খুঁজুন
                               
, ,
           

নোবেলজয়ীদের ছবিতে কালো রেখা আর সোনালি আভা কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
নোবেলজয়ীদের ছবিতে কালো রেখা আর সোনালি আভা কেন?

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি নোবেল। প্রতিবছর এই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণার অপেক্ষায় থাকে পুরো বিশ্ব। কিন্তু বিজয়ীদের নামের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে নোবেল পুরস্কারের পরিচিত অংশ—কালো রেখায় আঁকা মুখ, আর তার পেছনে ঝলমলে সোনালি আভা।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট, ডিজিটাল আর্কাইভ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মুহূর্তেই তৈরি করা যায় নানা ধরনের প্রতিকৃতি। তাহলে নোবেলজয়ীদের ক্ষেত্রে কেন আলোকচিত্রের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে হাতে আঁকা এই বিশেষ শিল্পরীতি? কেন একই ধরনের রেখা ও সোনালি পটভূমিতে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক কিংবা শান্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মুখ?

এর উত্তর শুধু শিল্পীর নান্দনিক পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংবাদ প্রকাশের বাস্তব প্রয়োজন, একটি স্বতন্ত্র শিল্পভাষার বিকাশ এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি পুরস্কারের নিজস্ব দৃশ্যমান পরিচয় গড়ে তোলার গল্প।

ছবির অভাব থেকেই শুরু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নোবেলজয়ীদের এই বিশেষ প্রতিকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুইডিশ শিল্পী নিকলাস এলমেহেডের নাম। ২০১২ সালে নোবেল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে অনেক বিজয়ীর ভালো মানের ছবি দ্রুত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। বিজয়ীর নাম প্রকাশের পরপরই সংবাদমাধ্যমকে তাঁর ছবি প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু কোনো গবেষক বা বিজ্ঞানীর উপযুক্ত ছবি সহজে না পাওয়া গেলে খবর প্রকাশে সমস্যা তৈরি হয়। অনলাইনে পাওয়া ছবির মানও সব সময় সংবাদমাধ্যমের ব্যবহারের উপযোগী হয় না।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এলমেহেড হাতে আঁকা প্রতিকৃতি তৈরির পথ বেছে নেন। কালো রেখায় মুখের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার এই পদ্ধতিতে অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব হয় পরিচিতিমূলক ছবি। ফলে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তৈরি হতে থাকে আলাদা একটি দৃশ্যশৈলী।

একই শৈলীতে কেন তুলে ধরা হয় সব বিজয়ীকে?

নোবেলজয়ীদের প্রত্যেকের কাজ, পরিচিতি ও অর্জন আলাদা। কেউ পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সূত্র নিয়ে গবেষণা করেন, কেউ নতুন ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশে অবদান রাখেন, কেউ সাহিত্যে নতুন ভাবনার জন্ম দেন, আবার কেউ শান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন।

এত বৈচিত্র্যের পরও তাঁদের প্রতিকৃতিতে একটি অভিন্ন শৈলী বজায় রাখা হয়। এর ফলে প্রতিটি ছবি আলাদাভাবে ব্যক্তির পরিচয় বহন করলেও সবগুলো একসঙ্গে নোবেল পুরস্কারের একটি সমন্বিত দৃশ্যমান পরিচয় তৈরি করে।

এটি একধরনের ব্র্যান্ডিংও। কোনো সংবাদে কালো রেখায় আঁকা মুখের সঙ্গে সোনালি আভা দেখা গেলে অনেক দর্শক সহজেই সেটিকে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। বারবার একই ধরনের ছবি ব্যবহারের ফলে এই দৃশ্যশৈলী মানুষের মনে স্থায়ী পরিচিতি পেয়েছে।

কালো রেখার মধ্যেই মুখের পরিচয়

এই প্রতিকৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর সরলতা। মুখের প্রতিটি খুঁটিনাটি আলোকচিত্রের মতো ফুটিয়ে তোলার পরিবর্তে শিল্পী গুরুত্ব দেন চোখ, নাক, ঠোঁট, চুল ও মুখের গড়নের মতো প্রধান বৈশিষ্ট্যে।

গাঢ় কালো রেখা ছবিকে দেয় দৃঢ়তা। অপ্রয়োজনীয় রং ও জটিল ছায়া কম থাকায় ছোট আকারেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকে। সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট, মোবাইল স্ক্রিন কিংবা সংবাদপত্র—বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সরলতা কার্যকর।

তবে ছবিগুলোর বিশেষত্ব শুধু সহজে চেনা যায় এমন হওয়া নয়। হাতে আঁকা রেখা প্রতিটি প্রতিকৃতিতে একটি শিল্পিত অনুভূতি যোগ করে। ফলে ছবিগুলো নিছক পরিচিতিমূলক ছবি না থেকে নিজস্ব নান্দনিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে।

সোনালি আভা এল কীভাবে?

কালো রেখায় আঁকা মুখের সঙ্গে সোনালি রঙের ব্যবহার প্রতিকৃতিগুলোকে আরও স্বতন্ত্র করেছে। তবে বর্তমানের পরিচিত এই রূপ শুরু থেকেই ছিল না।

নোবেল পুরস্কারের ব্র্যান্ড পরিচয়ে সোনালি রঙের গুরুত্ব বাড়ার পর প্রতিকৃতিতেও এর ব্যবহার নতুন মাত্রা পায়। ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তাঁর প্রতিকৃতিতে আসল গোল্ড ফয়েল বা সোনার পাত ব্যবহার শুরু করেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

সোনালি রং নোবেল পদকের ঐতিহ্যের সঙ্গে দৃশ্যগত সম্পর্ক তৈরি করে। কালো রেখার সঙ্গে উজ্জ্বল সোনালি পাতের বৈপরীত্য ছবিকে দেয় আলাদা আকর্ষণ। ফলে প্রতিকৃতিগুলো সাধারণ ছবি থেকে আলাদা হয়ে ওঠে এবং দূর থেকেই সহজে নজরে পড়ে।

এখানে সোনালি আভা শুধু সাজসজ্জার উপাদান নয়; এটি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দৃশ্যমান সংকেত হিসেবেও কাজ করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও হাতে আঁকা প্রতিকৃতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে এখন ছবি তৈরি ও সম্পাদনার পদ্ধতি অনেক সহজ হয়েছে। কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের ডিজিটাল প্রতিকৃতি। এমন সময়ে নোবেলজয়ীদের হাতে আঁকা ছবিগুলো বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

এই প্রতিকৃতি তৈরিতে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে মুখের রেখা আঁকা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে যুক্ত করা হয় ধাতব সোনার পাত। অর্থাৎ ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ছবিগুলোর পেছনে রয়েছে বাস্তব উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা শিল্পকর্ম।

এই হাতে তৈরি বৈশিষ্ট্য ছবিগুলোকে আরও আলাদা করে। একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শৈলী অনুসরণ করেও প্রতিটি মুখের নিজস্বতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

একটি প্রতিকৃতি, দুটি পরিচয়

নোবেলজয়ীদের এই ছবির দিকে তাকালে দুটি বিষয় একসঙ্গে সামনে আসে। প্রথমত, প্রতিকৃতিটি নির্দিষ্ট একজন মানুষের মুখ ও পরিচয় তুলে ধরে। দ্বিতীয়ত, একই শিল্পরীতির কারণে ছবিটি নোবেল পুরস্কারের বৃহত্তর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

এ কারণেই প্রতিকৃতিগুলো শুধু বিজয়ীর ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না; নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদপ্রবাহেরও একটি পরিচিত দৃশ্যমান উপাদান হয়ে উঠেছে।

একসময় দ্রুত ছবি সংগ্রহের সমস্যার সমাধান হিসেবে শুরু হওয়া উদ্যোগ এখন শিল্প, সংবাদ উপস্থাপন ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের সমন্বিত উদাহরণ। প্রয়োজন থেকে জন্ম নেওয়া এই শৈলী সময়ের সঙ্গে নিজস্ব ঐতিহ্য তৈরি করেছে।

নোবেলজয়ীদের কালো রেখায় আঁকা মুখ আর সোনালি আভা তাই কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন, শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা এবং একটি বিশ্বখ্যাত পুরস্কারকে আলাদা করে চেনানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রতিবছর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিকৃতিগুলোও সামনে আসে—আর সেই পরিচিত দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো একটি ছোট সমাধানও সময়ের সঙ্গে বড় ঐতিহ্যে পরিণত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সোনার পথ বদলেছে, বদলেছে পাচারের ছক

সোনার চোরাচালানে এখন আর শুধু বার, বিস্কুট কিংবা কোমরে বাঁধা প্যাকেটের ওপর নির্ভর করছে না পাচারকারীরা। ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে বদলে যাচ্ছে কৌশল, বদলাচ্ছে সোনার আকৃতি ও লুকানোর জায়গা। কখনো পেস্ট বানিয়ে পায়ুপথে, কখনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাপড়ে মিশিয়ে, আবার কখনো বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে সোনা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট সেই বদলে যাওয়া কৌশলেরই নতুন উদাহরণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সোনা উদ্ধারের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওইদিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে সোনা চোরাচালানের গোপন তথ্য পায় ঢাকা কাস্টম হাউস। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেন সংস্থাটির গোয়েন্দারা।

  • পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির পেস্ট, জুতায় ৮০ বার
  • পোশাকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়ও চালান
  • নতুন কৌশলে চোরাচালানের বিস্তার

একপর্যায়ে ওই ফ্লাইটে আসা আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোর ভেতরে ছিল সোনার পেস্ট।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনার পেস্ট ছিল। সোনার বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট। পেস্টগুলো পরিশোধনের পর আনুমানিক এক কেজি সোনা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

বার থেকে পেস্ট, বদলাচ্ছে কৌশল
শাহজালালে সোনা আটকের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—চোরাচালানকারীরা প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সোনা বহনের নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। কখনো সোনা আনা হচ্ছে বার বা বিস্কুট আকারে, আবার কখনো গলিয়ে পেস্ট কিংবা গুঁড়ায় রূপান্তর করা হচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে মিশিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে।

এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য তল্লাশি এড়িয়ে চালান গন্তব্যে পৌঁছানো। সোনার প্রচলিত আকৃতি বদলে ফেললে সাধারণ তল্লাশিতে তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু ধাতব বস্তু শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত বছর এপ্রিলেও দুবাই থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর পোশাক থেকে সোনার মতো গুঁড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। চার জোড়া অন্তর্বাস, একটি প্যান্ট ও তিনটি টি-শার্টে ওই পদার্থ লুকানো ছিল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর সেখান থেকে প্রায় ২ কেজি ৪১৭ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।

জুতার ভেতর ৯ কেজির বেশি সোনা
চোরাচালানে শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বিমানকর্মীদেরও ব্যবহার করার নজির রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার (০৪ অক্টোবর) উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

বারগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিশেষ কায়দায় জুতার ভেতরে বারগুলো লুকানো হয়েছিল। এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিমানবন্দরে চোরাচালানের ঝুঁকি শুধু বহিরাগত যাত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উড়োজাহাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে চোরাচালানকারীরা। ফলে নিরাপত্তা ও নজরদারির আওতা শুধু যাত্রী তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ রাখলে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

টয়লেট-সিটের নিচেও চালান
সোনা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে বাহকের শরীর বা লাগেজে সোনা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো উড়োজাহাজের টয়লেট, কখনো সিটের নিচের অংশ, আবার কখনো বিমানবন্দরের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থানে সোনা রেখে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এতে বোঝা যায়, চোরাচালান শুধু একজন বাহকের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নির্দিষ্ট রুট, সহযোগী এবং বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চালান পরিচালনার চেষ্টা থাকতে পারে। তাই যাত্রী তল্লাশির পাশাপাশি উড়োজাহাজ, বিমানকর্মী ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গোপন তথ্যই বড় চালান ধরার চাবি
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে গোপন তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির গুরুত্বও স্পষ্ট। সর্বশেষ সোনার পেস্ট উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আগাম তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করেছিল ঢাকা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

বিপুলসংখ্যক যাত্রীর মধ্য থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ভ্রমণপথ, আচরণ, লাগেজের ধরন ও পূর্ববর্তী তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে চোরাচালানের নতুন কৌশল শনাক্ত করার সুযোগও বাড়বে।

উদ্ধার বাড়ছে, প্রশ্ন থাকছে নেটওয়ার্ক নিয়ে
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৫৩ দশমিক ৭২৭ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে।

তবে একটি চালান আটক করাই চোরাচালান বন্ধের শেষ কথা নয়। একটি চালান ধরা পড়ার পর একই চক্র নতুন পদ্ধতিতে আবার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ফলে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণের পাশাপাশি চোরাচালানের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং দেশে-বিদেশে জড়িত সহযোগীদের চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন কৌশলের বিপরীতে নজরদারি
ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান সর্বশেষ ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে সোনার বার, বিস্কুট ও জামাকাপড়ে লুকানো সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

চোরাচালানকারীরা যখন সোনার আকৃতি ও বহনের পদ্ধতি বদলাচ্ছে, তখন নজরদারির কৌশলও সেই অনুযায়ী বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ পায়ুপথে ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট উদ্ধারের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

শাহজালালে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৯০ গ্রাম সোনা তাই শুধু একটি চালান আটকের ঘটনা নয়। এটি দেখাচ্ছে, চোরাচালানের কৌশল ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একটি পদ্ধতি বন্ধ হওয়ার পর আরেকটি পদ্ধতি সামনে আসার আগেই তা শনাক্ত করতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আরও সমন্বিত, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রয়োজন।

কালের আলো/জিএন/এমকে

খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
খতিব ইস্যুতে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, জুমার পর বিক্ষোভ

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবির প্রতিবাদে তাঁর পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর গেটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা খতিবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর আদর্শের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় মসজিদের খতিবকে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা মুফতি আব্দুল মালেককে স্বপদে বহাল রেখে তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায়ের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; বরং ইসলাম সব মুসলমানের। মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্যের পর জামায়াতপন্থীদের একাংশ সমালোচনা শুরু করে। তাঁদের কেউ কেউ খতিবের অপসারণের দাবিও জানান। এ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায়ের আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে, মুফতি আব্দুল মালেকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। কওমি ধারার অনেক আলেমও তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে দিনটিতে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মুফতি আব্দুল মালেক দেশের পরিচিত গবেষক আলেমদের একজন। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁর পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি