খুঁজুন
                               
, ,
           

বন্দরের গতি বাড়াতে এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
বন্দরের গতি বাড়াতে এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড

দীর্ঘ টানাপোড়েন, শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। ১৫ বছরের এ চুক্তির আওতায় টার্মিনালের জমি, অবকাঠামো ও মালিকানা থাকছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই; ডিপি ওয়ার্ল্ড পালন করবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিতে সই করেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এ প্রক্রিয়ায় লেনদেন-সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।

  • ১৫ বছরের চুক্তি সই; আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিতে ১,০০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ
  • থাকবে কঠোর কর্মদক্ষতা নজরদারি

চুক্তির শুরুতেই প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। পাশাপাশি প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে নির্ধারিত বার্ষিক ফি ও রাজস্বের অংশ। কর্মদক্ষতার নির্ধারিত সূচক পূরণে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বন্দরের ৪০ শতাংশের বেশি কনটেইনার
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি। পাঁচটি জেটি নিয়ে গড়ে ওঠা এ টার্মিনালেই বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের ১৪টি রয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এনসিটির পরিচালনায় পরিবর্তন শুধু একটি টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা বদল নয়; এর প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি-রপ্তানি, পণ্য খালাসের গতি, লজিস্টিকস ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর।

এনসিটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে চাই : নৌপরিবহনমন্ত্রী
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো। আধুনিক যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক লজিস্টিকস সংযোগের মাধ্যমে এনসিটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, বিভিন্ন টার্মিনালে একাধিক আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করে সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা সরকারের বৃহত্তর নীতিগত লক্ষ্য।

ডিপি ওয়ার্ল্ড: বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করব
ডিপি ওয়ার্ল্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এনসিটির পরিচালনা স্বত্ব দেওয়ায় তারা বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রায় সহায়তা করতে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষ্য, অংশীদারত্বের মাধ্যমে এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সংযোগ আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে।

লজিস্টিকসের প্রতিবন্ধকতা কমবে : বন্দর চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, পিপিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের নৌ ও বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই অংশীদারত্ব। তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য ও লজিস্টিকস ব্যবস্থায় এনসিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চুক্তির ফলে টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, লজিস্টিকসের প্রতিবন্ধকতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার হবে। তার মতে, পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হলে দেশীয় শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

বাণিজ্যে চাই বৈশ্বিক গতি : আশিক চৌধুরী
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, দেশের বাণিজ্যকে বৈশ্বিক গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। এনসিটির পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করা সেই লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য প্রবেশদ্বারে আরও দ্রুত কার্যক্রম, শক্তিশালী সংযোগ ও উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরব্যবস্থাকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের উপযোগী সক্ষমতায় উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

২০১৯ থেকে ঝুলে থাকা প্রক্রিয়ার অবসান
এনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। পিপিপি কাঠামোয় আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগটি পুনরুজ্জীবিত করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বেছে নেয়। কিন্তু তীব্র বিরোধিতা ও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে যায়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরে বর্তমান সরকার আবার আলোচনা শুরু করে চুক্তিটি সম্পন্ন করে।

মালিকানা বন্দরের, পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এনসিটির জমি, অবকাঠামো, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড পাবে শুধু পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিরাপত্তা প্রটোকলও আগের মতো বহাল থাকবে। চুক্তিতে কেপিআই, নিয়মিত প্রতিবেদন, মনিটরিং ও নিরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশযাত্রায় ভ্রমণ কোটার আওতায় মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে একজন গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার কিনতে পারবেন। এতদিন একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলার কেনার সুযোগ ছিল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো একজন গ্রাহকের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার নগদ নোট ও মুদ্রা হিসেবে বিক্রি করতে পারবে।

এর আগে একবারে নগদ ডলার কেনার সীমা ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে ডলার কেনার সীমা ১ হাজার ডলার বাড়ানো হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একজন গ্রাহকের প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ তাঁর নির্ধারিত ভ্রমণ কোটার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা সাপেক্ষে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য বিদেশি মুদ্রার নোট ও মুদ্রা হিসেবেও বিক্রি করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকরা মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে আগের তুলনায় একবারে বেশি পরিমাণ নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় নগদ ডলার সংগ্রহে এটি বাড়তি সুবিধা দেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবগামী ইন্দোনেশীয় যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে সম্ভাব্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে দেশটির আরও বেশি পণ্য আমদানির জন্য আহ্বান জানান তিনি।

দুই দেশের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রী প্রচলিত ব্যবসায়িক সম্পর্কের বাইরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আনিস মাত্তা ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সৌদি আরবগামী ইন্দোনেশীয় যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে সম্ভাব্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতেও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবারই তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীর টেনিসে মুগ্ধ জয় মুখার্জি

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর টেনিসে মুগ্ধ জয় মুখার্জি

দশমবারের মতো রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন ভারতের জয় মুখার্জি। এর আগে নয়বার এ টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শুধু রাজশাহী নয়, ঢাকাতেও নিয়মিত আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জয় মুখার্জি। রাজশাহীর টুর্নামেন্ট শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। সেখানে এটি হবে তাঁর নবমবারের দায়িত্ব পালন।

আইটিএফ অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফরি জয় মুখার্জি আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেবেন। সেখানে বাংলাদেশের উঠতি আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেবেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর টেনিস জীবন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, বাংলাদেশের টেনিসের সম্ভাবনা এবং রাজশাহী শহর ও টেনিস কমপ্লেক্স নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা।

জয় মুখার্জির জন্ম ১৯৭৫ সালে ভারতের কলকাতার শ্যামবাজারে। সেখানেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। কলকাতাতেই বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক টেনিস রেফরি।

ছোটবেলা থেকেই টেনিসের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র আট বছর বয়সে, ১৯৮৩ সালে টেনিস খেলা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে ভারতে প্রথম টুর্নামেন্টে অংশ নেন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান জয় জানান, টেনিস খেলতে তাঁর বাবা-মা কখনো বাধা দেননি; বরং সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয় মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি।’

বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজশাহীসহ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। বাংলাদেশে তাঁর অনেক বন্ধু-বান্ধব রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশে আসতে পারেননি জয়। সেই সময়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসতে না পারায় তাঁর খুব কষ্ট হয়েছিল। এমনকি আবেগ সামলাতে না পেরে তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল। সাক্ষাৎকারের সময়ও বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এবারও বাংলাদেশে আসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল তাঁর। বাংলাদেশে আসার আগের দিন তাঁর স্ত্রী, কলকাতার ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিল্পী মুখার্জি দুর্ঘটনায় আহত হন। এতে জয় মনে করেছিলেন, এবার হয়তো বাংলাদেশে আসা সম্ভব হবে না।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে আহত অবস্থাতেও তাঁকে বাংলাদেশে আসতে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ায় স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠুক—এমন প্রত্যাশার কথা জানান জয় মুখার্জি। এ ক্ষেত্রে তাঁর কিছু করার থাকলে তিনি তা করতেও প্রস্তুত বলে জানান।

বাংলাদেশের টেনিসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেন এই আন্তর্জাতিক রেফরি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মেয়েদের টেনিসে উন্নতি হচ্ছে। ছেলেরাও ধীরে ধীরে উঠে আসছে। তিন-চারজন খেলোয়াড় ভালো মানে খেলছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়ও পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী শহর সম্পর্কে জয় মুখার্জির মূল্যায়নও বেশ ইতিবাচক। তাঁর কাছে রাজশাহী অত্যন্ত সুন্দর, পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন একটি শহর। এখানকার বায়ু নির্মল এবং বায়ুদূষণও খুব একটা নেই বলে মনে করেন তিনি।

জয় বলেন, রাজশাহী তাঁর খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলে বারবার এখানে আসতে চান তিনি।

রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের কোর্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানের। কোর্টের পরিকল্পনা ও নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি