খুঁজুন
                               
, ,
           

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিযান, শেষ পর্যন্ত কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিযান, শেষ পর্যন্ত কি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যেই সক্রিয় হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’। জোটের প্রথম জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে পাকিস্তানকে ঘিরে—ইসলামাবাদ কি শুধু সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী আপাতত সহায়ক ও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও তুরস্কের বাহিনী রিকনেসান্সসহ বিভিন্ন সহায়ক কাজে যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনে মূল লড়াই করছে সৌদি বাহিনী।

প্রথমবার কার্যকর হলো ‘মক্কা চুক্তি’

গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৫ অক্টোবর রিয়াদে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চুক্তিটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জোটের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন মেনে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাহিনীর আকার কিংবা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন, হুতিদের হামলা এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে জোটের কাঠামোর মধ্যে থেকে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে।

পাকিস্তানের ভূমিকা কতটা?

জরুরি বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদিতে তাদের ভূমিকা পালন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের বাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং রিকনেসান্সসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছে। তবে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই মূলত সৌদি বাহিনীই পরিচালনা করছে।

এ বক্তব্য থেকেই আপাতত পাকিস্তানের অবস্থান অনেকটা স্পষ্ট—ইসলামাবাদ সৌদি আরবকে রক্ষায় পাশে থাকতে চায়, কিন্তু ইয়েমেনের মাটিতে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে।

তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, সৌদি আরবের অভিযান যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা ইয়েমেনে স্থলভাগে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের পক্ষে এই সীমারেখা কতটা বজায় রাখা সম্ভব হবে?

সৌদিতে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়

সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি বহু পুরোনো। ১৯৬৭ সাল থেকেই পাকিস্তান সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা প্রেষণের বিষয়টি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান বড় ধরনের সামরিক দল পাঠিয়েছিল।

এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—এক দেশের ওপর হামলাকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।

এ বছর এপ্রিলেও সৌদি আরব নিশ্চিত করে যে পাকিস্তানের একটি সামরিক বহর, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান রয়েছে, দেশটির কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে সৌদিতে ঠিক কত পাকিস্তানি সেনা রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

পাকিস্তান কি ইয়েমেনে হামলায় অংশ নেবে?

এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। সৌদি আরব ইতোমধ্যে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পাল্টা অভিযানে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর লক্ষ্যও এখন শুধু সাম্প্রতিক সময়ে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে সীমাবদ্ধ নেই। তারা রাজধানী সানা পুনর্দখলের কথাও বলছে। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। কারণ সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা আর ইয়েমেনের ভেতরে ঢুকে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা—দুটি একেবারেই ভিন্ন সামরিক অবস্থান।

পাকিস্তানের সামনে ইরানের সতর্কবার্তা

পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, ইয়েমেনে নতুন করে কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানি সেনারা যদি সৌদি ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটি এক বিষয়। কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিলে সেটিকে তেহরান ভিন্নভাবে দেখতে পারে।

অর্থাৎ পাকিস্তানের জন্য সীমারেখাটি খুব স্পষ্ট—সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নাকি ইয়েমেনে আক্রমণ।

কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে পাকিস্তান?

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান সম্ভবত বিশাল স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিবর্তে বিশেষায়িত সামরিক সক্ষমতা দিয়ে সৌদিকে সহায়তা করতে পারে।

এর মধ্যে থাকতে পারে—আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, যুদ্ধক্ষেত্রের যোগাযোগব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট, বিশেষায়িত সামরিক দল।

এ ধরনের সহায়তা পাকিস্তানকে সৌদি প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে, একই সঙ্গে ইয়েমেনের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম রাখবে।

তুরস্কের ভূমিকাও এখনও সীমিত

মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও রয়েছে। তবে আঙ্কারার সামরিক ভূমিকা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তুরস্কের পক্ষ থেকে সৌদিকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে চুক্তিটি তুর্কি পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে তুরস্কের অংশগ্রহণও আপাতত সরাসরি স্থলযুদ্ধের বদলে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে।

সৌদি আরব আসলে কী চায়?

বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ আপাতত এমন একটি অভিযান চায়, যার মাধ্যমে হুতিদের হামলা ঠেকিয়ে সৌদি ভূখণ্ডে আবারও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করা যায়।

কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি সৌদি নেতৃত্ব হুতিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে কিংবা সানা পুনর্দখলের মতো বড় লক্ষ্য নেয়।

কারণ সে ক্ষেত্রে অভিযান স্বল্পমেয়াদি না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আর তখন পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো মিত্রদের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়বে।

তাহলে কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

এই মুহূর্তে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে প্রবেশের ঘোষণা দেয়নি। বরং ইসলামাবাদ বারবার তাদের ভূমিকা ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে তুলে ধরছে।

তবে সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়লে, ইয়েমেনে অভিযান দীর্ঘ হলে কিংবা সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার সংজ্ঞা যদি আরও বিস্তৃত হয়—তাহলে পাকিস্তানের জন্য সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আর এখানেই সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক পরীক্ষা ইসলামাবাদের।

একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে ইয়েমেন সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, প্রশ্নটা এখন শুধু পাকিস্তান যুদ্ধে জড়াবে কি না—তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সৌদি আরবকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান ঠিক কোথায় নিজের সামরিক সীমারেখা টানবে।

কালের আলো/জেএন

দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান দুর্যোগমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান দুর্যোগমন্ত্রী

ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

উভয় পক্ষই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদায় মিঠুন

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদায় মিঠুন

পর্দায় একসময় ছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। এবার বাস্তবের প্রশাসনিক কাঠামোতেও মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন সেই মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয়জগতের ‘মহাগুরু’ এবার যুক্ত হলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে—তাও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সিনেমার পর্দা থেকে প্রশাসনের অন্দরমহলে

মিঠুনের এই নতুন অধ্যায় অবশ্য একেবারে আকস্মিক নয়। সম্প্রতি উত্তর কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মিঠুনকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর এবার এলো সরকারি বিজ্ঞপ্তি। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আইএএস সেল থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এতদিন যিনি মূলত চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন, এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক প্রশাসনের সঙ্গেও যুক্ত হলেন।

দায়িত্বটা ঠিক কী?

মিঠুনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তিনি থাকছেন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে। তবে তার পদমর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য। তার নির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিধি পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। তবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাজ্যের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, শিল্প ও বিনোদনজগতের বিভিন্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মিঠুন বাংলায় চলচ্চিত্র নির্মাণ বাড়ানো এবং স্থানীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলায় শুটিং করা চলচ্চিত্রের জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাবও তিনি সরকারের কাছে তুলেছিলেন।

পাঁচ দশকের অভিনয়, এবার নতুন মঞ্চ

মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয়জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। বাংলা ও হিন্দি—দুই চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে ‘মৃগয়া’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম সিনেমাতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাকে পৌঁছে দেয় ভারতজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তার শিখরে। ‘সুরক্ষা’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘অগ্নিপথ’, ‘গোলমাল থ্রি’, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বাংলা সিনেমাতেও তার অবদান দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতিতেও বদলেছে পথ

অভিনয়ের পাশাপাশি মিঠুনের রাজনৈতিক যাত্রাও কম আলোচিত নয়। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি এবং রাজ্যসভায় সংসদ সদস্যও হন। পরে ২০১৬ সালে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গেছে তাকে। এবার সেই রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত হলো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক দায়িত্বও।

‘মহাগুরু’র সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

মিঠুনের জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার মানুষের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। সেই জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকেই এবার সরকারি কাজে ব্যবহার করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়া, বাংলায় সিনেমার শুটিং বাড়ানো এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিসরকে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার।

একসময় পর্দায় ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ হয়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এবার অবশ্য কোনো সিনেমার গল্প নয়—বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে সরকারি দায়িত্বে নামছেন সেই ‘মহাগুরু’।

কালের আলো/জেএন

ছয় বছরেও হয়নি নতুন ভবন, ১৯ শয্যায় চলছে কয়রা হাসপাতাল

খুলনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ছয় বছরেও হয়নি নতুন ভবন, ১৯ শয্যায় চলছে কয়রা হাসপাতাল

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে ১৯ শয্যার অবকাঠামোয় চলছে চিকিৎসাসেবা। ছয় বছর আগে ৩১ শয্যার পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো অবকাঠামোগত সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও অনুমোদিত শয্যার অর্ধেকেরও কম অবকাঠামোয় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শয্যা, ভবন ও জনবলসংকটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের উপকূলীয় এলাকার মানুষও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উপজেলা পর্যায়ের এই সরকারি হাসপাতালটি অন্যতম প্রধান ভরসা। রোগীর চাপ বাড়লে সীমিত শয্যার কারণে তাদের ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জায়গীর মহল গ্রামের বাসিন্দা শাহ হিরো বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া নিয়ে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। রাতে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি সব সময় ব্যবহার করা যায় না।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কয়রায় পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি দুর্ঘটনা, প্রসূতি জটিলতা ও বিভিন্ন জরুরি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হাসপাতালে আসেন। বর্ষা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। দুর্যোগের সময় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে দূরের হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও বছরের পর বছর কাজ ঝুলে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতিও হাসপাতালটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল না থাকলে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম রাজিব বলেন, ভবন ও জনবলসংকটের কারণে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কয়রা দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় উপজেলা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার মতো নানা ঝুঁকির মধ্যে এখানকার মানুষের বসবাস। দুর্যোগের সময় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালটির সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা।

সুন্দরবন ইকো-রিজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভের সমন্বয়ক মো. হাফিজুর রহমান মিস্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো সাধারণ এলাকার তুলনায় আরও সক্ষম হওয়া প্রয়োজন। দুর্যোগের সময় একসঙ্গে অনেক মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় পড়তে পারেন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নতুন ভবন ও ৫০ শয্যার সেবা চালুর কথা শোনা গেলেও বাস্তবে মানুষ এখনো ১৯ শয্যার হাসপাতালের ওপর নির্ভর করছে। এতদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়া দুঃখজনক।

তাঁর মতে, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, জরুরি সেবা ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

কয়রার মতো দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে নয়, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত। তাই ছয় বছর ধরে চলা অবকাঠামোগত সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং অনুমোদিত ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা কবে চালু হবে, সেটিই এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান প্রশ্ন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি