খুঁজুন
                               
, ,
           

পদ্মায় নাব্য সংকট, ডুবোচরে বদলেছে স্রোত কমেছে ইলিশ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
পদ্মায় নাব্য সংকট, ডুবোচরে বদলেছে স্রোত কমেছে ইলিশ

পদ্মা নদীতে নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল। পরিবর্তন হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে নৌযান চলাচল, কমছে ইলিশ আহরণ এবং বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা। বিপাকে পড়েছেন জেলে, নৌযান চালক ও নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই বছরে পদ্মার মাঝপথে বেশ কয়েকটি বড় ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। জাজিরা অংশে নদীর নতুন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় মূল প্রবাহের গতিপথও অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেসব পথে সহজে নৌযান চলাচল করত, সেখানে চর জেগে ওঠায় এখন বড় নৌযানকে ঘুরপথে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সুরেশ্বর-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি সুরেশ্বরের মাস্টার জানান, নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় নৌযান চালানো আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষায় তীব্র স্রোতের কারণে নৌযান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। আবার বর্ষা শেষে পলি জমে ডুবোচর তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে নৌযান আটকে যায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও সময়ের অপচয় হচ্ছে।

নদীর গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণেও। স্থানীয় জেলেরা জানান, আগে পদ্মার এই অংশে কয়েক ঘণ্টা জাল ফেললেই ভালো পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারা দিন নদীতে থেকেও আগের তুলনায় অনেক কম মাছ মিলছে। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিকল্প পেশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক জেলেকে।

জাজিরার মাঝিরঘাট এলাকার জেলে মনা বেপারি ও নড়িয়ার সুরেশ্বরের জেলে সুমন বকাউল বলেন, তিন দশক ধরে পদ্মায় মাছ ধরছেন তাঁরা। কিন্তু এখন আগের মতো বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না। তাঁদের মতে, নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠা এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, নদীতে পলি জমে বড় বড় চর সৃষ্টি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শরীয়তপুরের পদ্মা অংশে একসময় ইলিশের ব্যাপক বিচরণ থাকলেও নদীর গভীরতা ও প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরে পদ্মার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ডুবোচর অপসারণ জরুরি।

নদীর মাঝপথে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় পদ্মার মূল স্রোত এখন বিভিন্ন স্থানে ডান তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর গভীরতা ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কিছু অংশে তা ৫০০ ফুটেরও বেশি। গভীরতার এই তারতম্যে নদীর প্রবাহে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নড়িয়া উপজেলার চরআত্রার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল মাঝি বলেন, নদীর মূল স্রোত তাঁদের এলাকা ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন বেড়েছে। গত কয়েক বছরে তাঁর প্রায় চার বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর ভাঙন কিছুটা কমলেও বর্তমানে স্রোতের চাপ আবার বেড়েছে। স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এ অঞ্চলে নদীভাঙনে অন্তত ২০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সজল পারভেজ বলেন, নদীর নাব্য বজায় রাখতে ড্রেজিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নদীর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মাঝিরঘাট থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি এসে পদ্মার বিভিন্ন অংশে জমা হয়। বিশেষ করে বর্ষা শেষে নদীর তলদেশে পলি জমে ডুবোচর ও নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গভীরতা কমে যাচ্ছে।

সূত্রটি জানায়, মাঝিরঘাট পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সুরেশ্বর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদীপথে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা ও মেঘনাবেষ্টিত শরীয়তপুরে মোট ৭১ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ৫ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ কিলোমিটারসহ মোট ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নদীর গভীরতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা না গেলে ইলিশসহ দেশীয় প্রজাতির মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র আরও সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে নৌ চলাচলের ঝুঁকি ও নদীভাঙনের শঙ্কা বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১১টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে।

তবে শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যতা অনেকটাই দূর হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জনকে পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও দুর্বলতা তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্র

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও দুর্বলতা তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্র

মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলেও অভ্যন্তরীণ মানবপাচার মোকাবিলা, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও অপরাধীদের শাস্তির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২০২৬ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম মান পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে দেশটিকে আগের মতোই টিয়ার-২ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের মূল্যায়ন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ মানবপাচার প্রতিরোধে সামগ্রিক অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড সাপ্রেশন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস অর্ডিন্যান্স-২০২৬’ প্রণয়ন, তদন্ত ও মামলা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি শনাক্তকরণের নির্দেশিকা হালনাগাদ।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষা সেবা দিতে ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) চালুর উদ্যোগ এবং বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদারের পদক্ষেপের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও ন্যূনতম মান পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করার হার কমেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষা কার্যক্রমও পর্যাপ্ত নয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অভিবাসী কর্মীদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার প্রচলন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে অনেক কর্মী ঋণের বোঝায় পড়ছেন, যা তাঁদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস টমি পিগট বলেন, মানবপাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। ২০২৬ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস প্রতিবেদনে আর্থিক লাভের জন্য অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক সরকারগুলো কীভাবে মানবপাচারকে কাজে লাগায়, তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা পাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি।

ট্রাম্প প্রশাসন মানবপাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানবপাচার প্রতিরোধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ, পুনর্বাসন, সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিওনেল মেসি। তবে তাঁর সাফল্য শুধু সবুজ গালিচায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞাপন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ক্যারিয়ারে মেসির মোট আয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। বাকি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

অন্যদিকে, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। হিসাবের পার্থক্য থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ৭ কোটি ডলার

ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় মেসির অবস্থান তৃতীয়। সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ মাসে তাঁর মোট আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে এসেছে আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার।

মেসির বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজীবন চুক্তি করেন তিনি। এ ছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে।

মাঠের বাইরের এসব চুক্তিতে মেসির জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আবাসন ও আতিথেয়তা খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২৪ সালে তিনি ‘এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাস্টটির বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলার।

এই ব্যবসার আওতায় রয়েছে স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মিম হোটেলস চেইনের ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পদে রূপান্তর করছেন মেসি।

বিলাসবহুল বাড়িতেও বড় বিনিয়োগ

ব্যক্তিগত আবাসনেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনার কাছে কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সানি আইলস বিচে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কনডোমিনিয়াম এবং ফোর্ট লডারডেলে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি।

সব মিলিয়ে মেসির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফুটবল থেকে পাওয়া বিপুল পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মাঠের পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিলেও সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি