খুঁজুন
                               
, ,
           

২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা সৌদি আরবের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা সৌদি আরবের

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আরবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটির আল-ইনমা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা।

শিরোপার লড়াইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সৌদি আরব। ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। হাম্মাম আল-হাম্মামির নেওয়া শট থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

দ্রুতই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম গোলের মাত্র দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ১৩ মিনিটে ফেরাস আল-ব্রেইকান গোল করে সৌদি আরবকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরতে পারেনি আমিরাত

দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আক্রমণে একাধিকবার সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেনি তারা।

ম্যাচের শেষদিকে আমিরাতের সামনে গোলের সুযোগ আসে পেনাল্টি থেকে। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এরপর আমিরাতের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সৌদি আরব।

২২ বছর পর শিরোপা

এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও আরবিয়ান গালফ কাপের ট্রফি নিজেদের করে নিল ‘গ্রিন ফ্যালকনস’।

সৌদি আরবের জন্য এটি গালফ কাপের চতুর্থ শিরোপা। এর আগে ১৯৯৪, ২০০২ ও ২০০৩ সালে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

নিজেদের মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিরোপা জয়ের ফলে জেদ্দায় উৎসবে মেতে ওঠেন সৌদি সমর্থকরা। মাঠের জয় ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরের উদযাপনে।

কালের আলো/জেএন

সবজি পর্যাপ্ত, তবু বেগুনের কেজি ১২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
সবজি পর্যাপ্ত, তবু বেগুনের কেজি ১২০ টাকা

শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে, সরবরাহেও বড় কোনো ঘাটতি চোখে পড়ছে না। তারপরও রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও টমেটোর মতো কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের দামও আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা এবং কাঁকরোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম প্রকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৮০ টাকা এবং আকারভেদে লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অনেক পণ্যের দাম আগের অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতারা প্রত্যাশিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।

পরিবহন খরচকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা
মেরাদিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, আগের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে সামনে আরও দাম কমবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। তাঁর মতে, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রি করা কঠিন। বিক্রেতারা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। আব্দুস সালামের ভাষ্য, বাজারে কিছুটা দরপতন হলেও কয়েকটি সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। তাই আপাতত বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে তিনি মনে করছেন না।

মাছ-মাংসের দামেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। বাজারে দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। মাছের বাজারে আকার ও মানভেদে রুই মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা। বড় আকারের তেলাপিয়া ও পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০০ টাকা দরে। চিংড়ির দাম ৭৫০ টাকা এবং মলা মাছের দাম ৫০০ টাকা কেজি। ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি, মাছ ও মাংস—কোনো পণ্যের দামই তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে।

গত বছরের তুলনায় পটলের দাম বেশি
বাজার করতে আসা ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি কেজি পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। অথচ এবার তা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে পটলের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলেও জানান তিনি।

মশিউর রহমান বলেন, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় বাজার করতে গিয়ে কোনো স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে পরিবারের আয় বাড়ছে না। ফলে বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতো অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। বিশেষ করে বেগুন ও পটলের মতো পরিচিত সবজি কিনতেও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দামে সংসার চালানো কঠিন
আরেক ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে মুদি পণ্য—কোনো বাজারেই স্বস্তি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তাঁর মতো সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে সংসার চালানো আরও কঠিন হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাজার তদারকি জোরদারের দাবি ক্রেতাদের
ক্রেতাদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কেন অনেক সবজির দাম বেশি থাকছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। মনির হোসেনের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখার জন্য বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমবে—এমন প্রত্যাশা ক্রেতাদের। তবে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ের প্রভাব, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান এবং বাজার তদারকির কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশই বহন করেন রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশই বহন করেন রোগীরা

চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের অসংখ্য মানুষ আর্থিক সংকটে পড়ছেন, এমনকি অনেককে দারিদ্র্যসীমার নিচেও নেমে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চিকিৎসার ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার, ওষুধের সহজলভ্যতা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি
কারওয়ানবাজারের ডেইলি স্টার ভবনে মঙ্গলবার (১১ জুন) সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) ফোরাম ও ডেইলি স্টারের যৌথ আয়োজনে ‘পাবলিক হেলথ এক্সপেন্ডিচার: এ ক্রিটিক্যাল চ্যালেঞ্জ ইন এনশিউরিং হেলথ কেয়ার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার পরিধি বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সৈয়দ রুবায়েত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল হেলথ এক্সপেন্ডিচার ডেটাবেজের তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে কম ব্যয় করে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যয় কম
ডা. সৈয়দ রুবায়েতের উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য সরকার গড়ে ২৬ ডলার ব্যয় করেছে। একই সময়ে মিয়ানমারে জনপ্রতি সরকারি ব্যয় ছিল ৪৮ ডলার, পাকিস্তানে ৪৯ ডলার, নেপালে ৭৬ ডলার, ভারতে ৮১ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ২৮৩ ডলার। মালদ্বীপে এ ব্যয় ছিল জনপ্রতি গড়ে ১ হাজার ৪৭৯ ডলার। তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয়ের আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে কম ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যেও রয়েছে। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে আনা কঠিন হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ রোগীর নিজের পকেট থেকে
মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ রোগীদের নিজেদের বহন করতে হয়েছে। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দশকের বেশি সময়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রোগীর নিজস্ব অর্থের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

ডা. সৈয়দ রুবায়েত বলেন, ২০৩২ সালের মধ্যে রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের হার ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দেশে প্রায় ৮৬ লাখ ১০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছেন বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, রোগীর ওপর থেকে চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝা কমাতে সরকারি অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিজেরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকেরা দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চাপ তৈরি হতো। তিনি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ভিআইপিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া বন্ধের দাবি জানান।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান
কেয়ার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচির পরিচালক ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার বলেন, দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো আরও উন্নত ও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। রোগী ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি সেবার পরিধি বাড়াতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান কাঠামোকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারলে মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারবেন। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরে যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত অর্থে ব্যয় করার চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়া ও দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ
প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল বলেন, স্বাস্থ্যখাতে রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাতে বাজেটের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবছর প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে না, ফলে ওই অর্থ ফেরত যায়। তিনি বলেন, একদিকে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম, অন্যদিকে বরাদ্দ করা অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার না হওয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এ কারণে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

সরকারি ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব
শিশির মোড়ল আরও বলেন, রোগীদের নিজস্ব ব্যয়ের বড় একটি অংশ ওষুধ কেনার পেছনে যায়। বিভিন্ন সময়ে ওষুধের দাম বাড়ায় চিকিৎসার মোট ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় ওষুধের উৎপাদন বাড়িয়ে তা সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা সহজলভ্য মূল্যে রোগীদের সরবরাহ করা গেলে ব্যক্তিগত ব্যয়ের চাপ কমতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইশরাত জাহান বলেন, দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ জটিল রোগে ভুগছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৪২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জটিল রোগে আক্রান্ত এবং তাঁদের গড় আয়ু অন্যদের তুলনায় ১০ থেকে ২০ বছর কম।তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ বা পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা নেই। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিমা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোট বাজেটের প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচ্য বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। তিনি বলেন, সীমিত বরাদ্দের অর্থও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সংকুচিত হচ্ছে এবং রোগীদের নিজস্ব ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ওষুধের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, আইসিডিডিআরবির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ এহসানুর রহমান, নারী পক্ষের প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরিন, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশন, নারী মৈত্রী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, মেরী স্টোপস, আইপাস বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। বক্তাদের বক্তব্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ানো, বাজেটের অর্থের যথাযথ ব্যবহার, ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁদের মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ড. নজীবুরের মৃত্যু সামনে আনল মানবিক বোধের সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ড. নজীবুরের মৃত্যু সামনে আনল মানবিক বোধের সংকট

ড. নজীবুরের মৃত্যুর ঘটনা মানুষের কাণ্ডজ্ঞান ও মানবিক বোধের সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুস সাকিব রহমান। তাঁর মতে, মানুষ অনেক সময় নিয়মকানুন জানলেও কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে মানবিক আচরণ করতে হবে, সেই বোধ হারিয়ে ফেলে।

নাজমুস সাকিব রহমান বলেন, ‘ড. নজীবুরের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের কাণ্ডজ্ঞান বা কমনসেন্সের সংকট সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা অনেক সময় নিয়মকানুন জানি, কিন্তু কখন কোথায় মানবিক আচরণ করতে হবে, সেই বোধটুকু হারিয়ে ফেলি।’

গণপরিবহনে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ

গণপরিবহনে মানুষের পারস্পরিক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ আজ অন্যের সহযোগিতা চাইতে পারেন, আবার কাল একই পরিস্থিতিতে অন্য কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ‘গণপরিবহনে সহানুভূতি পারস্পরিক দায়িত্ববোধের অংশ। আজ একজন অন্যের সহযোগিতা চাইছেন, কাল সেই পরিস্থিতিতে আমরাও পড়তে পারি। তাই পরিস্থিতি বুঝে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে জরুরি।’

মানবিক আচরণের প্রয়োজনীয়তা

নাজমুস সাকিব রহমানের বক্তব্যে গণপরিবহনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, শুধু নিয়মকানুন জানা যথেষ্ট নয়; বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষের প্রয়োজন বুঝে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি