খুঁজুন
                               
, ,
           

ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ফুটবলের বাইরেও মেসির রাজত্ব, যেভাবে গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিওনেল মেসি। তবে তাঁর সাফল্য শুধু সবুজ গালিচায় সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞাপন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ক্যারিয়ারে মেসির মোট আয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব ও জাতীয় দলের বেতন এবং খেলার চুক্তি থেকে। বাকি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিজ্ঞাপন, স্মারকসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

অন্যদিকে, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। হিসাবের পার্থক্য থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ৭ কোটি ডলার

ফোর্বসের ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় মেসির অবস্থান তৃতীয়। সাময়িকীটির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ মাসে তাঁর মোট আয় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে এসেছে আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার।

মেসির বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আজীবন চুক্তি করেন তিনি। এ ছাড়া মাস্টারকার্ড, লে’জ ও মিশেলব আল্ট্রার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব রয়েছে।

মাঠের বাইরের এসব চুক্তিতে মেসির জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেও তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আবাসন ও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আবাসন ও আতিথেয়তা খাতেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২৪ সালে তিনি ‘এদিফিসিও রোস্তোয়ার সোসিমি’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্পেনের পোর্টফোলিও স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করছে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাস্টটির বাজারমূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সেলিব্রিটি নেট-ওয়ার্থের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলার।

এই ব্যবসার আওতায় রয়েছে স্পেন ও অ্যান্ডোরায় অবস্থিত মিম হোটেলস চেইনের ছয়টি বিলাসবহুল বুটিক হোটেলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ফুটবল থেকে অর্জিত অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পদে রূপান্তর করছেন মেসি।

বিলাসবহুল বাড়িতেও বড় বিনিয়োগ

ব্যক্তিগত আবাসনেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই ফুটবল তারকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনার কাছে কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সানি আইলস বিচে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের কনডোমিনিয়াম এবং ফোর্ট লডারডেলে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি।

সব মিলিয়ে মেসির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে ফুটবল থেকে পাওয়া বিপুল পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড অংশীদারত্ব ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মাঠের পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিলেও সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম ভিত্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

মিরপুরের ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি সড়কে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সড়কের পাশের দোকানিদের নিজেদের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি দোকানের সামনে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একটি বড় রাজনৈতিক দল উচ্ছেদ হওয়া কিছু ফুটপাতের দোকানিকে বাসায় ডেকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নথি ও তথ্য রয়েছে। কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করলে কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি।

অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক উন্নয়নের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ইতিহাস রচনায় জীবন উৎসর্গকারী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব গ্রাফিতি স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নেতৃত্বদানকারীদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও থাকবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি। একজনের অসচেতনতার কারণে অন্যরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, যার প্রভাব পুরো নগরীর ওপর পড়ে।

ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে আগের সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১১টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে।

তবে শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যতা অনেকটাই দূর হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জনকে পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি