খুঁজুন
                               
, ,
           

সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রার সঙ্গে অপরাধের ধরনও যখন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, তখন সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বাংলাদেশ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

  • আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার আগ্রহ
  • তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা
  • টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের আলোচনা

আইজিপির নেতৃত্বে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতার আগ্রহ

বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চীনা প্রতিনিধিদল সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সহযোগিতার আগ্রহ এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্য বিনিময়ে বাড়বে আন্তঃদেশীয় সমন্বয়

বৈঠকে টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। সাইবার অপরাধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমা নেই। অপরাধের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, অপরাধী ও ভুক্তভোগী ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারেন। এ কারণে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় অপরাধ শনাক্তকরণ ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই জায়গায় নতুন কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার

বৈঠকের আলোচনায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম নয়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হলে সাইবার অপরাধের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় এক পদক্ষেপ।

পারস্পরিক আস্থা, তথ্য বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধবিরোধী সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

নিজস্ব ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

অবসরের পর কী হবে—এই অনিশ্চয়তাকে কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে নয়, কর্মক্ষম থাকতেই মোকাবিলার বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর বক্তব্যে সর্বজনীন পেনশন উঠে এসেছে কেবলমাত্র মাসিক আর্থিক সুবিধার কাঠামো হিসেবে নয়, বরং কর্মজীবনের সঞ্চয়কে জীবনের পরবর্তী নিরাপত্তায় রূপ দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে। অর্থাৎ আজকের নিয়মিত অবদানই হতে পারে আগামী দিনের আর্থিক ভরসা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, কর্মজীবন শেষে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।

  • কর্মজীবনেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রস্তুতির আহ্বান ইয়াসের খান চৌধুরীর
  • রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশনকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা বললেন আবু ওয়াহাব আকন্দ

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী যেখানে কর্মক্ষম সময়ে নিয়মিত অবদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বলেছেন তেমনি সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুই বক্তব্যের মধ্যে একটি অভিন্ন জায়গা রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কোনো আকস্মিক সুবিধা নয়। এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করতে হয়। আর সেই পরিকল্পনায় ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—তিন পক্ষের অংশগ্রহণ যত সুসংহত হবে, সর্বজনীন পেনশনের সামাজিক গুরুত্বও তত গভীর হবে।

অবসর নয়, ভবিষ্যৎকে ঘিরেই পরিকল্পনা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শুধু অবসরকালীন একটি আর্থিক সুবিধা নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় একজন নাগরিক নিয়মিত অবদান রাখবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—পেনশনকে তিনি কর্মজীবন-পরবর্তী প্রাপ্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গেই যুক্ত করেছেন। ফলে সর্বজনীন পেনশনের মূল দর্শন দাঁড়াচ্ছে আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত অবদান এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে।

চার স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ

ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় রয়েছে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—চারটি স্কিম। যে নাগরিকের জন্য যে স্কিম প্রযোজ্য, তিনি সে অনুযায়ী তা বেছে নিতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ব্যবস্থার সুবিধা কেবল ব্যক্তিকে ঘিরে নয়। এর মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ পেনশনকে তিনি ব্যক্তি থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তার বৃহত্তর পরিসরে দেখেছেন।

‘নিজের জন্য’ থেকে ‘পরিবারের জন্য’

সর্বজনীন পেনশনের পরিধি বাড়াতে পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদেরও সরকারি পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এটি খুব জরুরি। এই আহ্বানের মধ্যে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি বার্তা রয়েছে। কর্মজীবনে নিয়মিত সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরিণত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।

পেনশন ব্যবস্থার ‘রাষ্ট্রীয়’ গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মজীবন শেষে পেনশনসহ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা—এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ বক্তব্য মূলত সর্বজনীন পেনশনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বকে সামনে এনেছে। কারণ কর্মজীবন শেষে আয় কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো নাগরিকের আর্থিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবু ওয়াহাব আকন্দের বক্তব্যে সেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এ আয়োজনকে শুধু প্রচারমূলক কর্মসূচি নয়, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও সামনে এনেছে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন স্কিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভার আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি সার্কিট হাউজ মাঠে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি ও মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে সর্বজনীন পেনশন সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

লটারিতে বদলি, দক্ষতা দেখে পদায়ন ঢাকায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
লটারিতে বদলি, দক্ষতা দেখে পদায়ন ঢাকায়

ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হলেও কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের ধরন এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকায় কাজের চাপ বেশি, তাই দক্ষতাকে গুরুত্ব

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজের চাপ সমান নয়। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে তুলনামূলক বেশি চাপ থাকে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের চাপ বিবেচনা করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের চাপ বেশি। তাই লটারিতে যেসব কর্মকর্তার নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ ও বেশি কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

লটারির মাধ্যমে বদলি, ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে লটারির এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়াটি কেবল শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও এভাবে সমস্যার সমাধানের পথ বের করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো না কোনো জায়গা থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। সেই শুরুটি তারা করেছেন এবং এটি পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, লটারিতে যাদের নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজের ধরন ও চাপ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে লটারির কারণে কোনো অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ঢাকায় আগে দায়িত্ব পালন

রাজধানীতে ট্রাফিক অভিযানে ২ হাজার ৫৮৩ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক অভিযানে ২ হাজার ৫৮৩ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫৮৩টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। একই সময়ে ৪৭৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৩৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

গুলশানে সর্বোচ্চ ৭৮৮ মামলা

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে। এ বিভাগে ৭০টি বাস, ১৮টি ট্রাক, ৩৩টি কাভার্ড ভ্যান, ৮৫টি সিএনজি ও ২১৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৭৮৮টি মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৯টি বাস, একটি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ড ভ্যান ও ৫১টি সিএনজিসহ মোট ৩৯২টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৪টি বাস, ১৭টি ট্রাক, ২০টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১২৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৭২টি মামলা করা হয়েছে।

ওয়ারী ও মিরপুরেও শত শত মামলা

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩২টি বাস, ৩৪টি ট্রাক, ২৫টি কাভার্ড ভ্যান, ৫৯টি সিএনজি ও ১০৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪০টি মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৭টি বাস, ১৩টি ট্রাক, ৩০টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১১০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৬৮টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৩টি বাস, পাঁচটি ট্রাক, চারটি কাভার্ড ভ্যান, ২৯টি সিএনজি ও ৭২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৫টি মামলা করা হয়েছে।

রমনা ও লালবাগ বিভাগেও অভিযান

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১০টি বাস, ১১টি ট্রাক, দুটি কাভার্ড ভ্যান, ১৮টি সিএনজি ও ৭৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৭টি মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে চারটি বাস, আটটি কাভার্ড ভ্যান, আটটি সিএনজি ও ২৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১১টি মামলা হয়েছে।

ডাম্পিং ৪৭৬ গাড়ি, রেকার ১৩৮

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করার পাশাপাশি অভিযানে ৪৭৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৩৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: ডিএমপি

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি