খুঁজুন
                               
, ,
           

গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং দুই দেশের কারিগরি দল কাজ করছে। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হয়। তবে ওই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তির পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর লক্ষ্য

পদ্মা ব্যারেজকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বড় একটি প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

সোনার চোরাচালানে এখন আর শুধু বার, বিস্কুট কিংবা কোমরে বাঁধা প্যাকেটের ওপর নির্ভর করছে না পাচারকারীরা। ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে বদলে যাচ্ছে কৌশল, বদলাচ্ছে সোনার আকৃতি ও লুকানোর জায়গা। কখনো পেস্ট বানিয়ে পায়ুপথে, কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাপড়ে মিশিয়ে, আবার কখনো বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে সোনা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট সেই বদলে যাওয়া কৌশলেরই নতুন উদাহরণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সোনা উদ্ধারের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওইদিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে সোনা চোরাচালানের গোপন তথ্য পায় ঢাকা কাস্টম হাউস। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেন সংস্থাটির গোয়েন্দারা।

  • পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির পেস্ট, জুতায় ৮০ বার
  • পোশাকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়ও চালান
  • নতুন কৌশলে চোরাচালানের বিস্তার

একপর্যায়ে ওই ফ্লাইটে আসা আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোর ভেতরে ছিল সোনার পেস্ট।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট ছিল। সোনার বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট। পেস্টগুলো পরিশোধনের পর আনুমানিক এক কেজি সোনা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

বার থেকে পেস্ট, বদলাচ্ছে কৌশল
শাহজালালে সোনা আটকের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—চোরাচালানকারীরা প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সোনা বহনের নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। কখনো সোনা আনা হচ্ছে বার বা বিস্কুট আকারে, আবার কখনো গলিয়ে পেস্ট কিংবা গুঁড়ায় রূপান্তর করা হচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে মিশিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে।

এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য তল্লাশি এড়িয়ে চালান গন্তব্যে পৌঁছানো। সোনার প্রচলিত আকৃতি বদলে ফেললে সাধারণ তল্লাশিতে তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু ধাতব বস্তু শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত বছর এপ্রিলেও দুবাই থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর পোশাক থেকে সোনার মতো গুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। চার জোড়া অন্তর্বাস, একটি প্যান্ট ও তিনটি টি-শার্টে ওই পদার্থ লুকানো ছিল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর সেখান থেকে প্রায় ২ কেজি ৪১৭ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।

জুতার ভেতর ৯ কেজির বেশি সোনা
চোরাচালানে শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বিমানকর্মীদেরও ব্যবহার করার নজির রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার (০৪ অক্টোবর) উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বারগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিশেষ কায়দায় জুতার ভেতরে বারগুলো লুকানো হয়েছিল। এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিমানবন্দরে চোরাচালানের ঝুঁকি শুধু বহিরাগত যাত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে চোরাচালানকারীরা। ফলে নিরাপত্তা ও নজরদারির আওতা শুধু যাত্রী তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ রাখলে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

টয়লেট-সিটের নিচেও চালান
সোনা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে বাহকের শরীর বা লাগেজে সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো উড়োজাহাজের টয়লেট, কখনো সিটের নিচের অংশ, আবার কখনো বিমানবন্দরের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থানে সোনা রেখে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এতে বোঝা যায়, চোরাচালান শুধু একজন বাহকের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নির্দিষ্ট রুট, সহযোগী এবং বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চালান পরিচালনার চেষ্টা থাকতে পারে। তাই যাত্রী তল্লাশির পাশাপাশি উড়োজাহাজ, বিমানকর্মী ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গোপন তথ্যই বড় চালান ধরার চাবি
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে গোপন তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির গুরুত্বও স্পষ্ট। সর্বশেষ সোনার পেস্ট উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেছিল ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

বিপুলসংখ্যক যাত্রীর মধ্য থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ভ্রমণপথ, আচরণ, লাগেজের ধরন ও পূর্ববর্তী তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে চোরাচালানের নতুন কৌশল শনাক্ত করার সুযোগও বাড়বে।

উদ্ধার বাড়ছে, প্রশ্ন থাকছে নেটওয়ার্ক নিয়ে
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৫৩ দশমিক ৭২৭ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে।

তবে একটি চালান আটক করাই চোরাচালান বন্ধের শেষ কথা নয়। একটি চালান ধরা পড়ার পর একই চক্র নতুন পদ্ধতিতে আবার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ফলে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণের পাশাপাশি চোরাচালানের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং দেশে-বিদেশে জড়িত সহযোগীদের চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন কৌশলের বিপরীতে নজরদারি
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান সর্বশেষ ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে সোনার বার, বিস্কুট ও জামাকাপড়ে লুকানো সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

চোরাচালানকারীরা যখন সোনার আকৃতি ও বহনের পদ্ধতি বদলাচ্ছে, তখন নজরদারির কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট উদ্ধারের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

শাহজালালে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনা তাই শুধু একটি চালান আটকের ঘটনা নয়। এটি দেখাচ্ছে, চোরাচালানের কৌশল ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একটি পদ্ধতি বন্ধ হওয়ার পর আরেকটি পদ্ধতি সামনে আসার আগেই তা শনাক্ত করতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আরও সমন্বিত, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রয়োজন।

কালের আলো/জিএন/এমকে

খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে তাঁর পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা খতিবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর আদর্শের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় মসজিদের খতিবকে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা মুফতি আব্দুল মালেককে স্বপদে বহাল রেখে তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায়ের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; বরং ইসলাম সব মুসলমানের। মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্যের পর জামায়াতপন্থীদের একাংশ সমালোচনা শুরু করে। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। এ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার অনেক আলেমও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে দিনটিতে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের পরিচিত গবেষক আলেমদের একজন। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁর পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি