খুঁজুন
                               
, ,
           

আন্তর্জাতিক আইন থেকে মহাবিশ্বের রহস্য—২০২৬ সালের নোবেলজয়ীদের গল্প

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আইন থেকে মহাবিশ্বের রহস্য—২০২৬ সালের নোবেলজয়ীদের গল্প

বিশ্বের জ্ঞান, মানবতা ও সৃজনশীলতার জগতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি নোবেল পুরস্কার। প্রতিবছর এই পুরস্কারের মাধ্যমে সামনে আসে এমন কিছু মানুষের নাম, যাঁদের গবেষণা, সাহিত্যকর্ম কিংবা মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘ সংগ্রাম পৃথিবীকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারেও সেই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মহাবিশ্বের গভীর থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র কণার সন্ধান, জীবন্ত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন প্রযুক্তি, রাসায়নিক বিক্রিয়ার জটিল রহস্য উন্মোচন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘ লড়াই—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন এবারের বিজয়ীরা।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। এ সম্মান পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। এর আগে সপ্তাহজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও সাহিত্যে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কারের ঘোষণা আসবে ১২ অক্টোবর। ফলে এবারের নোবেল সপ্তাহে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বিভাগের বিজয়ীর নাম জানা গেছে।

শান্তিতে নোবেল: আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাঁকে এ পুরস্কার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের সময়। ১৯৬৭ সালে তিনি নাটাল অঞ্চলে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া প্রথম নারী হিসেবে পরিচিতি পান এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই, রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার এবং নিপীড়নের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

রুয়ান্ডার গণহত্যাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচারিক কাজ যৌন সহিংসতা ও গণহত্যার আইনি ব্যাখ্যা বিকাশে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেও আলোচনায় আসেন তিনি। কমিশনটি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল; ইসরায়েল সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে পিল্লাইয়ের নোবেলপ্রাপ্তি আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নোবেল কমিটির ঘোষিত কারণ তাঁর শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা—এ পুরস্কারকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

নোবেল কমিটির বক্তব্যের মূল সুর হলো, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চাপের মুখে, তখন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি রক্ষার প্রচেষ্টা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন সেই প্রচেষ্টারই একটি উদাহরণ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল: আলো দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন পথ

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরবিদ্যায় ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির বিকাশে তাঁদের অবদানের জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

অপটোজেনেটিকস এমন একটি গবেষণাপদ্ধতি, যার সাহায্যে নির্দিষ্ট আলো ব্যবহার করে জীবন্ত কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে, একে অপরের সঙ্গে সংকেত আদান-প্রদান করে এবং আচরণ বা অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই গবেষণার একটি মূল ভিত্তি হলো আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন। শৈবালের মতো জীবের মধ্যে পাওয়া কিছু প্রোটিন আলো পেলে আয়ন চলাচলের পথ খুলে দিতে বা বন্ধ করতে পারে। গবেষকেরা এসব প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি গড়ে তুলেছেন। এতে গবেষণাগারে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে তাদের ভূমিকা বোঝা সম্ভব হয়েছে।

আগে স্নায়ুতন্ত্রের কোনো নির্দিষ্ট অংশের কার্যক্রম এবং আচরণের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করা ছিল জটিল কাজ। অপটোজেনেটিকস গবেষকদের সেই প্রক্রিয়া আরও সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে। স্নায়ুবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের রোগ নিয়ে গবেষণা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।

তবে এই স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে অপটোজেনেটিকস ইতিমধ্যেই সব স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা হয়ে গেছে। বরং মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন এবং ভবিষ্যতের গবেষণার নতুন পথ তৈরিতে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল: দক্ষিণ মেরুর বরফে মহাবিশ্বের অদৃশ্য বার্তাবাহক

২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

নিউট্রিনো হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র উপপরমাণবিক কণা। এদের বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ পদার্থের সঙ্গে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবী ও আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে গেলেও অধিকাংশ সময় তা শনাক্ত করা যায় না। এই কারণে নিউট্রিনোকে অনেক সময় ‘ভূতুড়ে কণা’ও বলা হয়।

কিন্তু এই কণাগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম। নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, কৃষ্ণগহ্বরের আশপাশের পরিবেশ এবং অন্য উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিউট্রিনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

হালজেনের নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে আলো শনাক্তকারী সেন্সর। কোনো নিউট্রিনো বরফের মধ্যে থাকা পদার্থের সঙ্গে বিরলভাবে মিথস্ক্রিয়া করলে যে আলোর ঝলক তৈরি হয়, সেটি শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে ধারণা পান।

এই পর্যবেক্ষণব্যবস্থা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। দূরবর্তী মহাবিশ্ব থেকে আসা এসব কণা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু শক্তিশালী ঘটনার খোঁজ পেতে পারেন, যেগুলো প্রচলিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে সহজে ধরা পড়ে না।

হালজেনের পুরস্কার তাই শুধু একটি যন্ত্র নির্মাণের স্বীকৃতি নয়; এটি মহাবিশ্বকে জানার নতুন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। আলোর পরিবর্তে নিউট্রিনোর সংকেত ব্যবহার করে মহাকাশের রহস্য অনুসন্ধানের যে পথ তৈরি হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এখনও বিস্তৃত।

রসায়নে নোবেল: অণুর আয়নার মতো দুই রূপের রহস্য

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অঁরি বি. কাগাঁ ও কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্বয়ং-অনুঘটনের আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের গবেষণা এমন একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করেছে—কেন কোনো কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একই অণুর দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব রূপের মধ্যে একটি বেশি তৈরি হয়?

কিছু অণুর গঠন আমাদের দুই হাতের মতো। ডান ও বাম হাত দেখতে কাছাকাছি হলেও একটিকে অন্যটির ওপর পুরোপুরি মেলানো যায় না। রসায়নে এ ধরনের গঠনকে কাইরাল বা কাইরালিটি-সম্পন্ন বলা হয়। একই রাসায়নিক উপাদান থাকলেও অণুর এই দুই রূপ জীবন্ত শরীরে ভিন্ন আচরণ করতে পারে।

জীববিজ্ঞানে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জৈব অণু, ওষুধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক যৌগের কার্যকারিতা তাদের ত্রিমাত্রিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বিক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত একটি রূপ বেশি পরিমাণে তৈরি করার পদ্ধতি উন্নত করা রসায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

কাগাঁ ও সোয়াইয়ের গবেষণা অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব এবং স্বয়ং-অনুঘটনের ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। স্বয়ং-অনুঘটনের ক্ষেত্রে কোনো বিক্রিয়ার উৎপন্ন পদার্থই সেই বিক্রিয়ার অগ্রগতিতে অনুঘটকের মতো ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে বিক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট রূপ আরও বেশি তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

এই মৌলিক ধারণাগুলো ওষুধ তৈরি, জৈব অণুর সংশ্লেষণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাজ রসায়নবিদদের দেখিয়েছে, অণুর গঠন ও বিক্রিয়ার গতিপ্রকৃতির সূক্ষ্ম সম্পর্ক বুঝতে পারলে কাঙ্ক্ষিত রাসায়নিক ফল অর্জনের নতুন উপায় পাওয়া সম্ভব।

সাহিত্যে নোবেল: অ্যান কারসনের সৃজনশীল লেখালেখির স্বীকৃতি

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান কারসন। তাঁর সাহসী ও অভিনব সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে সুইডিশ অ্যাকাডেমি এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

কারসন কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের গবেষক হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন, প্রেম, স্মৃতি, শোক ও মানুষের অন্তর্জগতের মতো বিষয় নতুন আঙ্গিকে উঠে আসে। কবিতা, গদ্য ও গবেষণামূলক লেখার প্রচলিত সীমানা অতিক্রম করে তিনি নিজস্ব ভাষা ও নির্মাণশৈলী তৈরি করেছেন।

তাঁর কাজের বিশেষত্ব হলো, পুরোনো সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে সমসাময়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা। কখনো কবিতা, কখনো প্রবন্ধ, কখনো অনুবাদ কিংবা বিভিন্ন সাহিত্যরীতির মিশ্রণে তিনি পাঠকের সামনে পরিচিত বিষয়কে নতুনভাবে হাজির করেন।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার শুধু জনপ্রিয়তা বা বই বিক্রির স্বীকৃতি নয়; লেখকের সাহিত্যিক অবদান, সৃজনশীলতা এবং ভাষা ও ভাবনার জগতে তাঁর স্বতন্ত্র অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারসনের পুরস্কার সেই স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা ও প্রচলিত আঙ্গিক নিয়ে তাঁর নিরীক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

অর্থনীতিতে নোবেল: ঘোষণা আসছে ১২ অক্টোবর

২০২৬ সালের নোবেল সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বাকি রয়েছে অর্থনীতিতে। ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

এই পুরস্কারটি আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে উল্লিখিত পাঁচটি নোবেল পুরস্কারের অংশ ছিল না। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেরিজেস রিক্সব্যাংক, তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অর্থনীতিতে এ স্মারক পুরস্কার চালু করে। পরের বছর থেকে এটি দেওয়া শুরু হয়।

অর্থনীতিতে পুরস্কারটি সাধারণত এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেয়, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কার্যক্রম, বাজার, দারিদ্র্য, বৈষম্য, কর্মসংস্থান কিংবা মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। তবে ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিভাগে কারা পুরস্কার পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

নোবেল পুরস্কারের পেছনের ইতিহাস

সুইডিশ উদ্ভাবক, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল থেকে নোবেল পুরস্কারের যাত্রা শুরু। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের আয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় ১৯০১ সালে।

পরবর্তীকালে অর্থনীতিতে স্মারক পুরস্কার যুক্ত হয়। তবে গণিত, ইতিহাস বা সাংবাদিকতার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের জন্য আলাদা নোবেল পুরস্কার নেই। নোবেল পুরস্কারের নির্দিষ্ট বিভাগগুলোতেই সংশ্লিষ্ট কমিটি ও প্রতিষ্ঠান বিজয়ী নির্বাচন করে।

২০২৬ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন প্রতিটি বিভাগে পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা নির্ধারণ করেছে। পুরস্কারজয়ীরা পদক, সনদ ও অর্থমূল্য পান। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী।

পাঁচ বিভাগে পাঁচ ধরনের অবদান, সামনে অর্থনীতির ঘোষণা

২০২৬ সালের নোবেলজয়ীদের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও একটি বিষয় তাঁদের এক জায়গায় যুক্ত করেছে—মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ানো। নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন; ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেলের গবেষণা জীবন্ত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন পথ তৈরি করেছে; হালজেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্তের গবেষণায় অবদান রেখেছেন; কাগাঁ ও সোয়াই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মৌলিক রহস্য উন্মোচনে কাজ করেছেন; আর অ্যান কারসন সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র সৃজনশীল ভাষার জন্য সম্মানিত হয়েছেন।

নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব শুধু বিজয়ীদের নাম ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। এসব স্বীকৃতি একই সঙ্গে তুলে ধরে, মানবসমাজ কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে, কোন গবেষণাকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে এবং ন্যায়বিচার ও সৃজনশীলতার কোন প্রচেষ্টাকে বিশ্বজুড়ে মূল্য দেওয়া হচ্ছে।

এবারের নোবেল সপ্তাহের শেষ বড় ঘোষণা অর্থনীতিতে। ১২ অক্টোবর সেই নাম জানা গেলে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের সব বিভাগের বিজয়ীদের তালিকা পূর্ণ হবে।

কালের আলো/জেএন

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

সোনার চোরাচালানে এখন আর শুধু বার, বিস্কুট কিংবা কোমরে বাঁধা প্যাকেটের ওপর নির্ভর করছে না পাচারকারীরা। ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে বদলে যাচ্ছে কৌশল, বদলাচ্ছে সোনার আকৃতি ও লুকানোর জায়গা। কখনো পেস্ট বানিয়ে পায়ুপথে, কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাপড়ে মিশিয়ে, আবার কখনো বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে সোনা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট সেই বদলে যাওয়া কৌশলেরই নতুন উদাহরণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সোনা উদ্ধারের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওইদিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে সোনা চোরাচালানের গোপন তথ্য পায় ঢাকা কাস্টম হাউস। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেন সংস্থাটির গোয়েন্দারা।

  • পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির পেস্ট, জুতায় ৮০ বার
  • পোশাকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়ও চালান
  • নতুন কৌশলে চোরাচালানের বিস্তার

একপর্যায়ে ওই ফ্লাইটে আসা আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোর ভেতরে ছিল সোনার পেস্ট।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট ছিল। সোনার বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট। পেস্টগুলো পরিশোধনের পর আনুমানিক এক কেজি সোনা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

বার থেকে পেস্ট, বদলাচ্ছে কৌশল
শাহজালালে সোনা আটকের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—চোরাচালানকারীরা প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সোনা বহনের নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। কখনো সোনা আনা হচ্ছে বার বা বিস্কুট আকারে, আবার কখনো গলিয়ে পেস্ট কিংবা গুঁড়ায় রূপান্তর করা হচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে মিশিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে।

এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য তল্লাশি এড়িয়ে চালান গন্তব্যে পৌঁছানো। সোনার প্রচলিত আকৃতি বদলে ফেললে সাধারণ তল্লাশিতে তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু ধাতব বস্তু শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত বছর এপ্রিলেও দুবাই থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর পোশাক থেকে সোনার মতো গুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। চার জোড়া অন্তর্বাস, একটি প্যান্ট ও তিনটি টি-শার্টে ওই পদার্থ লুকানো ছিল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর সেখান থেকে প্রায় ২ কেজি ৪১৭ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।

জুতার ভেতর ৯ কেজির বেশি সোনা
চোরাচালানে শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বিমানকর্মীদেরও ব্যবহার করার নজির রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার (০৪ অক্টোবর) উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বারগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিশেষ কায়দায় জুতার ভেতরে বারগুলো লুকানো হয়েছিল। এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিমানবন্দরে চোরাচালানের ঝুঁকি শুধু বহিরাগত যাত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে চোরাচালানকারীরা। ফলে নিরাপত্তা ও নজরদারির আওতা শুধু যাত্রী তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ রাখলে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

টয়লেট-সিটের নিচেও চালান
সোনা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে বাহকের শরীর বা লাগেজে সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো উড়োজাহাজের টয়লেট, কখনো সিটের নিচের অংশ, আবার কখনো বিমানবন্দরের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থানে সোনা রেখে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এতে বোঝা যায়, চোরাচালান শুধু একজন বাহকের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নির্দিষ্ট রুট, সহযোগী এবং বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চালান পরিচালনার চেষ্টা থাকতে পারে। তাই যাত্রী তল্লাশির পাশাপাশি উড়োজাহাজ, বিমানকর্মী ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গোপন তথ্যই বড় চালান ধরার চাবি
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে গোপন তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির গুরুত্বও স্পষ্ট। সর্বশেষ সোনার পেস্ট উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেছিল ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

বিপুলসংখ্যক যাত্রীর মধ্য থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ভ্রমণপথ, আচরণ, লাগেজের ধরন ও পূর্ববর্তী তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে চোরাচালানের নতুন কৌশল শনাক্ত করার সুযোগও বাড়বে।

উদ্ধার বাড়ছে, প্রশ্ন থাকছে নেটওয়ার্ক নিয়ে
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৫৩ দশমিক ৭২৭ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে।

তবে একটি চালান আটক করাই চোরাচালান বন্ধের শেষ কথা নয়। একটি চালান ধরা পড়ার পর একই চক্র নতুন পদ্ধতিতে আবার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ফলে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণের পাশাপাশি চোরাচালানের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং দেশে-বিদেশে জড়িত সহযোগীদের চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন কৌশলের বিপরীতে নজরদারি
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান সর্বশেষ ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে সোনার বার, বিস্কুট ও জামাকাপড়ে লুকানো সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

চোরাচালানকারীরা যখন সোনার আকৃতি ও বহনের পদ্ধতি বদলাচ্ছে, তখন নজরদারির কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট উদ্ধারের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

শাহজালালে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনা তাই শুধু একটি চালান আটকের ঘটনা নয়। এটি দেখাচ্ছে, চোরাচালানের কৌশল ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একটি পদ্ধতি বন্ধ হওয়ার পর আরেকটি পদ্ধতি সামনে আসার আগেই তা শনাক্ত করতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আরও সমন্বিত, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রয়োজন।

কালের আলো/জিএন/এমকে

খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে তাঁর পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা খতিবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর আদর্শের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় মসজিদের খতিবকে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা মুফতি আব্দুল মালেককে স্বপদে বহাল রেখে তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায়ের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; বরং ইসলাম সব মুসলমানের। মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্যের পর জামায়াতপন্থীদের একাংশ সমালোচনা শুরু করে। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। এ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার অনেক আলেমও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে দিনটিতে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের পরিচিত গবেষক আলেমদের একজন। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁর পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি