খুঁজুন
                               
, ,
           

১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে ‘জেন জ়ি’ ঝড়?

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে ‘জেন জ়ি’ ঝড়?

দিল্লির রাজপথ কি ফের উত্তাল হতে চলেছে? ১০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কক্রোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিকে ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই সামনে। দলের দাবি, এটি নিছক কোনও রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ নয়; যুবসমাজ ও জেন জ়ি-র গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বৃহত্তর প্রতিবাদ। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে ফর্ম ৬—প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার এই বিষয়গুলোকেই নাগরিকের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে পরিণত করে আন্দোলনের পরিধি বাড়াতে চাইছে তারা।

যন্তর মন্তর শুধু জায়গা নয়, প্রতিরোধের প্রতীক
দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাশের বক্তব্যে কর্মসূচির কৌশলও স্পষ্ট। যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশ বাধা দিলে যে জায়গায় থামানো হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনও স্থান নয়, প্রতিবাদের ধারাবাহিকতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। নেতাদের আগাম আটক বা গ্রেফতারের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সৌরভ। তাঁর বার্তা, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আন্দোলন থামবে না। এই অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে নিছক প্রতীকী বিক্ষোভ হিসেবে দেখছে না কক্রোচ জনতা পার্টি। বরং পুলিশি বাধা বা গ্রেফতারকেও আন্দোলনের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ করে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে।

  • সেনা পরিবারের উঠান থেকে বাম ছাত্ররাজনীতির সামনের সারিতে
  • নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে নতুন মুখ নেহা বোরা

ফর্ম ৬ থেকে ভোটাধিকার—ইস্যুর বিস্তার
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা এবং ফর্ম ৬। দলের অভিযোগ, ফর্ম ৬ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া পর্যবেক্ষণের অসঙ্গতি রয়েছে। এই দাবির আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনের প্রক্রিয়া সরাসরি নাগরিকের ভোটাধিকারকে স্পর্শ করে।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাকে তাই বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে নিয়ে যেতে চাইছেন। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে, এই ইস্যু রাজনৈতিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ নাগরিকের উদ্বেগে পরিণত হয় কি না তার ওপর।

নিটের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে
এই আন্দোলনের আবহে নেহা বোরার উপস্থিতি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। নিট নিয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত জুন-জুলাইয়ে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে টানা ২৩ দিনের অনশনে অংশ নিয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান জেএনইউর এই পিএইচডি গবেষক। কয়েক মাসের মধ্যেই ফের রাজপথে তিনি। এবার লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটকও হন নেহা।

একই সঙ্গে থিয়েটারকর্মী ও এআইএসএর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা এখন ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক বক্তব্যে থিয়েটারের প্রভাবও লক্ষণীয়—আবেগ, গল্প বলার ভঙ্গি এবং মঞ্চসুলভ উপস্থাপনা তাঁকে অন্য অনেক ছাত্রনেতার থেকে আলাদা করেছে।

সেনা পরিবারের উঠান থেকে বাম রাজনীতির ময়দান
নেহার রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তাঁর পারিবারিক পটভূমি। উত্তরাখণ্ডের খতিমায় জন্ম। বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় ছোটবেলা কেটেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শিলিগুড়িতে পড়াশোনার সময় শিল্প, বিতর্ক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। চারু মজুমদার, পাবলো নেরুদা ও অরুন্ধতী রায়ের লেখার সঙ্গে পরিচয় তাঁর চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলে। পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়ে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১০ অক্টোবর কি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করবে?
আগামী ১০ অক্টোবরের গুরুত্ব তাই শুধু জমায়েতের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ক্ষোভকে কতটা বৃহত্তর নাগরিক অসন্তোষে রূপ দেওয়া যায়, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। সেই জায়গায় নেহা বোরার মতো তরুণ মুখের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনীতিতে প্রজন্ম বদলের লক্ষণ শুধু নতুন সংগঠনের উত্থানে দেখা যায় না; পুরনো প্রশ্নকে নতুন ভাষায় তুলে ধরার মধ্যেও তার প্রকাশ ঘটে। ভোটার তালিকা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন যদি সত্যিই জেন জ়ি-র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়, তবে ১০ অক্টোবরের দিল্লির রাজপথ শুধু আরেকটি বিক্ষোভের সাক্ষী থাকবে না—তা হয়ে উঠতে পারে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

কালের আলো/জিএম/এমকে

আদালতে পলকের ক্ষোভ, পিপিকে বললেন ‘আমার স্থান বেশি দূরে নয়’

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
আদালতে পলকের ক্ষোভ, পিপিকে বললেন ‘আমার স্থান বেশি দূরে নয়’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করার সময় পেছনে হাতকড়া পরানো ও লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি দিয়ে ষষ্ঠ তলায় ওঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরকে (পিপি) উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘পিপি সাহেবের বোঝা উচিত, তার সেই স্থান থেকে আমার এই স্থান বেশি দূরে নয়।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালতে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন পলক।

আদালতে পলক বলেন, ‘হাতকড়ি পেছনে দিয়ে আমাকে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, হাতকড়ি সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

আদালত থেকে নামার সময়ও তিনি প্রশ্ন করেন, ‘লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?’

পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, আদালতে আনার সময় লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও পলককে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। তাদের হাতে জংধরা হ্যান্ডকাফ এবং পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও ছিল। এসব কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, এ মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে বিচারক মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্র জানায়, এদিন কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। বাকি ২৪ জন শুরু থেকেই পলাতক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই ঘটনায় ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ আরও অনেকে। এ মামলায় পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে গুলি, গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে গুলি, গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা। পরে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াছিনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল। পুলিশের উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পরে অভিযান চালিয়ে ইয়াছিনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি ও অস্ত্র মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পাহাড়ের ভেতরে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় জমি দখল, পাহাড় কাটা, প্লট বিক্রি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ইয়াছিন বাহিনী অন্যতম। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলীনগর এলাকায় ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণ ছিল।

এর আগে গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। ওই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সময়মতো চিকিৎসায় দৃষ্টিজনিত সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
সময়মতো চিকিৎসায় দৃষ্টিজনিত সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার ও এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত এমপি।

তিনি বলেন, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) যৌথ উদ্যোগে ‘লাভ ইয়োর আইজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়। শুরুতে র‍্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে ড. দুর্গা পি. পাওডিয়াল কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভালো দৃষ্টিশক্তি মানুষের শিক্ষা, কাজ, নিরাপদে চলাফেরা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা পাওয়া গেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে পারলে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

আলোচনায় আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, ২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভে অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তির সমস্যার প্রভাব শুধু চোখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা, কর্মক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন বলেন, চশমা ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার মতো সহজ সেবাও মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চশমা পড়াশোনা, জীবিকা অর্জন, নিরাপদে চলাফেরা এবং নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির।

এ ছাড়া আইএপিবির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কান্ট্রি চেয়ার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জিন্নু রেইন (নিউটন), ওএসবির প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে চোখের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য ও মানসম্মত চোখের চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি