খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্জেন্টিনার কাছে ৭ গোলের ধাক্কা, ফেডারেশন দখলের হুমকি প্রেসিডেন্টের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার কাছে ৭ গোলের ধাক্কা, ফেডারেশন দখলের হুমকি প্রেসিডেন্টের

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হার। তার ওপর জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভ্রমণ বিড়ম্বনা, গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের দলে না পাওয়া এবং ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা। সব মিলিয়ে বড় সংকটে পড়েছে আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর ফুটবল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজের হাতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে। তবে সরকারের এমন হস্তক্ষেপে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশটি।

৭ গোলের হারেই সামনে এলো ফুটবলের অন্দরমহলের সংকট

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বুরকিনা ফাসোর ৭-০ গোলের পরাজয় কেবল মাঠের ফলাফলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই হার ঘিরে দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা ও ফেডারেশনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো মৌলিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুয়েনস এইরেসে ম্যাচের আগে বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ট্রানজিট ভিসার জটিলতা এবং ঘুরপথে বিমানযাত্রার কারণে কয়েক দিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গন্তব্যে পৌঁছানোয় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়াই মাঠে নামতে হয় দলকে

দলের দুর্বল প্রস্তুতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বিদেশি লিগে খেলা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারার ঘটনায়। জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়দের একত্র করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা ফেডারেশনের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সেই ব্যবস্থাপনাতেই ঘাটতি থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতির জন্য বুরকিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কর্নেল-মেজর উমারু সাওয়াদোগোর নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের অভিযোগ, জাতীয় দলের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার কারণে মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়েছে।

তবে আর্জেন্টিনার কাছে বড় ব্যবধানে হারকে ঘিরে ওঠা সব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বক্তব্য ছাড়া পুরো ব্যর্থতার দায় এককভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।

‘আমাদের ফুটবল অসুস্থ’, ক্ষোভ প্রেসিডেন্টের

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরএমসি স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে। তার মতে, নতুন করে অর্থ বিনিয়োগের আগে ফুটবলের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি।

ত্রাওরে বলেন, ‘এটি অনস্বীকার্য সত্য যে আমাদের ফুটবল আজ মারাত্মক অসুস্থ। যেকোনো উপায়ে আমাদের এর সঠিক প্রতিকার খুঁজে বের করতে হবে। নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে এই জাতীয় রোগ সারাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চলতি সপ্তাহেই আমাদের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতাকে তিনি শুধু মাঠের ফলাফল হিসেবে দেখছেন না; বরং এর পেছনে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনারও পরিবর্তন চান।

ফেডারেশনকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুঁশিয়ারি

সংকটের কেন্দ্রে থাকা ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বকে এবার সরাসরি সতর্ক করেছেন ত্রাওরে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন ফেডারেশনের স্বাধীন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আর নীরব থাকতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘শেষবার আমি ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছিলাম, এতদিন পর্যন্ত আমরা আপনাদের স্বাধীন কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের হাত বাঁধা পড়ে গেছে।’

এরপর আরও কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফিফা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করুক কিংবা না করুক—আমাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেই হবে। আমরা যখন হস্তক্ষেপ করব, তখন সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে সঠিকভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যেই তা করব।’

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফেডারেশনের প্রশাসনিক কাঠামোয় সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে সরকার বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সরকারের হস্তক্ষেপে ফিফার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

বুরকিনা ফাসোর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির অবস্থান। ফিফার বিধি অনুযায়ী, সদস্য ফেডারেশনগুলোকে নিজেদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে হয়। সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া বা ফেডারেশনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারে।

ফিফার সংবিধানের ১৪ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সদস্য সংস্থার দায়িত্ব এবং তাদের স্বাধীন কার্যক্রমের বিষয়গুলো নির্ধারিত রয়েছে। কোনো ফেডারেশনের কার্যক্রমে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে ফিফা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না; সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও বিধি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের ফুটবল প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনায় ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফলে বুরকিনা ফাসোর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞা এলে কী হারাতে পারে বুরকিনা ফাসো?

ফিফার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং দেশের ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কাফ) অধীন ক্লাব প্রতিযোগিতায় দেশটির ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ ছাড়া ফিফার ‘ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ফুটবল উন্নয়নের জন্য দেওয়া অর্থায়ন ও অনুদানেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।

তবে এসব পরিণতি নির্ভর করবে ফিফা কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না, দিলে তার ধরন কী হয় এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের পরিধি কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর।

৭ গোলের হার, নাকি পরিবর্তনের সূচনা?

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজয় বুরকিনা ফাসোর ফুটবল প্রশাসনকে ঘিরে জমে থাকা অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে। খেলোয়াড়দের ভ্রমণসংকট, গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের অনুপস্থিতি এবং ফেডারেশনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে দেশটির ফুটবল এখন কঠিন এক সন্ধিক্ষণে।

প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে প্রশাসনিক পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি দিলেও সেই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সমস্যার সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। একই সঙ্গে ফিফার স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিধি অমান্য না করে সংকট মোকাবিলা করাও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনার কাছে ৭ গোলের হার বুরকিনা ফাসোর ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সূচনা করে, নাকি সরকারি হস্তক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও বড় সংকটে পড়ে দেশটি।

কালের আলো/জেএন

মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের সময় মাওলানা মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের দেওবন্দি আলেমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

সম্প্রতি জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার মাসআলায় মাওলানা মওদুদী সাহেবের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয় ছিল। তখন কেবল তাঁকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন করা হয়নি, বরং তাঁর মুক্তির দাবিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ গোটা উপমহাদেশের দেওবন্দের সব ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করেছেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে। এ অর্জন বাস্তবায়নে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশসহ রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অজুহাত ও বাহানা তৈরি করে কেউ যদি জুলাইয়ের অর্জনকে নস্যাৎ করা কিংবা বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে আত্মঘাতী। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক বিচারক নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি জানায়, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের সময় ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিলাই। পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন। জীবনের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন এবং নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে কাজ করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনে কাজ করেন তিনি। বর্তমানে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুক্ত রয়েছেন।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, নাভি পিলাইকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এসব আইন শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি