খুঁজুন
                               
, ,
           

গাজা যুদ্ধের আড়ালে মোদির বড় কৌশল, ইসরায়েলের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজা যুদ্ধের আড়ালে মোদির বড় কৌশল, ইসরায়েলের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা?

একসময় ফিলিস্তিনের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল ভারত। ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অবস্থান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে দীর্ঘদিন সরব ছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই অবস্থান। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রকাশ্য, ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনির প্রাণহানি এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও সেই সম্পর্কের গভীরতা কমেনি। বরং অস্ত্র, প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আল–জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল যখন ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে, তখন ভারত তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরিবর্তে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তাগত হিসাব-নিকাশ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির মিল।

নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী, ভারতে উষ্ণ অভ্যর্থনা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ভারত সফরে আসেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার পক্ষে বক্তব্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার অবস্থানের কারণে এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দেশ তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও স্মোতরিচ ও ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছিল।

কিন্তু একই সময়ে ভারতে স্মোতরিচকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সফরে তিনি বাণিজ্যিক চুক্তি করেন, মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং গুজরাটে একটি বিনিয়োগকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে এই সফরকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যখন পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি সরকারের কট্টরপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছিল, তখন ভারত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।

৭ অক্টোবরের হামলার পর বদলে যায় সুর

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটির নিন্দা জানান। হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা বলেন।

এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হয়। ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রাণহানি, আবাসিক এলাকা ধ্বংস এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। ইসরায়েলি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তবু ভারতের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। নয়াদিল্লি একদিকে কূটনীতি, সংলাপ ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে; অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও এগিয়ে নিয়েছে।

আল–জাজিরার অনুসন্ধান ও অন্যান্য প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালেও ভারত থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ঘটনা সামনে এসেছে। মোদির আমলে ইসরায়েল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে।

মোদির রাজনীতির সঙ্গে ইসরায়েল-সম্পর্কের যোগসূত্র

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতার ব্যাখ্যা কেবল প্রতিরক্ষা বা কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও নিরাপত্তানীতির প্রতি সমর্থনকারী ভারতীয় ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানে ইসলামি উগ্রবাদ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। তার ব্যাখ্যায়, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের ডানপন্থী মহলের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের নিরাপত্তানীতিকে সমর্থন করে আসছে। কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ইসরায়েলের মতো কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান উঠেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, শুধু আদর্শিক মিল দিয়ে এই সম্পর্কের পুরো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

‘গোপন সম্পর্ক’ থেকে প্রকাশ্য অংশীদারত্ব

ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ভারত দেশটির বিরোধিতা করেছিল। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

১৯৭৪ সালে ভারত ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা প্রস্তাবের পক্ষেও ভোট দেয় ভারত। পরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যেও ছিল নয়াদিল্লি।

তবে একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গোপন যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্কও গড়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর বিভিন্ন ভারতীয় সরকার সেই সম্পর্ককে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করেছে।

২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আর আড়ালে থাকেনি; বরং প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের রূপ পায়।

সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক নবদ্বীপ সুরির মতে, মোদির আমলে দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় পরিবর্তন হলো—আগে যে সহযোগিতা অনেকাংশে আড়ালে থাকত, এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বড় কারণ

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সামরিক প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো ক্ষেত্র দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক নবদ্বীপ সুরি মনে করেন, নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তব মিল রয়েছে। নয়াদিল্লি ইসরায়েলকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।

এই বাস্তবতা ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাগত স্বার্থের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসার তেমন আগ্রহ নয়াদিল্লির মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপের অবস্থান বদলালেও ভারত অনড়

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ক্রমে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিছু দেশ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ও সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

অন্যদিকে ভারত মূলত বিবৃতি, মানবিক সহায়তার আহ্বান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক কমানোর মতো বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সাবেক কূটনীতিক সুরির মতে, ভারতের আরও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই দেশের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতার কারণে ইসরায়েলের সমালোচনা করতে নয়াদিল্লির অনীহা দেখা যায় বলেও তিনি মনে করেন।

এই পার্থক্য ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান, নাকি প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্বার্থ—কোনটি নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে?

মোদির ইসরায়েল সফর ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সুবিধা

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরায়েল সফর দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে চাপ ও সমালোচনা চলার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু মোদিকে ইসরায়েলের ‘মহান বন্ধু’ এবং ‘ভাই’ বলে অভিহিত করেন। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা আবারও প্রকাশ্যে আসে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স রোডেনবেকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোদির এই সফর নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছিল।

অতীতে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন কল্পনা করা কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক দুই দেশের নেতৃত্বের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের সামনে কঠিন পরীক্ষা

ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমর্থন করে। ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছে নয়াদিল্লি।

কিন্তু এসব অবস্থানের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা অব্যাহত থাকায় ভারতের নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

একদিকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে গাজা যুদ্ধের মধ্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভারতের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আদর্শ, নিরাপত্তাগত বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ভারত কেন ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তা নয়; বরং ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থন বজায় রাখার দাবি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক—এই দুইয়ের মধ্যে নয়াদিল্লি কীভাবে সামঞ্জস্য তৈরি করবে।

কালের আলো/জেএন

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

সোনার চোরাচালানে এখন আর শুধু বার, বিস্কুট কিংবা কোমরে বাঁধা প্যাকেটের ওপর নির্ভর করছে না পাচারকারীরা। ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে বদলে যাচ্ছে কৌশল, বদলাচ্ছে সোনার আকৃতি ও লুকানোর জায়গা। কখনো পেস্ট বানিয়ে পায়ুপথে, কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাপড়ে মিশিয়ে, আবার কখনো বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে সোনা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট সেই বদলে যাওয়া কৌশলেরই নতুন উদাহরণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সোনা উদ্ধারের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওইদিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে সোনা চোরাচালানের গোপন তথ্য পায় ঢাকা কাস্টম হাউস। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেন সংস্থাটির গোয়েন্দারা।

  • পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির পেস্ট, জুতায় ৮০ বার
  • পোশাকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়ও চালান
  • নতুন কৌশলে চোরাচালানের বিস্তার

একপর্যায়ে ওই ফ্লাইটে আসা আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোর ভেতরে ছিল সোনার পেস্ট।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট ছিল। সোনার বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট। পেস্টগুলো পরিশোধনের পর আনুমানিক এক কেজি সোনা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

বার থেকে পেস্ট, বদলাচ্ছে কৌশল
শাহজালালে সোনা আটকের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—চোরাচালানকারীরা প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সোনা বহনের নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। কখনো সোনা আনা হচ্ছে বার বা বিস্কুট আকারে, আবার কখনো গলিয়ে পেস্ট কিংবা গুঁড়ায় রূপান্তর করা হচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে মিশিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে।

এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য তল্লাশি এড়িয়ে চালান গন্তব্যে পৌঁছানো। সোনার প্রচলিত আকৃতি বদলে ফেললে সাধারণ তল্লাশিতে তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু ধাতব বস্তু শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত বছর এপ্রিলেও দুবাই থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর পোশাক থেকে সোনার মতো গুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। চার জোড়া অন্তর্বাস, একটি প্যান্ট ও তিনটি টি-শার্টে ওই পদার্থ লুকানো ছিল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর সেখান থেকে প্রায় ২ কেজি ৪১৭ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।

জুতার ভেতর ৯ কেজির বেশি সোনা
চোরাচালানে শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বিমানকর্মীদেরও ব্যবহার করার নজির রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার (০৪ অক্টোবর) উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বারগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিশেষ কায়দায় জুতার ভেতরে বারগুলো লুকানো হয়েছিল। এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিমানবন্দরে চোরাচালানের ঝুঁকি শুধু বহিরাগত যাত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে চোরাচালানকারীরা। ফলে নিরাপত্তা ও নজরদারির আওতা শুধু যাত্রী তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ রাখলে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

টয়লেট-সিটের নিচেও চালান
সোনা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে বাহকের শরীর বা লাগেজে সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো উড়োজাহাজের টয়লেট, কখনো সিটের নিচের অংশ, আবার কখনো বিমানবন্দরের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থানে সোনা রেখে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এতে বোঝা যায়, চোরাচালান শুধু একজন বাহকের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নির্দিষ্ট রুট, সহযোগী এবং বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চালান পরিচালনার চেষ্টা থাকতে পারে। তাই যাত্রী তল্লাশির পাশাপাশি উড়োজাহাজ, বিমানকর্মী ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গোপন তথ্যই বড় চালান ধরার চাবি
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে গোপন তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির গুরুত্বও স্পষ্ট। সর্বশেষ সোনার পেস্ট উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেছিল ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

বিপুলসংখ্যক যাত্রীর মধ্য থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ভ্রমণপথ, আচরণ, লাগেজের ধরন ও পূর্ববর্তী তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে চোরাচালানের নতুন কৌশল শনাক্ত করার সুযোগও বাড়বে।

উদ্ধার বাড়ছে, প্রশ্ন থাকছে নেটওয়ার্ক নিয়ে
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৫৩ দশমিক ৭২৭ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে।

তবে একটি চালান আটক করাই চোরাচালান বন্ধের শেষ কথা নয়। একটি চালান ধরা পড়ার পর একই চক্র নতুন পদ্ধতিতে আবার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ফলে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণের পাশাপাশি চোরাচালানের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং দেশে-বিদেশে জড়িত সহযোগীদের চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন কৌশলের বিপরীতে নজরদারি
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান সর্বশেষ ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে সোনার বার, বিস্কুট ও জামাকাপড়ে লুকানো সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

চোরাচালানকারীরা যখন সোনার আকৃতি ও বহনের পদ্ধতি বদলাচ্ছে, তখন নজরদারির কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট উদ্ধারের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

শাহজালালে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনা তাই শুধু একটি চালান আটকের ঘটনা নয়। এটি দেখাচ্ছে, চোরাচালানের কৌশল ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একটি পদ্ধতি বন্ধ হওয়ার পর আরেকটি পদ্ধতি সামনে আসার আগেই তা শনাক্ত করতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আরও সমন্বিত, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রয়োজন।

কালের আলো/জিএন/এমকে

খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে তাঁর পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা খতিবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর আদর্শের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় মসজিদের খতিবকে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা মুফতি আব্দুল মালেককে স্বপদে বহাল রেখে তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায়ের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; বরং ইসলাম সব মুসলমানের। মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্যের পর জামায়াতপন্থীদের একাংশ সমালোচনা শুরু করে। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। এ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার অনেক আলেমও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে দিনটিতে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের পরিচিত গবেষক আলেমদের একজন। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁর পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি