খুঁজুন
                               
, ,
           

শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

একটি শিশু নিজের নাম বলল—‘জাইমা’। মুহূর্তেই বদলে গেল অনুষ্ঠানের আবহ। মেয়ের নামের সঙ্গে মিল পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ চারপাশে তখন শিশুদের উচ্ছ্বসিত করতালি। এরপর আর কোনো কঠিন প্রটোকল যেন থাকল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে থাকা শিশুরা একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করল। আর তিনি উত্তর দিতে দিতে ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে—বললেন সুন্দরবনের কথা, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ দেখার বিস্ময়ের কথা। জানালেন, ছোটবেলায় বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না; ভাবতেন, বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫০ শিশুর উষ্ণ অভ্যর্থনা, প্রশ্নের সরলতা আর প্রধানমন্ত্রীর অকপট জবাব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মানবিক দৃশ্যপট। আর সেই আবহেই উঠে আসে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও।

  • শিশুদের হাসি-প্রশ্নে বদলে গেল আয়োজন
  • সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ‘দুনিয়ার সব খেলনা’
  • নিজের গল্পের ফাঁকে শিশুদের দিলেন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হওয়ার পাঠ

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’

এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। কিন্তু নিরাপদ শৈশবের ধারণাকে শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসেছে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধ—একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের প্রায় সব অনুষঙ্গই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

পড়ার টেবিলের বাইরেও শৈশব

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে ও কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশও তত কনফিডেন্ট হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসী শিশু মানেই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম—আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু দক্ষতা নয়, মূল্যবোধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা ছিল সরল—জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সহমর্মিতা না থাকলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে খুলে গেল শৈশবের দরজা

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণ এনে দেয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে এক শিশু বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বলেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর এক শিশু জানতে চায়, জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে কেন আসেননি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আরেক শিশুর প্রশ্নে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাবার ব্যস্ততার কারণে শৈশবে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তবে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে একবার তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।

হিরণ পয়েন্টে নরম কাদার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ নিজের চোখে দেখার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে ভাসে বলে জানান তিনি। শৈশবের স্বপ্ন জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আসলে কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। ভাবতাম বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেব।’ নিজের শিক্ষাজীবনের কথাও শিশুদের জানান তিনি। বলেন, তিনি শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।

প্রযুক্তি—বন্ধ নয়, সঠিক ব্যবহারের পাঠ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশ্নেও নিষেধের বদলে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা খেলাধুলার তথ্য জানতে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—প্রযুক্তি যেন শিশুর সময় কেড়ে না নেয়; বরং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথ খুলে দেয়। ডিজিটাল বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এই বার্তার গুরুত্বও কম নয়। প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উন্মুক্ত মাঠ

অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতিটি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, গণিত ও খেলাধুলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শৈশব’ স্মরণিকা, ছবি গ্যালারি ও সোলার প্যানেল

শিশুদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরে শিশু জাদুঘর ভবনে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধনও করেন তিনি। এই আয়োজনের শেষভাগে যেন পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ছবি—একদিকে শিশুদের আঁকা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই ভবিষ্যৎকে বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ।

কালের আলো/এএএএমকে

‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইলে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইলে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে’

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বৈরিতা বা শত্রুতা কাম্য নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী অভিন্ন নদীগুলোর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শুধু পুরোনো চুক্তি নবায়ন না করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে পানি বণ্টন চুক্তি করতে হবে।

ফারাক্কা ব্যারাজের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, এর মাধ্যমে ভারত গঙ্গার পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার ফাহাদকে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার পক্ষে আবরার লেখালেখি করেছিলেন। তার দেখানো জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে।

এ সময় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-প্যারিস সম্পর্কে অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ঢাকা-প্যারিস সম্পর্কে অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবার বড় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে মোড় নিচ্ছে। পানি, স্যানিটেশন ও নগর অবকাঠামোয় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ফরাসি অর্থায়নের পর এবার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও নতুন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সের এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লের বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চলমান প্রকল্প দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

  • উন্নয়ন সহায়তার পর এবার বিনিয়োগ-বাণিজ্যে নজর
  • এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজও আলোচনায়

উন্নয়নে ফ্রান্সের বড় বাজি

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার খাতে ফ্রান্সের আর্থিক সম্পৃক্ততা এখন বড় আকার নিয়েছে। এএফডির অর্থায়নে চারটি প্রকল্প চলছে—সায়েদাবাদ পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের তৃতীয় পর্যায়, ঢাকা টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, চট্টগ্রামের নর্থ কাট্টলী স্যানিটেশন প্রকল্প এবং নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এসব উদ্যোগে ফ্রান্সের অর্থায়ন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নগর চাহিদা। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো এখন শুধু জনসেবা নয়, টেকসই নগরায়ণেরও শর্ত।

রাজধানীর বাইরে নতুন বিস্তার

ফরাসি সহায়তায় সাতটি শহর ও পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নের নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ফলে সহযোগিতার পরিধি ঢাকার বড় অবকাঠামো প্রকল্প ছাড়িয়ে জেলা ও পৌর পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এয়ারবাসে বাড়তি গুরুত্ব

বৈঠকে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গটি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অর্থনৈতিক মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে ঢাকা-প্যারিস সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক হতে পারে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ একনেকে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ একনেকে

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নগর ড্রেনেজ, রেলওয়ের লোকোমোটিভ থেকে নৌযান, আবার গ্রামীণ সড়ক থেকে নারী উদ্যোক্তা—উন্নয়নের একাধিক খাতকে একসঙ্গে সামনে রেখে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বড় অঙ্কের এই বিনিয়োগের ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১০টি, সংশোধিত দুটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প একটি।

  • এক সভায় ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
  • রামপালে সৌরবিদ্যুৎ, পঞ্চগড়ে সেতু, রেলে ৩০ লোকোমোটিভ, নৌপথে ৪৩ জলযান
  • নগর-গ্রামেও বড় বিনিয়োগ

নগরায়ণের চাপে অবকাঠামোতে বড় ধাক্কা

একনেকের এবারের অনুমোদনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে নগর অবকাঠামো। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। শহর সম্প্রসারণের সঙ্গে নাগরিক সেবার অবকাঠামো পিছিয়ে পড়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তার চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। বিশেষ করে সড়কের সঙ্গে ড্রেনেজ ও ফুটপাতকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গ্রামে অবকাঠামো, নারীর হাতে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ফলে এবারের বিনিয়োগে শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প সফল হলে নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ দুটি উদ্যোগই স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

জ্বালানি খাতে এবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ফলে প্রকল্পটির সাফল্য শুধু কেন্দ্র নির্মাণের ওপর নয়, পরবর্তী গ্রিড ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপরও নির্ভর করবে।

রেল-নৌ ও সড়ক যোগাযোগে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

রেলপথে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। নৌপরিবহন খাতে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহের পাশাপাশি দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ করা হবে। এসব উদ্যোগ যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো পরিবহন অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে পারে।

প্যারিসের চ্যান্সারি ভবনও উন্নয়ন তালিকায়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনসহ কয়েকটি চলমান প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে জয়পুরহাটের নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প রয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে