খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা তৈরি না হয়।

রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। তারা বিগত সরকারের সময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত করার অভিযোগ করেন।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানান। তাদের বক্তব্য শোনার পর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খানসহ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন আর তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ পথে এগিয়ে নেওয়া—এই তিন লক্ষ্য অর্জনে খেলার মাঠকে কার্যকর শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর মতে, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। ক্রীড়াচর্চা ছড়িয়ে দিতে পারলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যও সুদৃঢ় হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

  • মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
  • শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্ব

মাদকমুক্ত সমাজের পথ খেলার মাঠ
তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমেই মাদক মুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দুরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সুস্থ ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, তরুণদের শুধু মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি করতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দলগত কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

খেলাধুলায় গড়ে উঠবে সক্ষম প্রজন্ম
তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিকাশের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খেলাধূলা একটি জাতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

মাঠের খেলা, সমাজের মেলবন্ধন
খেলাধুলার সামাজিক ভূমিকা ব্যাখ্যা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধূলা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না তার সঙ্গে দর্শক, আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ফলে এধরণের খেলাধূলার আয়োজন একটি মিলন মেলায় পরিণত হয় যা সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’

নান্দাইলের এই আয়োজনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা ও সুস্থ সমাজ গঠনের যে লক্ষ্য প্রতিমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে ক্রীড়াচর্চার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠে তরুণদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে খেলাধুলা বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে পরিচর্যার অভাবে কোনো বন্যপ্রাণী যাতে মারা না যায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সাফারি পার্ক থেকে বন্যপ্রাণী চুরি হলে তা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার কোনো প্রাণী মারা গেলেও সেটিকে চুরির ঘটনা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বন্যপ্রাণীর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অবহেলার কারণে কোনো প্রাণীর মৃত্যু না ঘটে।

তিনি বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে, সে বিষয়ে তথ্য ছিল না। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লেমুর দুটি দেশে আনার প্রক্রিয়াও অবৈধ ছিল। পরে সেগুলো পার্ক থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা করা। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও এর সঙ্গে যুক্ত।

তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে পিকনিক বন্ধ রয়েছে। উদ্যান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাইক বাজানো, রান্না ও খাওয়াদাওয়ার মতো বিষয়গুলোতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে। যাতে মানুষ পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বিনোদনের সুযোগ পান, একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষাও বজায় থাকে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কে আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী এবং সহকারী বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে কাজ করছে সরকার: আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে কাজ করছে সরকার: আরিফুল হক চৌধুরী

মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে প্রতারণা করা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সিলেটে পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রবাসীদের সেবায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী করিডোর ও প্রবাসী ব্যাংকসহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনার জন্য সপ্তাহে এক দিন সময় দেওয়ার বিষয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পৃথিবী যত দিন থাকবে, সমস্যা তত দিন থাকবে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিমানের একটি ফ্লাইটে ছেলে ও পুত্রবধূসহ সিলেটে পৌঁছান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি