খুঁজুন
                               
, ,
           

বোয়িংয়ের পাশে এয়ারবাস, আকাশে নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
বোয়িংয়ের পাশে এয়ারবাস, আকাশে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের আকাশপথে নতুন যুগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর বহরে এবার বড় পরিসরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ। চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও—মোট ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামীকাল বুধবার (০৭ অক্টোবর) সই হওয়ার কথা। এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে থাকবে ৩৫টি উড়োজাহাজ। বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগকে শুধু উড়োজাহাজ কেনার কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের নিজস্ব এয়ারলাইনসকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

  • ৭ অক্টোবর ১০ উড়োজাহাজের চুক্তি
  • ৩৫ নতুন উড়োজাহাজে আধুনিক হচ্ছে বিমানের বহর
  • আন্তর্জাতিক রুট ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ

নতুন পরিকল্পনায় বিমানের জন্য নির্ধারিত ৩৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি। ফলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের গন্তব্য—বিভিন্ন ধরনের রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৭৮৭-১০, ৭৮৭-৯ ও ৭৩৭-৮ মডেল। আগে ১৪টি বোয়িং কেনার জন্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ১১টি বোয়িং কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর ফলে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রুট সম্প্রসারণের জন্যও একটি বড় ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।

এয়ারবাসে খুলবে নতুন সম্ভাবনা

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের সংযোজন বিমানের বহরে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। আর এ৩২১নিও তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের সুযোগ দেবে। এর ফলে যাত্রী চাহিদা ও রুটের দূরত্ব অনুযায়ী উড়োজাহাজ নির্বাচন করা সহজ হবে। বড় উড়োজাহাজের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট উড়োজাহাজ থাকায় নতুন গন্তব্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট চালু এবং চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ আগামী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হবে নতুন উড়োজাহাজ। এতে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন এবং নতুন সক্ষমতা যোগ করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশের বড় বাজার, বিমানের বড় সুযোগ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার, পর্যটন ও শিক্ষার জন্য বিদেশগামী যাত্রী—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের বাজারের সম্ভাবনা বড়। এই বাজারে দেশের নিজস্ব পতাকাবাহী সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগও তাই যথেষ্ট। নতুন উড়োজাহাজ সেই সুযোগ কাজে লাগানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার আধুনিক ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে যেসব গন্তব্যে কানেক্টিং ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করতে হয়, ভবিষ্যতে সেসব রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে নতুন সক্ষমতার সমন্বয়

বিমানের বহর সম্প্রসারণের সময়েই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে বিমানবন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এগোচ্ছে। ফলে নতুন উড়োজাহাজ ও উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়লে ফ্লাইট পরিচালনার পরিসরও বাড়বে। নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে সেই অতিরিক্ত সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে ঢাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিমানের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী কানেক্টিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও এ সম্ভাবনাকে সমর্থন করে।

বহরে বৈচিত্র্য, রুটে নমনীয়তা

বিমানের বহরে এয়ারবাস যুক্ত হওয়ার ফলে বোয়িংয়ের পাশাপাশি আরেকটি নির্মাতার আধুনিক উড়োজাহাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। এতে বহরের বৈচিত্র্য বাড়বে এবং বিভিন্ন রুটের জন্য ভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। অবশ্যই এর জন্য পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রস্তুতি বিমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে পারে। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ বহর পরিকল্পনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাড়বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা

আধুনিক উড়োজাহাজের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো জ্বালানি দক্ষতা। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ দীর্ঘপথে তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায়। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য উন্নত কেবিন, বেশি আরাম এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইটে উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ থাকে।

ফলে নতুন বহর বিমানের পণ্য ও সেবার মান উন্নয়নেরও সুযোগ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শুধু টিকিটের দাম নয়, উড়োজাহাজের মান, সময়ানুবর্তিতা, কানেক্টিভিটি ও যাত্রীসেবাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বহর এসব ক্ষেত্রে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সামনে বড় সম্ভাবনার দশক

বিমানের ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দশকে বাংলাদেশের আকাশপথে একটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পুরোনো উড়োজাহাজের জায়গায় আধুনিক বহর, নতুন আন্তর্জাতিক রুট, বাড়তি আসন সক্ষমতা এবং উন্নত যাত্রীসেবা—সব মিলিয়ে বিমান নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বহরের সঙ্গে সমানতালে বাড়াতে হবে রুট পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, বিপণন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার সক্ষমতা। নতুন উড়োজাহাজের প্রতিটি আসনকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই হবে মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ এবং বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ শুধু বিমানের বহর বড় করার পরিকল্পনা নয়; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে নিজের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ। পরিকল্পনাটি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে আগামী দশকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য নতুন রুট, নতুন বাজার এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

এবার বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিরাপদ নগর ও মানসম্মত বাসস্থান বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরের বছর, ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

খামারের দুর্গন্ধে ব্যাহত মাদরাসার পাঠদান, বাইরে ক্লাস

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
খামারের দুর্গন্ধে ব্যাহত মাদরাসার পাঠদান, বাইরে ক্লাস

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাখিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, বারপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মলিনা বেগম নিজ বাড়িতে পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার খুব কাছেই খামারটি হওয়ায় সেখান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, খামারের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হয়। বাতাসে সবসময় দুর্গন্ধ ভেসে আসে। কয়েক দিন নয়, বেশ কিছুদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে সেটিও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে খামারের মালিক মলিনা বেগমের দাবি, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না; শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোল্ট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সিডরের ১৯ বছর পরও সংস্কার হয়নি আমতলীর শহর রক্ষা বাঁধ

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সিডরের ১৯ বছর পরও সংস্কার হয়নি আমতলীর শহর রক্ষা বাঁধ

বরগুনার আমতলী পৌর শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেড় যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাঁধটির বিভিন্ন অংশ প্রয়োজনীয়ভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারের পানি বাড়লেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডরের পর একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আমতলী ফেরিঘাট থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাশ্মশান ঘাট পর্যন্ত এলাকায় বাঁধের অবস্থা বেশি নাজুক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের বিভিন্ন অংশে ব্লক সরে গেছে। কোথাও কোথাও ঢাল ধসে নদীর দিকে ভাঙন তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর জোয়ার ও দুর্যোগের সময় নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাঁধ। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিডরের পর রেশমি, আইলা, মহাসেন, কোমেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, জাওয়াদ, সিত্রাং, মোখা, হামুন ও রেমালসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে। এসব দুর্যোগে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। বাঁধের ব্লকগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে তাঁরা অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারবেন। তা না হলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই ঘরের আঙিনায় পানি ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় করাতকল ব্যবসায়ী আমির হোসেন তালুকদার বলেন, তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিও বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। আগে করাতকলের সামনে ১০ থেকে ১৫ ফুট জায়গা ছিল, এরপর ছিল ব্লকের ঢাল। কিন্তু জোয়ার ও বন্যার পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই জায়গাটুকুও এখন নেই। যেকোনো সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কথা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি