খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভিসির পদত্যাগপত্রে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন। মামলায় জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল লুট ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর গভীর রাতে আব্দুস সালামকে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভিসিকে অপমান, লাঞ্ছিত, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে কাজের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের সঙ্গে এমন ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের ৪০ থেকে ৫০ নেতাকর্মী মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে আগে থেকে লেখা একটি পদত্যাগপত্রে ভিসিকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোক ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার তারা হঠাৎ তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে লাঞ্ছিত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। তাঁর দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভিসির একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, অস্ত্রের মুখে তাঁকেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো স্বাভাবিক পদত্যাগ নয়।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম দাবি করেছেন, তাঁতী দল, কৃষক দল, জিয়া মঞ্চ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে ভিসিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তবে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নজরুল হুদা আরও দাবি করেন, ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঠিকাদারি কাজ নিয়ে অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিসির বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে ‘মব’ বলা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল হুদা এটিকে ‘প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, জানাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, জানাল সরকার

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

ছুটির মধ্যে জরুরি পরিষেবাগুলো চালু থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ সংশ্লিষ্ট জরুরি কার্যক্রম এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজে সম্পৃক্ত অন্যান্য অফিসও প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা থাকবে।

ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

এ ছাড়া বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা সৌদি আরবের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা সৌদি আরবের

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আরবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটির আল-ইনমা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা।

শিরোপার লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সৌদি আরব। ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। হাম্মাম আল-হাম্মামির নেওয়া শট থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

দ্রুতই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম গোলের মাত্র দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ১৩ মিনিটে ফেরাস আল-ব্রেইকান গোল করে সৌদি আরবকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরতে পারেনি আমিরাত

দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আক্রমণে একাধিকবার সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেনি তারা।

ম্যাচের শেষদিকে আমিরাতের সামনে গোলের সুযোগ আসে পেনাল্টি থেকে। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এরপর আমিরাতের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সৌদি আরব।

২২ বছর পর শিরোপা

এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও আরবিয়ান গালফ কাপের ট্রফি নিজেদের করে নিল ‘গ্রিন ফ্যালকনস’।

সৌদি আরবের জন্য এটি গালফ কাপের চতুর্থ শিরোপা। এর আগে ১৯৯৪, ২০০২ ও ২০০৩ সালে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

নিজেদের মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিরোপা জয়ের ফলে জেদ্দায় উৎসবে মেতে ওঠেন সৌদি সমর্থকরা। মাঠের জয় ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরের উদযাপনে।

কালের আলো/জেএন

হানিফসহ চারজনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানি শেষ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
হানিফসহ চারজনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানি শেষ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। মামলার চার আসামিই পলাতক।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। তিনি চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাহবুব উল আলম হানিফ ভূমিকা রেখেছেন। দলীয় পদ ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যবহার করে তিনি অধীনস্থদের মাধ্যমে নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়।

প্রসিকিউটর আরও বলেন, একই রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে রায় হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় হানিফের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি