খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকার সড়কে এবার ‘জট কাটার’ অভিযান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার সড়কে এবার ‘জট কাটার’ অভিযান

মালিবাগ থেকে বাংলামোটর—১০ থেকে ১৫ মিনিটের পথ। অথচ যানজটে আটকে সেই পথ পাড়ি দিতে কখনো গুনতে হয় ঘণ্টা। রাজধানীর এই চিরচেনা দুর্ভোগ কাটাতে এবার সড়ক বাড়ানোর চেয়ে সড়কের ওপর চাপ কমানোর পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে সরকার। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, রাস্তার পাশের বাস পার্কিং সরানো, কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট স্থানান্তর, উন্নয়নকাজে সমন্বয় এবং মহাখালী টার্মিনালের বাস পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার মতো একাধিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। এখন বড় প্রশ্ন—বারবার নেওয়া পরিকল্পনার মতো এবারও কি আটকে যাবে বাস্তবায়ন, নাকি সত্যিই গতি ফিরবে ঢাকার সড়কে?

  • ফুটপাত দখলমুক্ত থেকে বাস পার্কিং সরানো—যানজট কমাতে একসঙ্গে একাধিক পদক্ষেপ
  • রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে লাগাম দিয়ে ফেরানো হবে নগরীর গতি

ফুটপাত ফিরবে পথচারীর
ঢাকার যানজটের একটি বড় কারণ সড়কের কার্যকর জায়গা কমে যাওয়া। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে পথচারীরা মূল সড়কে নেমে আসেন। এতে যানবাহন ও পথচারী একই জায়গা ব্যবহার করায় গতি কমে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এ কারণে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মিরপুর-১০ এলাকায় হকার উচ্ছেদের পর সড়কের চিত্রে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, সেটিকে এই উদ্যোগের প্রাথমিক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু উচ্ছেদ নয়, ফুটপাত যাতে আবার দখল না হয়, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

সড়ক থেকে সরবে বাস

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকা যানজটকে আরও তীব্র করে। এ সমস্যা কমাতে বঙ্গবাজার থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের দুই পাশে বাস পার্কিং সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাখালী বাস টার্মিনালে অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচল ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে বাসের চাপ কমানোর পাশাপাশি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত সড়কের অংশও যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

রাস্তা কাটাকাটিতে লাগাম

প্রতি বছর বর্ষাকালে ঢাকার যানজট বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজে একই সড়ক বারবার কাটা হয়। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়ে যান চলাচলের জায়গা। অর্থবছর পরিবর্তনের কারণে আগামী বর্ষায় ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি না করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনাও রয়েছে। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে বর্ষায় যানজটের একটি বড় উৎস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।

সরানোর তালিকায় কারওয়ান বাজার

রাজধানীর যানজটের চাপ কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকায় ব্যবসা, পণ্যবাহী যান, ক্রেতা ও পথচারীর সমন্বিত চাপ তৈরি হয়। ফলে বাজারের কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারলে ওই এলাকার সড়কে চাপ কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্থানান্তরের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে যানজট এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সাত নির্দেশনা, নজরে বাস্তবায়ন
ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ আগস্ট এক বৈঠকে সাতটি নির্দেশনা দেন। সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আবারও বৈঠক হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনাও এসেছে, যাতে রাজধানীর প্রবেশপথে যানবাহনের দীর্ঘ সারি কমানো যায়। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে অতীতের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নের অভাবে থেমে গেছে। স্কুল বাস চালু, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো কিংবা জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি চলাচলের মতো পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

অটোরিকশায় নতুন চাপ

এর বাইরে রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও নতুন সমস্যা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব যানবাহন ট্রাফিক আইন না মেনে চলাচল করে এবং মোড় বা ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গতি পরিবর্তন করে। এতে যান চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই যানজট নিরসনের পরিকল্পনায় শুধু অবকাঠামো নয়, গণপরিবহন ও ছোট যানবাহনের চলাচলও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ শিশু। এ ছাড়া ১০২ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে একজন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৯৩ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০ জনে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী-দীপু মনিসহ ১১ জন

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনিসহ ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।

মামলায় মোট ৪১ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মৃণাল কান্তি দাস ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

বুধবারের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (শিডিউল ওয়ান অব দ্য রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬)-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বরকে প্রতি বছর সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি