খুঁজুন
                               
, ,
           

নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, বাবুল চিশতীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, বাবুল চিশতীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, পদ্মা ব্যাংকের মিরপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ইরফানুল হক, সাবেক ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ব্যাংকের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক ও নির্বাহী/অডিট কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল চিশতী, মেসার্স বিলিভ ওয়ান অ্যাসোসিয়েটস সার্ভে অ্যান্ড পরিদর্শন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী এবং পদ্মা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার শাখা প্রধান সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রতারণা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের ঋণ আবেদন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ঋণ অনুমোদন করা হয়। পর্যাপ্ত জামানত বা মর্টগেজ না থাকা সত্ত্বেও ঋণ দেওয়া হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য মর্টগেজের অতিরিক্ত মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মর্টগেজ দলিল সম্পাদনের আগেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়। পরে গ্রাহকের মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হলেও তা আত্মসাৎ করা হয়, যা সুদসহ বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দুদকের মতে, এ ঘটনায় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আন্দোলন চলবে: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আন্দোলন চলবে: জামায়াত

চাঁদাবাজি হলে সেখানেই বাঁশের লাঠি হাতে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই করা হবে। এই কর্মসূচি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শুধু পদত্যাগ করালেই হবে না, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনা আড়াল করতেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, তাদের আন্দোলন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বাংলামোটরে কয়েকজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাইফুল আলম খান বলেন, নিহতদের কেউ কোনো রাজনৈতিক দল করতেন না। তাদের কেন হত্যা করা হলো, সেটির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: কায়সার কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: কায়সার কামাল

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সাবেক সরকারের অপরাধমূলক, অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য করে দিয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, দেশে ও বিদেশে কিছু মানুষ পুনর্মিলন বা সমঝোতার অজুহাতে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে সাফাই গাইছেন। এ ধরনের ধারণাকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তা দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও অকল্পনীয়।

তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব ছিল জনগণকে রক্ষা করা, সেটিকেই যারা পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা যায় না।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, অতীতের দুর্দশার কারিগরদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ এখন প্রকৃত স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশ্বপরিসরে সতর্কতার সঙ্গে দেশের অবস্থান নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

‘আমরা আর কারও টেবিলে বসার জন্য একটি চেয়ার চাইব না। বরং আমরা আমাদের নিজেদের টেবিল তৈরি করব এবং সেখানে বসার জন্য অন্যদের আমন্ত্রণ জানাব’—বলেন তিনি।

৫ আগস্টের পর জনগণ সরকারের কাছে পূর্ণ জবাবদিহিতা দাবি করছে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, একটি সরকারের বৈধতা আসে তার স্বচ্ছতা এবং জনগণের কঠোর নজরদারির কাছে নিজেকে সমর্পণের সদিচ্ছা থেকে। আইনের শাসনের প্রতি কঠোর আনুগত্য প্রমাণ না করে জনগণের আস্থা চাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা যেন সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

বিচার ব্যবস্থাকে শুধু ‘আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার রক্ষক হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার।

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবক্ষয় রোধে শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, স্বৈরশাসকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দিতে কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। বাংলাদেশে বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তি স্থাপনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং স্বৈরতন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, মন্ত্রিসভার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি, মন্ত্রিসভার অনুমোদন

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতি বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।

এদিকে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তারিখও পুনর্নির্ধারণ করেছে মন্ত্রিসভা।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি থাকবে। তবে ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি অফিস খোলা থাকবে।

এর আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ ও ২১ অক্টোবর ছুটি নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২২ অক্টোবরও ছুটির আওতায় এসেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি