খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে জাপানের বহুজাতিক অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান টয়োটা। ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ পরিকল্পনার কথা জানায় টয়োটা তুশো করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদল জানায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে দেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত কারখানার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়।

টয়োটার বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

টয়োটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হরিণাকুণ্ডু পৌরসভায় নাগরিক সেবা নামেমাত্র, করের বোঝা বহুগুণ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
হরিণাকুণ্ডু পৌরসভায় নাগরিক সেবা নামেমাত্র, করের বোঝা বহুগুণ

নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সড়কবাতিরও দেখা মেলে না। বর্জ্য অপসারণ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অপ্রতুল। নালা ব্যবস্থাপনার বেহাল দশার পাশাপাশি কাঁচা-পাকা সড়কের অবস্থাও নাজুক। অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। অথচ বছর ঘুরলেই পৌরবাসীর ওপর চাপছে কয়েক গুণ বেশি কর। এমন চিত্র ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার।

২০০২ সালের ২৫ অক্টোবর ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে হরিণাকুণ্ডু প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১২ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। জনসংখ্যা ৩০ হাজার ৩৭৬। বর্তমানে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পৌরসভাটি।

পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় মোট ৭০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ কিলোমিটার পাকা এবং ৪০ কিলোমিটার কাঁচা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে মাত্র ৩ কিলোমিটার পাকা ও ১০ কিলোমিটার কাঁচা নালা।

জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী

৬ নম্বর ওয়ার্ডের কারিগরপাড়ার বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম বলেন, নামেই এটি পৌরসভা। রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। খাওয়ার পানির ব্যবস্থাও করা হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। পৌরসভার নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সড়ক কেটে পাইপ বসিয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের চিন্তা করছেন।

ইজিবাইক চালক জমির উদ্দিন বলেন, শহরতলির অধিকাংশ সড়ক বেহাল। চলাচলে দুর্ভোগের শেষ নেই। সন্ধ্যার পর সড়কবাতি না থাকায় অনেক এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। এতে চুরির ঘটনাও বাড়ছে।

কর নিয়ে ক্ষোভ

পৌরসভার কর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৫ হাজার ৪৮৫টি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হোল্ডিং করের আওতায় রয়েছে। চলতি বছর কর পুনর্নির্ধারণের পর অন্তত ২ হাজার নাগরিক অতিরিক্ত করের প্রতিবাদ জানিয়ে পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেন। পরে শুনানির মাধ্যমে অনেকের কর কিছুটা কমানো হয়।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাওয়ারপাড়ার বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, গত বছর তাঁর হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ২৫০ টাকা। এ বছর তা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের চিথলিয়াপাড়ার বাসিন্দা বেলিনা খাতুন জানান, তাঁর বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স ৩৬০ টাকা থেকে একবারে ৩ হাজার ৮৫০ টাকা করা হয়েছিল। আবেদনের পর শুনানির মাধ্যমে তা কমিয়ে ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে চার কিস্তিতে ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। এ অর্থ দিয়ে কিছু রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি আরও দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন সড়কসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। তাঁর দাবি, পৌরবাসী মোটামুটি সেবা পাচ্ছেন।

তিনি জানান, চলতি বছর ২৬ লাখ টাকা বেসরকারি কর এবং ৩৬ লাখ টাকা সরকারি কর ধার্য করা হয়েছিল। সরকারি কর পুরোপুরি আদায় হলেও বেসরকারি কর আদায়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। সংগৃহীত কর ও হাটবাজার ইজারা থেকে পাওয়া অর্থ পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে জমা হয়। সেখান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, পৌরসভার টেকসই উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভায় ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানুষ বছরের পর বছর কর দেবে, অথচ সেবা পাবে না—এটি হতে পারে না। নাগরিকদের সেবা পাওয়া তাদের অধিকার।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জলাবদ্ধতা-ঝোপঝাড়ে বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ, ছেড়েছেন অধিকাংশ পরিবার

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জলাবদ্ধতা-ঝোপঝাড়ে বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ, ছেড়েছেন অধিকাংশ পরিবার

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প। জলাবদ্ধতা, বেহাল রাস্তা ও চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। ৫২টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোভাবে বসবাস করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরগুলোর চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড় গজিয়ে পুরো এলাকা অনেকটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের বারান্দা, উঠান ও বাথরুমের সামনেও পানি জমে আছে। এতে বসবাসরত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একদিন বৃষ্টি হলে অনেক সময় কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কাদায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এসব কারণে অনেক পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘর, বারান্দা এমনকি বাথরুমেও পানি ঢুকে পড়ে। প্রতিদিন পানি সেচতে হয়। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে এখানেই বসবাস করছেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়ণের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কয়েক দিন আগে তাঁর আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে যায়। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনায় নিরাপত্তাহীনতাও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এসব পরিত্যক্ত ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি তিনি দেখেছেন। সেখানে বসবাসের পরিবেশ বর্তমানে ভালো নয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের সময় মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন পুরো এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে চারপাশে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে অসহায় পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বারবার মেরামতেও টিকছে না কুচনী সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
বারবার মেরামতেও টিকছে না কুচনী সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কের কুচনী সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে সেতুটির মূল অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই ইটভাটার ট্রাক্টর, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারী চলাচল করছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে নির্মিত কুচনী সেতুটির মূল অংশ গত দুই বছরে অন্তত তিনবার ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে ঢালাই করে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

গত ১৪ আগস্ট সেতুটির দুরবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেতুটি পরিদর্শন করেন। তবে এরপর সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কুচনী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সেতুর দুই পাশে থাকা বটগাছের শিকড় ও গাছের বিস্তারের কারণে এপ্রোচ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইটভাটার ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে সেতু ও সড়কের ক্ষতি আরও বাড়ছে।

কুচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমা রানী দেব বলেন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা জরাজীর্ণ সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অলি আহাদ মৃধা বলেন, ঝুঁকি জেনেও মানুষ বাধ্য হয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করছে। বটগাছের কারণে এপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেতুর পাটাতনও ভেঙে পড়ছে। পুরোনো সেতুটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি এখন জরাজীর্ণ। কিছুদিন পরপর এর মূল অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি জানান, শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কের এই সেতু দিয়ে নোয়াগাঁও ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৭ থেকে ৮টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি শাপলা বিলের ফসলও এই সেতু দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ছিবগাতউল্লাহ খন্দকার বলেন, কুচনী সেতুর নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি জানা হয়েছে। সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি