যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক
দেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জাহাজ মেরামত ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সুবিধা, জাহাজ মেরামত ও নির্মাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সিডিডিএলের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে সিডিডিএলে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাণিজ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।
দেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে সিডিডিএল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং এর কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত ও গতিশীল করতে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিডিডিএলকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১ হাজার ৩৬টি জাহাজ সফলভাবে মেরামত করেছে সিডিডিএল। পাশাপাশি কনটেইনার ভেসেলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পন্টুন নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জাহাজের ড্রাই ডকিংয়ের পাশাপাশি ভাসমান অবস্থায় মেরামতসেবাও দিয়ে আসছে সিডিডিএল।
জাহাজ মেরামতের পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিডিডিএল। সরকারের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, সম্ভাব্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং প্রাথমিক কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফ্রিগেটসহ আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পথ আরও সুগম হতে পারে।
জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মৌলিক শিল্পখাতেও অবদান রাখছে সিডিডিএল। চিনি, কাগজ ও পাল্প, স্টিল, সার ও রাসায়নিক শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্টিল কাঠামো, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া ট্যাংক, মেটাল রোলার, স্টিল ব্রিজ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসহ বিভিন্ন শিল্প ও সিভিল স্ট্রাকচার নির্মাণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সিডিডিএল। এসব কার্যক্রম দেশের ভারী শিল্পের বিকাশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কার্যক্রম ও পরিচালন সক্ষমতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিডিডিএল আইএসও সনদ অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএএ) সদস্যপদ লাভ করেছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নের মাধ্যমে সিডিডিএলের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী সক্ষমতা দেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পের বিকাশ, প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array