গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী
ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং দুই দেশের কারিগরি দল কাজ করছে। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হয়। তবে ওই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তির পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরুর লক্ষ্য
পদ্মা ব্যারেজকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।
তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বড় একটি প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array