খুঁজুন
                               
, ,
           

নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশযাত্রায় ভ্রমণ কোটার আওতায় মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে একজন গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার কিনতে পারবেন। এতদিন একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলার কেনার সুযোগ ছিল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো একজন গ্রাহকের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার নগদ নোট ও মুদ্রা হিসেবে বিক্রি করতে পারবে।

এর আগে একবারে নগদ ডলার কেনার সীমা ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে ডলার কেনার সীমা ১ হাজার ডলার বাড়ানো হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একজন গ্রাহকের প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ তাঁর নির্ধারিত ভ্রমণ কোটার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা সাপেক্ষে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য বিদেশি মুদ্রার নোট ও মুদ্রা হিসেবেও বিক্রি করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকরা মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে আগের তুলনায় একবারে বেশি পরিমাণ নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় নগদ ডলার সংগ্রহে এটি বাড়তি সুবিধা দেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

আকাশের সীমানা যেখানে শেষ, দায়িত্বের সীমানা সেখানে শেষ নয় যেন! একটি বিমানকে আকাশে তুলে নেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন নিখুঁত দক্ষতা, তেমনি একটি বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের ভিত গড়ে ওঠে একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্য দিয়েই। আর সেই উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে যশোরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে (বাফা) উঠল ওসমানী স্বর্ণপদকের দীপ্তি।

বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ বাফা কোর্সের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

স্বর্ণপদকের আড়ালে যে বড় প্রত্যাশা
এটি কেবলমাত্র পুরস্কার বিতরণের আয়োজন নয়। সামরিক পেশায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দায়িত্বের জন্য সক্ষমতার স্বীকৃতিও। কারণ একজন কর্মকর্তার জ্ঞান যত গভীর হয়, পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষমতা তত শাণিত হয়; আর সেই বিশ্লেষণই সংকটমুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একাডেমিক উৎকর্ষতা একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।’

  • একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি পেলেন ছয় কোর্সের কর্মকর্তারা
  • বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএতে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি
  • অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের তাগিদ; ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ার বার্তা

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একাডেমিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি পেরিয়ে পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বিমান বাহিনীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে আধুনিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই’ 
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই।’ অর্জিত জ্ঞান সময়ের সঙ্গে প্রজ্ঞায় রূপ নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একজন কর্মকর্তার পেশাগত বিকাশের দীর্ঘ পথের নির্দেশনা। একাডেমির পাঠ শেষ হলেও শেখার পর্ব শেষ হয় না। বরং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, নতুন প্রযুক্তি, পরিবর্তিত কৌশল ও বাস্তব পরিস্থিতি একজন কর্মকর্তার জ্ঞানের পরিধিকে ক্রমাগত বিস্তৃত করে। সামরিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এক বিষয় নয়। জ্ঞান মানুষকে জানায়; প্রজ্ঞা তাকে বোঝায় কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে। সামরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় সীমিত সময়ের মধ্যে, যেখানে ভুলের মূল্য হতে পারে অনেক বড়।

অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান 
তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান বিমান বাহিনী প্রধান। মূলত এখানেই একাডেমিক সাফল্যের পরবর্তী অধ্যায়। শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান যখন অপারেশনাল সিদ্ধান্তে, সমস্যা সমাধানে কিংবা নেতৃত্বের প্রয়োগে দৃশ্যমান হয়, তখনই তার পূর্ণ সার্থকতা আসে। সততার ওপর তাঁর গুরুত্বারোপও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সামরিক নেতৃত্বে দক্ষতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা। একজন কর্মকর্তার পেশাগত সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হয়, যখন তাঁর অধীনস্থ ও সহকর্মীরা তাঁর সক্ষমতা এবং নৈতিক অবস্থান—দুটির ওপরই আস্থা রাখতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দায়িত্বের পরিধি এখন আকাশের চেয়েও বিস্তৃত
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিমান বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আকাশসীমা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর দায়িত্বের অংশ। তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

ভবিষ্যতের লড়াই শুরু হয় প্রশিক্ষণকক্ষেই
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, এসব দায়িত্ব পালনে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তিনি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার ক্রমাগত রূপান্তর সামরিক বাহিনীর

সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্ত্র ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদ তৈরির প্রথম কারখানা হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। এই বাস্তবতায় বাফার একাডেমিক অনুষ্ঠানকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের পথ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পদক হাতে, সামনে বড় পরীক্ষাও
সমানী স্বর্ণপদক মেধার স্বীকৃতি। কিন্তু সামরিক জীবনে এটি একই সঙ্গে একটি নতুন প্রত্যাশার সূচনা। কারণ একাডেমিক উৎকর্ষের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার সেই জ্ঞানকে বাস্তব দায়িত্বে প্রমাণ করার পালা। বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যের সারকথা তাই এক জায়গায় এসে মেলে—শিখতে হবে অবিরাম, অর্জিত জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে হবে এবং সেই প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে হবে সঠিক সিদ্ধান্তে। সততা, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করে গড়ে তুলতে হবে এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব সংকটে পথ দেখাবে এবং দায়িত্বের মুহূর্তে আস্থা তৈরি করবে। বাফার মঞ্চে এদিন যে স্বর্ণপদক ঝলমল করেছে, তার আসল মূল্য তাই ধাতুর দীপ্তিতে নয়—আগামী দিনের দায়িত্বে সেই মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্ব কতটা আলো ছড়ায়, তার ওপর।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দ্বীন আসাদ, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাইরুল আফসার, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এএইউবি) এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলাম, এয়ার ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট এয়ার ভাইস মার্শাল আসাদুল করিম, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

জনআস্থা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা—পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশের সামনে এখন এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তাঁর মতে, সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণে পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

  • রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
  • আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ
  • মানবাধিকার, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়াতে হবে সংবেদনশীলতা

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল জনাকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশকেও নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছে। সেই নতুন পুলিশিংয়ে জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নব উদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।’ প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশিং শুধু আইন প্রয়োগ নয়, আস্থার সম্পর্কও
আইজিপির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক। তিনি বলেন, পুলিশিং একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের ‘ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার’ আখ্যা দিয়ে আইজিপি বলেন, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পেশাদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানেই বদলে যাওয়া পুলিশিংয়ের মূল দর্শনটি স্পষ্ট—শুধু অপরাধ দমন নয়, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্ব। ফলে মাঠপর্যায়ের একজন এএসপির আচরণ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের ধরনই ভবিষ্যতে পুলিশের ভাবমূর্তি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের
অনুষ্ঠানে নবপদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তাঁদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার করেন। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনও জাতির প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।

৭২ কর্মকর্তার কাঁধে নতুন দায়িত্ব
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে মোট ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। এই ৭২ কর্মকর্তাই এখন মাঠপর্যায়ে পুলিশের নতুন মুখ। নিজেদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, মানবিক আচরণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ়তার মাধ্যমেই আইজিপির দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাবেন তাঁরাই। পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পুলিশকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ফলে নতুন এএসপিদের সামনে দায়িত্ব কেবল একটি সরকারি পদে যোগ দেওয়া নয়। এটি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতের একটি পেশাদার, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া। বর্তমান আইজিপি তাই তাদেরকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ নতুন দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ নতুন দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স

চাকরির বাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কোর্সে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কর্মদক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতার মতো বিষয় শেখানো হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন: গবেষণায় উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই বর্তমান চাকরির বাজারে সফল হওয়া নিশ্চিত নয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ICT & AI (Information and Communication Technology and Artificial Intelligence), Employability Skill এবং Ethics and Professionalism—এই তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের Higher Education Acceleration & Transformation (HEAT) প্রকল্পের অধীনে কোর্সগুলো চালু করা হবে।

ড. মামুন বলেন, শিক্ষাখাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, Industry-Academia Collaboration এবং Internationalization of Education-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় চাকরির বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

এর মাধ্যমে বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানোই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি না করে চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে Innovation Hub, Incubation Centre, Startup Ecosystem এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. মামুন। তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘UDYOG—Upazila-Driven Youth Opportunity for Growth’ কর্মসূচি চালু করেছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা তাঁদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জামানত ছাড়াই এ অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউজিসি সদস্য। তিনি বলেন, প্রযুক্তিখাতে প্রতি বছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়; পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন, নিজের কর্মসংস্থান তৈরি এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে তরুণদের গড়ে তুলতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি