খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংক খাতে সংকটের চার অঙ্ক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে সংকটের চার অঙ্ক

ব্যাংক খাতের হিসাবের খাতায় এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা ৭৮৯ কোটি টাকা, অন্যদিকে সব হিসাব-নিকাশ শেষে নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি এখন পুঞ্জীভূত লোকসানে। এসব ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসান ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্যাংক খাতের এই চিত্র। রোববার (৪ অক্টোবর) কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

  • ২২ ব্যাংকের লোকসান ২.৫৪ লাখ কোটি
  • খেলাপি ঋণ ৬.০৭ লাখ কোটি
  • ১২ ব্যাংকের তারল্য সহায়তা ৮৫ হাজার কোটি—সংস্কারের চাপ বাড়ছে

মুনাফা কোথায় মিলিয়ে যাচ্ছে
ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা মূলত ঋণ ও বিনিয়োগ থেকে আয় এবং পরিচালন ব্যয়ের পার্থক্য। কিন্তু খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়, মূলধন ঘাটতি পূরণে চাপ থাকে এবং দুর্বল সম্পদের কারণে বাড়ে আর্থিক ঝুঁকি। এসব সমন্বয়ের পরই অনেক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা নিট লোকসানে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য, উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর আয়ক্ষমতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অর্থাৎ সমস্যা শুধু আয় কম হওয়ার নয়; ব্যাংকগুলোর আগের অনিয়ম ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনার দায়ও এখন বর্তমান আর্থিক ফলাফলে এসে পড়ছে।

২২ ব্যাংকের লোকসান

লোকসানে থাকা ২২ ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও রয়েছে এই তালিকায়। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে লোকসানে আছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। বেসরকারি খাতের ১৫ ব্যাংকও একই চাপে রয়েছে। ফলে সংকটটি কোনো একটি শ্রেণির ব্যাংকে আটকে নেই; সরকারি, বেসরকারি, বিশেষায়িত ও বিদেশি—সব ধরনের ব্যাংকেই এর ছাপ রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার মনে করেন, আগের সময়ে তৈরি হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব এখনো কাটেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সমস্যার ফলই বর্তমান লোকসান।

খেলাপি ঋণে বড় ধাক্কা

ব্যাংক খাতের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় প্রতিফলন খেলাপি ঋণে। ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকা নিয়মিতভাবে ফেরত আসছে না।

এতে ব্যাংকের নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হচ্ছে, আয় কমছে এবং খেলাপির বিপরীতে বিপুল অর্থ প্রভিশন হিসেবে আটকে রাখতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, একদিকে এক-তৃতীয়াংশ ঋণ খেলাপি, অন্যদিকে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যাংক লোকসানে—দুটি প্রবণতাই ব্যাংক খাতের দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে ৮৫ হাজার কোটি

তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার চাপও বেড়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা নিয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৭ হাজার কোটি, এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ ধরনের সহায়তা তাৎক্ষণিক নগদ সংকট সামাল দিতে পারে। কিন্তু মূল সমস্যা যদি হয় খেলাপি ঋণ, দুর্বল সম্পদ ও মূলধন ঘাটতি, তাহলে কেবল তারল্য জোগান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য ফেরানো কঠিন।

সামনে সংস্কারের কঠিন পরীক্ষা

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবও এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি কি না, সে প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সংখ্যা কমানোই একমাত্র সমাধান নয়। ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা, পরিচালনা পর্ষদে জবাবদিহি এবং ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা—সবকিছুকেই একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ, ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার পুঞ্জীভূত লোকসান কিংবা ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ কোনো এক বছরের সমস্যা নয়। এগুলো দীর্ঘদিনের দুর্বলতা জমে ওঠার ফল। এখন ব্যাংক খাতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখা নয়; বরং কেন বারবার এমন সংকট তৈরি হচ্ছে, সেই মূল কারণ দূর করা।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

কিউ-ক্যাশের সেবা চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে ৩০ ব্যাংকের লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
কিউ-ক্যাশের সেবা চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে ৩০ ব্যাংকের লেনদেন

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সেবা স্বাভাবিক হওয়ায় ৩০টি ব্যাংকের বন্ধ থাকা এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক লেনদেন আবার চালু হয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকের গ্রাহকেরা স্বাভাবিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের খুদে বার্তার মাধ্যমে কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা সচল হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। ব্যাংক এশিয়া জানিয়েছে, তাদের এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে।

এর আগে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট সেবা বিঘ্নিত হয়। এতে এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ডে কেনাকাটা ও বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকেরা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবার রাতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে স্যুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সেবা চালু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বন্ধ থাকা এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

কিউ-ক্যাশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের কারণে একযোগে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়েছিল। ব্যাংকগুলো জানিয়েছিল, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সেবা বন্ধ থাকতে পারে।

কিউ-ক্যাশের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

তবে কিউ-ক্যাশের সমস্যার কারণে দেশের সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিপিএস), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থাও সচল ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর

ইন্দোনেশিয়ার বাজারে ওষুধ-গার্মেন্টস রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
ইন্দোনেশিয়ার বাজারে ওষুধ-গার্মেন্টস রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব। এ জন্য বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধ, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পিটিএ, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য বিশ্বের শতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে দেশটির সহযোগিতা চান তিনি।

এ সময় জাকার্তায় বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের একক প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রদর্শনী আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রেও পরীক্ষাগার ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা এগোয়নি।

দুই দেশের মধ্যে পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা হলেও তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থমকে আছে। এ বিষয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনাকে বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয় এবং বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতিসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে: আবদুল মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে: আবদুল মঈন খান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে শিশুদের ভবিষ্যতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে। তাই শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মেরও। দেশকে ভালোবেসে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শিশুদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী শিশু অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির অনেক আগেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করেছিলেন। শিশুদের সুপ্ত শক্তি ও সম্ভাবনা বিকশিত করে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তাও তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।

মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির এ আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েছে। আজকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশুদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবনা শুরু করার অনেক আগেই ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কার্যক্রমে সুবিধাভোগী শিশুদের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও সমান সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি