খুঁজুন
                               
, ,
           

মাদ্রাসা নিয়োগে বড় বদল, কমিশন বিলুপ্ত করল পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মাদ্রাসা নিয়োগে বড় বদল, কমিশন বিলুপ্ত করল পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পৃথক ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নিয়োগব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনা এবং প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কার্যকর করতে বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল ও সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

কেন বিলুপ্ত করা হলো মাদ্রাসা কমিশন?

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যেই মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম, অনুমোদন, অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানো হয়।

সরকারের যুক্তি, মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

মাদ্রাসা কমিশন বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের আগে রাজ্য সরকার ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সমীক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরিচালনব্যবস্থা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। যেসব মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মকানুন রয়েছে, সেগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে অনিয়মের তথ্য

রাজ্য সরকারের পরিচালিত সমীক্ষায় বেশ কিছু মাদ্রাসার নিবন্ধন ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে। বিশেষ করে সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর দেওয়া হয়।

সরকারের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো তাদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এ ধরনের সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই কার্যকর

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। ফলে কমিশন বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে দিতে সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তন করতে হবে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ জন্য বিধানসভায় পৃথক বিল আনা হবে—একটি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিলের জন্য এবং অন্যটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য। বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর তা রাজ্যপালের অনুমোদন পেলে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও বদল

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তরের অধীনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে।

ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোয় একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে?

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত হলে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পৃথক কমিশন আর থাকবে না। নতুন কাঠামোয় স্কুল সার্ভিস কমিশনই মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে।

তবে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হবে না। এখন মূল নজর বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিল কবে আনা হয় এবং নতুন নিয়োগ কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, সেদিকে।

কালের আলো/জেএন

মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা বাড়িয়ে ২০০ করতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা বাড়িয়ে ২০০ করতে চায় সরকার

পুষ্টির সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে ৮ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। এ বছর দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী। দেশে বর্তমানে বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা প্রায় ১৩৭টি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে ৬ কোটির বেশি ডিম।

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।

১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০ বছর পূর্ণ হলো।

এবারের ৩০তম বার্ষিকীতে ‘এগউইন’ নামে একটি মাসকট চালু করা হয়েছে। সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডিমে থাকা লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

দেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন খামারিরা। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার নানা সমস্যায় খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

ফলে অনেক সময় ভোক্তাকে বেশি দামে ডিম কিনতে হলেও খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এতে বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

শিশুদের অপুষ্টি ও খর্বকায়তা কমানো এবং মেধার বিকাশে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে চীন। দেশটিতে বছরে প্রায় ৬১৭ বিলিয়ন বা ৬১ হাজার ৭০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

অন্যদিকে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটিতে বছরে গড়ে একজন মানুষ ৪০৯টি ডিম খান। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের ব্যবহার গড়ে ২৭০ থেকে ৩০০টির মধ্যে।

সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম। উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশে এর ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সৌদিতে বিমানবন্দরে হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৩৬

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
সৌদিতে বিমানবন্দরে হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৩৬

সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

মঙ্গলবার ও বুধবার (৬ ও ৭ অক্টোবর) রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব হামলা হয়। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের আঘাত সামান্য থেকে গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তবে আহত বাংলাদেশির পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন এবং আবহা বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে হামলার জন্য সরাসরি কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত বেড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

৪ কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে, নেই চলাচলের রাস্তা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
৪ কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে, নেই চলাচলের রাস্তা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু এখনো চলাচলের জন্য পুরোপুরি চালু হয়নি। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পরও এটি স্থানীয় মানুষের কাজে আসছে না। এতে কামারচাক ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর কামারচাক ইউনিয়নের কামারচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই খেয়াঘাট সড়কের আওতায় লাঘাটা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতুটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি) কাজের কার্যাদেশ পায়।

২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সেতুটির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়। তবে দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের আগে তাদের মধ্যে যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল, সংযোগ সড়ক না থাকায় তা পূরণ হয়নি। দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষকে এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি বেশি। বর্ষাকালে লাঘাটা নদী নৌকায় পার হতে হয়। এছাড়া কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নিতে বাড়তি খরচ হওয়ায় কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ মিয়া বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুরু হলে তারা ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও তাদের দুর্ভোগ কমেনি। বর্ষাকালে এখনো নৌকায় নদী পার হতে হয়। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানান তিনি।

এদিকে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমে মাটির ব্যবস্থা না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজও বিলম্বিত হয়েছে।

এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ নিয়েও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি