খুঁজুন
                               
, ,
           

কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির অর্থায়নে নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির অর্থায়নে নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন ও এ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির অনুসন্ধানে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির ফ্যাব্রিক ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

মামলার আসামিরা হলেন কেএনএফের প্রধান নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বম (৪৯), মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) ও মো. মতিউর রহমান (৪৩)।

সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গোডাউন ও একটি গার্মেন্টস কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ কেএনএফ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। প্রতিটি সেটে ছিল একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট।

এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। পরে ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।

সিআইডির অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ফ্যাব্রিক তৈরি ও ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

সিআইডির দাবি, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা প্রথমে নিয়াজ হায়দার এবং পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের ফ্যাব্রিক তৈরির ব্যবস্থা করেন।

সিআইডি জানায়, ফ্যাব্রিক তৈরির জন্য ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০ হাজার সেট শার্ট-প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডির ভাষ্য, অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেন—এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা নম্বর-১৩ দায়ের করা হয়। মামলায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তে কেএনএফের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য অর্থের উৎস ও প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন এবং এ আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ছুটে গেল ৪ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ছুটে গেল ৪ ইউনিট

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামগড়া এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মামুন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তুলার গোডাউনে আগুন লাগার খবর পান তারা। খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছিল। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে গুলি করে তিন কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় গজারি বনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের চার কোটি টাকা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নরসিংদী থেকে প্রাইভেটকারে করে নেওয়া হচ্ছিল। গাড়িটি শ্রীপুরের কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গুলি ছুড়ে গাড়িটির গতিরোধ করেন।

এ সময় হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা টাকা ভর্তি তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দুটি বস্তায় তিন কোটি টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে চালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদও আহত হন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি, দিন শেষে বাংলাদেশের ৩১৭

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি, দিন শেষে বাংলাদেশের ৩১৭

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পেলেও দিনের দ্বিতীয় ও শেষ সেশনে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেছেন তানজিদ হাসান। সাদমান ইসলাম করেছেন ৬৭ রান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনের শুরুতে তানজিদ ও সাদমানের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ১২৪ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন তানজিদ। অন্যদিকে ১১১ বল মোকাবিলা করে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন সাদমান।

ওপেনিং জুটি ভাঙার পরও ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল হক করেন ৩৯ রান। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২২১ রান। কিন্তু এরপর দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৯ রান। ফলে ২২১ থেকে ২২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দল। ৮৯ বলে ৫৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ করেন ২৪ রান। লিটনের হাফসেঞ্চুরিতে তিনশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। তবে সপ্তম উইকেট হিসেবে লিটন আউট হলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

দিনের খেলা শেষে নাঈম হাসান ১১ এবং তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইয়ামিন আহমদজাই ও ইসমত আলম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন কায়েস আহমেদ।

প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিনশ ছাড়ালেও শেষ সেশনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পিচে স্পিনারদের টার্ন ও পেসারদের রিভার্স সুইং থাকায় পরের দিন ম্যাচে লড়াই আরও জমে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি