সার সংকটের পর বৃষ্টির ধাক্কা, ডুবল আগাম আলু-ফুলকপির খেত
ভরা মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টির দেখা না মিললেও আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আগাম আলু ও সবজির খেত। দিনভর বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
তেল ও সারের সংকটের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আকস্মিক বৃষ্টি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে তাঁদের। তবে জমি থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বীরগঞ্জে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৮৯৬ হেক্টর। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে আমন ধান, ৪০ হেক্টরে আগাম আলু, ৩১২ হেক্টরে ফুলকপি, ৫৫ হেক্টরে বাঁধাকপি, ২০০ হেক্টরে বেগুন, ৩০ হেক্টরে শসা, ৮৩ হেক্টরে লাউ, ১২ হেক্টরে শিম ও ২ হেক্টরে করলার আবাদ হয়েছে। বাকি জমিতে চাষ করা হয়েছে অন্যান্য ফসল।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ নিচু ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। আগাম আলু, শাকসবজি ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের সবজিচাষি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক একর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো বাজারে তোলার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে তাঁর ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।
তিনি বলেন, জমিতে পানি জমে থাকলে গাছের গোড়ায় পচন ধরে চারা মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁকে।
একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের কৃষক মহবুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার নিয়ে নানা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাত একর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে বীজের ওপরের মাটি ধুয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আলুর বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
মহবুল ইসলাম বলেন, জমির পানি দ্রুত না সরলে নতুন করে বীজ রোপণ করতে হবে। এতে আগের বিনিয়োগের পাশাপাশি বাড়তি খরচের চাপও সামলাতে হবে তাঁকে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাশেম আলী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাঝেমধ্যে কৃষিতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আগাম সবজি ও আলু চাষে এ ধরনের বৃষ্টির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে জমি থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array