খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ৪০১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২০৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৮ হাজার ৩৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৩৩৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮৮ জন।

নতুন করে ৯ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মারা যান ৪১৩ জন। এর আগে ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, বাবুল চিশতীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, বাবুল চিশতীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, পদ্মা ব্যাংকের মিরপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ইরফানুল হক, সাবেক ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ব্যাংকের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক ও নির্বাহী/অডিট কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল চিশতী, মেসার্স বিলিভ ওয়ান অ্যাসোসিয়েটস সার্ভে অ্যান্ড পরিদর্শন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী এবং পদ্মা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার শাখা প্রধান সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রতারণা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের ঋণ আবেদন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ঋণ অনুমোদন করা হয়। পর্যাপ্ত জামানত বা মর্টগেজ না থাকা সত্ত্বেও ঋণ দেওয়া হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য মর্টগেজের অতিরিক্ত মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মর্টগেজ দলিল সম্পাদনের আগেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়। পরে গ্রাহকের মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হলেও তা আত্মসাৎ করা হয়, যা সুদসহ বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দুদকের মতে, এ ঘটনায় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাব।’

সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের নেতৃত্বে ৫২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

  • ‘এক পা এগিয়ে এলে দুই পা এগোব’
  • ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যা তদন্তের আশ্বাস
  • অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

 

সাক্ষাতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি, শিক্ষা, উন্নয়ন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানা সমস্যা তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তাদের বক্তব্য শোনার পর রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও আরও উদ্যোগী হতে হবে। বাড়াতে হবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করেই বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভূমি নিয়ে কঠোর বার্তা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নিজেদের অধিকার রক্ষায় তাদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পানগাছ কাটার প্রসঙ্গ উঠলে রাষ্ট্রপতি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি-অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই আশ্বাসকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা-সংস্কৃতিতে জোর

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও সামনে নিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

আগামী পহেলা বৈশাখে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বঙ্গভবনে প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

বরিশাল সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে বিষপানে ঝুমুর খানম সেতু (২৭) নামে এক সন্তানের জননীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার (ঝুমুর) মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

মৃত ঝুমুর খানম সেতু বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে কুয়েত প্রবাসী শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী।

আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে ঝুমুরের সাথে প্রায় সাড়ে পাঁচবছর পূর্বে সামাজিকভাবে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের বিয়ে হয়েছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে বিষপান করা এক সন্তানের জননী ঝুমুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল পাঁচটার দিকে ঝুমুর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এর পূর্বে রোববার দিবাগত রাত এগারোটার দিকে ওই গৃহবধূ বিষপান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সোমবার বেলা এগারোটার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ওই গৃহবধূর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঝুমুরকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে মেয়ে জামাতা, তার মা, বোন ও বোন জামাতা কারণে অকারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এরই মধ্যে ঝুমুরের স্বামী কর্মের সুবাদে কুয়েত গমন করে।

পরবর্তীতে তার (শাহারিয়া) মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন, রিয়া ও নাজমিনের জামাতা সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় শাহারিয়া। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুমুরকে তার মেয়েসহ তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে ঝুমুর তার কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

করিম খান আরও জানিয়েছেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাত তুলে দীর্ঘদিন থেকে শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। ঘটনার দিন (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শাহারিয়া ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তাকে (ঝুমুর) বিষপান করে মরে যাওয়ার কথা বলে। স্বামীর এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে পরিবারের সবার অজান্তে ঝুমুর স্বামীকে ভিডিও ফোনে রেখে বিষপান করে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস পূর্বে ঝুমুর খানম সেতুর ২০ বছরের একমাত্র ভাই ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ছেলের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঝুমুর খানম সেতুর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারসহ ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ