খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বকাপজয়ী হারমানপ্রীত ছাড়লেন অধিনায়কত্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপজয়ী হারমানপ্রীত ছাড়লেন অধিনায়কত্ব

ভারত নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর। গত বছর ঘরের মাঠে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ভারত। এবার একসঙ্গে তিন সংস্করণ—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—থেকেই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হারমানপ্রীত। তাঁর নেতৃত্বে ভারতের হয়ে ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে ও ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ভারতীয় নারী দল।

এশিয়ান গেমসেই শেষ দায়িত্ব

সেপ্টেম্বর মাসে নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ভারতকে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জেতানোই ছিল অধিনায়ক হিসেবে হারমানপ্রীতের শেষ দায়িত্ব। এরপর নারী দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন হারমানপ্রীত, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদার।

সেই বৈঠকের এক দিন পরই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন হারমানপ্রীত।

‘এটি সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়’

অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে আবেগঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন হারমানপ্রীত। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ ও অসংখ্য মুহূর্ত জড়িয়ে রয়েছে।

অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও জানান হারমানপ্রীত। তাঁর ভাষ্য, সব সিদ্ধান্ত সবাই বুঝতে পারেনি, আবার সব সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ ছিল না। তবে দলের উন্নতি এবং সতীর্থদের নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

নেতৃত্ব ছাড়ার সময় নিজের মধ্যে শান্তি অনুভব করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভারতীয় নারী দল এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং দলে প্রতিভা, চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস—সবই আছে।

২০১২ সালে শুরু নেতৃত্বের যাত্রা

২০১২ সালে প্রথমবার ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব করেন হারমানপ্রীত। তবে ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর স্থায়ীভাবে নেতৃত্বের জন্য বিবেচিত হতে শুরু করেন তিনি।

২০১৮ সালে মিতালি রাজের কাছ থেকে পূর্ণকালীন অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ভারত। এরপর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে রানার্সআপ হয় দল।

সবশেষ ২০২৫সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ভারত নারী দল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের অধিনায়ক ছিলেন হারমানপ্রীত।

সামনে স্মৃতি মান্ধানা?

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় নারী দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার গ্রুপ পর্ব থেকে ভারতের বিদায়ের পর বিষয়টি আরও জোরালো হয়।

হারমানপ্রীতের জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। গত ছয় মাসে সুযোগ পেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন ভারতের এই তারকা ওপেনার।

নেতৃত্বের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন মান্ধানা। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০২৪ ও ২০২৬ সালে দুটি উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) শিরোপা জিতেছে।

হারমানপ্রীত ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিন সংস্করণেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিসিসিআই 

কালের আলো/এসএ

লটারির পর দক্ষতা অনুযায়ী ঢাকায় পদায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
লটারির পর দক্ষতা অনুযায়ী ঢাকায় পদায়ন

ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হলেও কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের ধরন এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকায় কাজের চাপ বেশি, তাই দক্ষতাকে গুরুত্ব

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজের চাপ সমান নয়। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে তুলনামূলক বেশি চাপ থাকে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের চাপ বিবেচনা করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের চাপ বেশি। তাই লটারিতে যেসব কর্মকর্তার নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ ও বেশি কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

লটারির মাধ্যমে বদলি, ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে লটারির এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়াটি কেবল শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও এভাবে সমস্যার সমাধানের পথ বের করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো না কোনো জায়গা থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। সেই শুরুটি তারা করেছেন এবং এটি পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, লটারিতে যাদের নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজের ধরন ও চাপ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে লটারির কারণে কোনো অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ঢাকায় আগে দায়িত্ব পালন করলেও বৈষম্য নয়

কোনো কর্মকর্তা এর আগে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকলে লটারির মাধ্যমে আবারও ঢাকায় পদায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি র‌্যান্ডম বা লটারিভিত্তিক, তাই কাউকে বৈষম্যের শিকার করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা র‌্যান্ডম একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু করছি, আমরা কোনো ডিসক্রিমিনেশন দিতে চাই না।’

তবে ঢাকায় দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাকে দায়িত্বে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘উনি কালকে জয়েন করে দুর্নীতি শুরু করলে আমি তো তাকে রাখতে পারব না।’

সার্ভিস রুলস মেনেই পদায়ন

সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কাজের সুযোগ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালাই বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মোট ৩৭২টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে এসব নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অন্য দপ্তরেও লটারি ব্যবহারের বিষয়ে যা বললেন মন্ত্রী

সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরেও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে লটারির পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের প্রশাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বলতে পারেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মত দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের পদ্ধতিতে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশি গেমারদের কত টাকা খরচ হবে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশি গেমারদের কত টাকা খরচ হবে?

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স’ (GTA 6) নিয়ে গেমারদের উত্তেজনা চরমে। বহুল প্রতীক্ষিত এই গেমটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস। আগামী ১৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গেমটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।

তবে শুরুতেই সব গেমার এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রথম ধাপে গেমটি পাওয়া যাবে প্লে স্টেশন ৫ (PS5), এক্সবক্স সিরিজ এক্স ও সিরিজ এস কনসোলে। ফলে বাংলাদেশি গেমারদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—জিটিএ ৬ খেলতে হলে সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ করতে হবে?

কনসোল কিনতেই লাখের কাছাকাছি

বাংলাদেশে জিটিএ ৬ খেলার জন্য কনসোল হিসেবে PS5 হতে পারে গেমারদের অন্যতম প্রধান পছন্দ। বাজারে বর্তমানে মডেল ও স্টোরেজভেদে PS5-এর দামে পার্থক্য রয়েছে।

ডিজিটাল, স্লিম কিংবা প্রো সংস্করণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে একটি PS5 কিনতে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কনসোল কিনতেই গেমারদের বড় অঙ্কের বাজেট রাখতে হবে।

গেমের জন্য আলাদা বাজেট

কনসোল কেনার পরও শেষ হচ্ছে না খরচ। মূল ব্যয় করতে হবে জিটিএ ৬-এর গেম কপির জন্য।

আন্তর্জাতিক বাজারে গেমটির স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের দাম প্রায় ৭০ ডলার হতে পারে। বিশেষ বা কালেক্টরস এডিশনের ক্ষেত্রে খরচ আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার কাছ থেকেও গেমটির ডিজিটাল কপি পাওয়া যেতে পারে।

প্রাথমিক হিসাবে বাংলাদেশি গেমারদের একটি কপির জন্য প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

এবার থাকছে না ট্র্যাডিশনাল ডিস্ক?

জিটিএ ৬-এর ক্ষেত্রে গেমারদের জন্য আরেকটি পরিবর্তনও নজরে আসছে। প্রচলিত গেম ডিস্ক বা সিডির পরিবর্তে ডিজিটাল ডাউনলোড কোডের মাধ্যমে গেমটি পাওয়া যেতে পারে।

PS5 ব্যবহারকারীরা প্লেস্টেশন স্টোরের মাধ্যমে সরাসরি গেমটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আবার দোকান থেকে পাওয়া ডিজিটাল কোড থাকলেও সেটি রিডিম করে কনসোলে গেমটি ইনস্টল করা সম্ভব হবে।

পিসি গেমারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে

কনসোল গেমাররা নভেম্বরেই জিটিএ ৬-এর স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। কিন্তু পিসি গেমারদের জন্য এখনো নেই সুখবর।

উইন্ডোজ বা পিসির জন্য গেমটি ঠিক কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে রকস্টার গেমস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ জানায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আগের গেমগুলোর মুক্তির ধারা বিবেচনায় কনসোল সংস্করণের পর পিসি সংস্করণ আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

তাই সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২০২৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৮ সাল নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নয়।

পিসিতে খেলতে হলে কেমন হার্ডওয়্যার লাগতে পারে?

পিসি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় নির্দিষ্ট কনফিগারেশন নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রচলিত অনুমান অনুযায়ী, গেমটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালাতে শক্তিশালী প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, পর্যাপ্ত র‍্যাম এবং দ্রুতগতির SSD প্রয়োজন হতে পারে।

উচ্চ গ্রাফিক্স ও স্মুথ পারফরম্যান্সের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর এবং RTX সিরিজের উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ডের মতো হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাই-এন্ড পিসিতে খরচ কয়েক লাখ টাকা

বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গেমিং পিসি তৈরি করতে এরই মধ্যে বেশ বড় বাজেট প্রয়োজন হয়। উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, SSD ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মিলিয়ে একটি হাই-এন্ড গেমিং পিসি বানাতে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি খরচ হতে পারে।

এর সঙ্গে জিটিএ ৬-এর কপি যোগ হলে মোট বাজেট আরও বাড়বে। তবে গেমটির পিসি সংস্করণের প্রকৃত সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট ও মূল্য প্রকাশের পরই সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশি গেমারদের সামনে বড় বাজেটের সমীকরণ

সবকিছু মিলিয়ে জিটিএ ৬ খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশি গেমারদের জন্য এটি নিছক একটি গেম কেনার বিষয় নয়—বরং বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

PS5 দিয়ে খেলতে চাইলে কনসোল ও গেম মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বা তার বেশি বাজেট প্রয়োজন হতে পারে। আর ভবিষ্যতে পিসিতে সর্বোচ্চ মানের গ্রাফিক্সে খেলতে চাইলে হাই-এন্ড কম্পিউটারসহ মোট ব্যয় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

অবশ্য গেমটির চূড়ান্ত মূল্য ও পিসি সংস্করণের হার্ডওয়্যার চাহিদা প্রকাশের পর এই হিসাব আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত বাংলাদেশি গেমারদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জিটিএ ৬-এর উন্মাদনায় আপনি কত টাকা খরচ করতে প্রস্তুত?

কালের আলো/জেএন

এভারেস্টের উচ্চতম পাস সাইকেলে জয় করেছে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
এভারেস্টের উচ্চতম পাস সাইকেলে জয় করেছে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের তরুণ সাইক্লিস্ট বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের এই তরুণ দাবি করেছেন, তিনি প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাস জয় করেছেন।

‘সি টু হিমালয়াস—এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

একে একে তিন পাস জয়

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছান বীর কুমার।

এর আগে ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে তিনি জয় করেন ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার চো লা পাস। তারও আগে ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান এই বাংলাদেশি সাইক্লিস্ট।

এভারেস্ট অঞ্চলের দুর্গম এই তিন পাসের উচ্চতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পুরো অভিযানে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তারও প্রয়োজন ছিল।

কক্সবাজার থেকে শুরু যাত্রা

বীর কুমারের এই দীর্ঘ অভিযানের শুরু গত ১৪ আগস্ট। সেদিন কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে সাইকেল নিয়ে স্থলপথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছান নেপালের হিমালয় অঞ্চলে।

এরপর শুরু হয় অভিযানের সবচেয়ে কঠিন পর্ব। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, দীর্ঘ পথ, উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয় তাকে।

এক পর্যায়ে সাইকেল নিয়ে একে একে কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

‘এই অর্জন শুধু আমার একার নয়’

অভিযান শেষ করার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন বীর কুমার।

তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু তার একার নয়; বরং তার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই তার পথচলার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করাকে নিজের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয় বলে উল্লেখ করেন বীর কুমার।

তিনি বলেন, পথটি সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের পতাকা এবং নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তাকে সাহস জুগিয়েছে।

লক্ষ্য শুধু রেকর্ড নয়

বীর কুমারের ভাষ্য, তার এই অভিযানের উদ্দেশ্য কেবল রেকর্ড সৃষ্টি করা নয়। সাইক্লিংয়ের প্রসার, পরিবেশ সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াও তার অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি জানান, কঠিন এই অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

কাপ্তাইয়ের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা বীর কুমার দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এবারের হিমালয় অভিযান সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর অন্যতম বড় অর্জন।

স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ

বীর কুমারের এই সাফল্যে কাপ্তাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, তাঁর এই অর্জন দেশের তরুণদের সাইক্লিং, পর্বতারোহণ ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে