
           

কে সাংবাদিক, কে ‘ভুয়া’—ফয়সালার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
কে সাংবাদিক, কে ‘ভুয়া’—ফয়সালার উদ্যোগ

সাংবাদিকতার পরিচয় ও পেশাগত স্বীকৃতির সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণে এবার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানাল সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, কারা সাংবাদিক এবং কাদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এ বিষয়ে এখন আর অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য যেমন হুমকি তৈরি করছে, তেমনি তা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • পরিচয়ের অপব্যবহার শুধু সাংবাদিকতা নয়, জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি: ইয়াসের খান
  • অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিকতা ঠেকাতে সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রস্তাব চাইল সরকার

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকতার পরিচয় নির্ধারণে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেই প্রস্তাব পাওয়ার পর সরকার তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

‘সাংবাদিক’ পরিচয়ের আড়ালে কারা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সাংবাদিকতার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। ফেসবুক পেজ কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এই বাস্তবতাকেই সামনে এনে পেশাটির একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন প্রতিমন্ত্রী।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পেশাগত সংজ্ঞা নির্ধারণ জরুরি। ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুধু প্রকৃত সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, সাধারণ মানুষকেও বিভ্রান্ত ও হয়রানির মুখে ফেলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপরও পড়তে পারে।

সাইবার আইন: স্বাধীনতা নাকি নিরাপত্তা?

মতবিনিময়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগও উঠে আসে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা খর্ব করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। সাইবার জগতে জনগণ ও সাংবাদিকদের নিরাপদ রাখাই আইনের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধু কাউকে নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য। সাংবাদিকদের মতামত নিয়ে আইনটির কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ভাবনা

সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রাখার একটি প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিক নেতাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলবশত এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতির বিধান রাখা যেতে পারে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবটি সরকার বিবেচনা করছে। বিষয়টি আইনে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর ভাষা কী হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

ভুয়া অ্যাকাউন্টের আড়ালে হয়রানি ও গুজব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এসব ঘটনায় কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকদের নিরাপদ না রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সাইবার নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ

মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন ডিইউজে নেতারা। সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তিনি।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না—এমন পত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিক নেতাদের দাবি ও প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া সহজ হবে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) ডিআইজি ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুলিশ স্টাফ কলেজে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূরকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটে (মেট্রোরেল) পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার এ টি এম মোশাররফ হোসেন ও ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলমকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং এসবির পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি নিশাত এ্যঞ্জেলাকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনকে এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার কবীর আহম্মেদকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্য এক প্রজ্ঞাপনে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলামকে শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামানকে ময়মনসিংহ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ারকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) শাহ মমতাজুল ইসলামকে চট্টগ্রাম আরআরএফের কমান্ড্যান্ট অতিরিক্ত ডিআইজি এবং টিডিএসের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে রংপুর পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার মোছা. শিরিন আক্তার জাহানকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি ড. মো. মঞ্জুরে আলম প্রামাণিককে ট্যুরিস্ট পুলিশে, এসআরবির পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি, টিডিএসের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমকে সিআইডিতে এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদকে সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে নীলফামারী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হবে।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্তে মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রামপুরায় ‘পিচ্চি’ আল-আমিনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রামপুরায় ‘পিচ্চি’ আল-আমিনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাত

রাজধানীর রামপুরায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. আল-আমিন ওরফে ‘পিচ্চি আল-আমিন’-এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ধারাবাহিক অভিযানে আল-আমিনসহ তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র। এসআরবির দাবি, আল-আমিনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর একের পর এক অভিযানে বেরিয়ে আসে আরও অস্ত্রের সন্ধান।

  • চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগে আল-আমিনসহ ৬ জন আটক
  • উদ্ধার হলো বিপুল অস্ত্র ও গুলি

এক অভিযানে ‘মূল টার্গেট’, পরের অভিযানে সহযোগীরা

এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গত ১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পিচ্চি আল-আমিন, তার দুই সহযোগী কামাল উদ্দিন ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার আরও দুই সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লোহার তৈরি দুটি দেশীয় ছুরি।

তথ্যপ্রযুক্তিতে শনাক্ত কাওছার, এরপরই মিলল অস্ত্রের বড় চালান

অভিযানের তৃতীয় ধাপে সামনে আসে আল-আমিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানের নাম। এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্য থেকে কাওছারের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওছারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর কাওছারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে খিলগাঁও থানার ভূঁইয়াপাড়ায় একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালায় এসআরবি। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি। অর্থাৎ ধারাবাহিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ দাঁড়ায় দুইটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং মোট ১৪ রাউন্ড গুলি। এর সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে দুটি দেশীয় ছুরিও।

‘গ্যাংপ্রধান’ না হলেও অপরাধী জড়ো করতেন ঢাকায়

আল-আমিন কোনো গ্যাংয়ের প্রধান কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও ওঠে। জবাবে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আল-আমিন তার সমমনা এবং নিজের কাজের উপযোগী মনে করা ব্যক্তিদের বরগুনা ও ঝালকাঠি অঞ্চল থেকে ঢাকায় এনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। আল-আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তার পাঁচ সহযোগীর মধ্যে চারজনের বাড়িও একই জেলায় এবং একজনের বাড়ি বরগুনায় বলে জানিয়েছে এসআরবি।

রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নেও এসআরবির ‘অপরাধী’ তকমা

আল-আমিনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলা পাওয়া গেছে। এসআরবির ভাষ্য, আল-আমিন ‘স্বভাবগত অপরাধী’। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকার সময় কেউ তার মাধ্যমে সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে; তবে আল-আমিন নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি সংস্থাটির।

২৭ মামলা, হত্যা মামলারও আসামি

এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার আল-আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা ও অস্ত্র আইনে করা মামলাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

রামপুরায় স্বস্তি, এখন নজর সহযোগীদের নেটওয়ার্কে

আল-আমিন গ্রেপ্তারের পর রামপুরা এলাকার মানুষ খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক। তবে ছয়জনকে গ্রেপ্তার ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের পরও তদন্তের বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে। এসআরবির ধারাবাহিক অভিযানে যে তথ্য ও অস্ত্রের সন্ধান মিলেছে, তা এখন তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে লোক এনে রাজধানীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগটি যাচাই করে দেখাই হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে