খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাব।’

সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের নেতৃত্বে ৫২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

  • ‘এক পা এগিয়ে এলে দুই পা এগোব’
  • ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যা তদন্তের আশ্বাস
  • অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

 

সাক্ষাতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি, শিক্ষা, উন্নয়ন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানা সমস্যা তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তাদের বক্তব্য শোনার পর রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও আরও উদ্যোগী হতে হবে। বাড়াতে হবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করেই বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভূমি নিয়ে কঠোর বার্তা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নিজেদের অধিকার রক্ষায় তাদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পানগাছ কাটার প্রসঙ্গ উঠলে রাষ্ট্রপতি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি-অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই আশ্বাসকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা-সংস্কৃতিতে জোর

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও সামনে নিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

আগামী পহেলা বৈশাখে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বঙ্গভবনে প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রেসে শিক্ষামন্ত্রী, পরিদর্শন করলেন বই ছাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রেসে শিক্ষামন্ত্রী, পরিদর্শন করলেন বই ছাপা

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজের গুণগত মান যাচাই করতে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত ‘ফরাজী প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স’ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রেসটি পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী বইয়ের গুণগত মান ও ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি যাচাই করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

পরিদর্শনের সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++-এ যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া পাবেন না প্রধান শিক্ষকেরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগের বাস্তবায়ন-৮ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++-এ যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জিও জারির তারিখের আগের কোনো আর্থিক বকেয়া সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা পাবেন না।

অর্থ বিভাগের চিঠিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ২৭ জুলাইয়ের দুটি চিঠির সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++-এ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১-এর অতিরিক্ত সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।

এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইবাস++-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হলো।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে জিও জারি করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদটি ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। তবে এরপরও তারা ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাচ্ছিলেন না। প্রায় ১০ মাস পর এখন ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলো।

তবে গত ডিসেম্বর থেকে পাওনা বকেয়া নিয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জিও জারির তারিখের পূর্বের কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

একটি শিশু নিজের নাম বলল—‘জাইমা’। মুহূর্তেই বদলে গেল অনুষ্ঠানের আবহ। মেয়ের নামের সঙ্গে মিল পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ চারপাশে তখন শিশুদের উচ্ছ্বসিত করতালি। এরপর আর কোনো কঠিন প্রটোকল যেন থাকল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে থাকা শিশুরা একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করল। আর তিনি উত্তর দিতে দিতে ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে—বললেন সুন্দরবনের কথা, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ দেখার বিস্ময়ের কথা। জানালেন, ছোটবেলায় বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না; ভাবতেন, বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫০ শিশুর উষ্ণ অভ্যর্থনা, প্রশ্নের সরলতা আর প্রধানমন্ত্রীর অকপট জবাব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মানবিক দৃশ্যপট। আর সেই আবহেই উঠে আসে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও।

  • শিশুদের হাসি-প্রশ্নে বদলে গেল আয়োজন
  • সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ‘দুনিয়ার সব খেলনা’
  • নিজের গল্পের ফাঁকে শিশুদের দিলেন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হওয়ার পাঠ

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’

এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। কিন্তু নিরাপদ শৈশবের ধারণাকে শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসেছে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধ—একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের প্রায় সব অনুষঙ্গই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

পড়ার টেবিলের বাইরেও শৈশব

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে ও কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশও তত কনফিডেন্ট হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসী শিশু মানেই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম—আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু দক্ষতা নয়, মূল্যবোধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা ছিল সরল—জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সহমর্মিতা না থাকলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে খুলে গেল শৈশবের দরজা

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণ এনে দেয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে এক শিশু বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বলেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর এক শিশু জানতে চায়, জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে কেন আসেননি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আরেক শিশুর প্রশ্নে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাবার ব্যস্ততার কারণে শৈশবে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তবে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে একবার তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।

হিরণ পয়েন্টে নরম কাদার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ নিজের চোখে দেখার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে ভাসে বলে জানান তিনি। শৈশবের স্বপ্ন জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আসলে কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। ভাবতাম বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেব।’ নিজের শিক্ষাজীবনের কথাও শিশুদের জানান তিনি। বলেন, তিনি শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।

প্রযুক্তি—বন্ধ নয়, সঠিক ব্যবহারের পাঠ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশ্নেও নিষেধের বদলে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা খেলাধুলার তথ্য জানতে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—প্রযুক্তি যেন শিশুর সময় কেড়ে না নেয়; বরং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথ খুলে দেয়। ডিজিটাল বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এই বার্তার গুরুত্বও কম নয়। প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উন্মুক্ত মাঠ

অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতিটি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, গণিত ও খেলাধুলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শৈশব’ স্মরণিকা, ছবি গ্যালারি ও সোলার প্যানেল

শিশুদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরে শিশু জাদুঘর ভবনে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধনও করেন তিনি। এই আয়োজনের শেষভাগে যেন পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ছবি—একদিকে শিশুদের আঁকা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই ভবিষ্যৎকে বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ।

কালের আলো/এএএএমকে