খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে কাজ করছে সরকার: আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে কাজ করছে সরকার: আরিফুল হক চৌধুরী

মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে প্রতারণা করা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সিলেটে পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রবাসীদের সেবায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী করিডোর ও প্রবাসী ব্যাংকসহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনার জন্য সপ্তাহে এক দিন সময় দেওয়ার বিষয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পৃথিবী যত দিন থাকবে, সমস্যা তত দিন থাকবে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিমানের একটি ফ্লাইটে ছেলে ও পুত্রবধূসহ সিলেটে পৌঁছান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন—নান্দাইলে তিন বিষয়ে জোর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন—নান্দাইলে তিন বিষয়ে জোর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, নারীর হাতে আর্থিক সক্ষমতা এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ—জনকল্যাণের এই তিনটি দিককে গুরুত্ব দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানের পাশাপাশি নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্য দিয়ে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ সামাজিক পরিবেশের পাশাপাশি পরিবার ও নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও সামনে এনেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গোৎসব উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  • দুর্গোৎসবে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান
  • ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রত্যাশা

সম্প্রীতির বন্ধনে নিরাপদ দুর্গোৎসব
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের আয়োজন নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি দৃঢ় করারও একটি উপলক্ষ। প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যে উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় এবং পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকা উৎসবকে আরও সুশৃঙ্খল করতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক। প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সামাজিক সহযোগিতার সমন্বয় ঘটলে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডে মাসে আড়াই হাজার টাকা
একই ভেন্যুতে আয়োজিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এই কার্ড পেতে কাউকে কোনো অর্থ দিতে হবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কেউ এ কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করলে তাঁকে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেলাই মেশিনে খুলতে পারে আয়ের নতুন দুয়ার
নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, হতদরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব সেলাই মেশিন কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় করতে পারবেন, পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ও গড়ে তুলতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। এভাবে তাঁরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন এবং অন্যদেরও সহযোগিতা করতে পারবেন।

সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নারীদের দক্ষতা ও শ্রমকে আয়ের উৎসে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করে। নিজস্ব আয় থাকলে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাড়ে। একই সঙ্গে একজন নারী ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণ করতে পারলে অন্য নারীদের কাজের সুযোগ তৈরির পথও খুলতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সহায়তা
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার এবং হতদরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা ও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা, সহায়তা ও স্বাবলম্বিতার সমন্বিত উদ্যোগ
ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যে নিরাপদ ধর্মীয় উৎসব, নারীদের আর্থিক সহায়তা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ—এই তিনটি বিষয় পরস্পর-সম্পূরক জনকল্যাণমূলক অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি বজায় রাখা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা জোরদার করতে পারে। ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে সহায়তা করার সম্ভাবনা তৈরি করে। আর সেলাই মেশিনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান নারীদের নিজস্ব আয় গড়ে তোলার পথ খুলে দিতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ব্যাংকিং ব্যবস্থার এক-তৃতীয়াংশ তহবিল লুট হয়েছে: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
ব্যাংকিং ব্যবস্থার এক-তৃতীয়াংশ তহবিল লুট হয়েছে: গভর্নর

দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে আগামী ৫ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি দেখতে পান, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ দিয়ে সরকার দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত। এমনকি পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পও নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।

ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়। লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়, বরং ব্যাপক লুটপাট।

তিনি আরও বলেন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা সহজ ও সহজলভ্য হলে ডিজিটাল রূপান্তর অর্থবহ হয়ে ওঠে। ইউআইইউতে বাংলা কিউআর চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিশন বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ইউআইইউর সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তারা আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা ও ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

উন্নয়নে ৫০৩ উপজেলায় ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে গ্রাম-শহরে নজর মন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
উন্নয়নে ৫০৩ উপজেলায় ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে গ্রাম-শহরে নজর মন্ত্রীর

দল-মত ও অঞ্চলনির্বিশেষে দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কোনো একটি অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত না করে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সমবায়ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়ের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।

  • দল-মত ও অঞ্চলনির্বিশেষে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের তাগিদ
  • সৌরপ্যানেল স্থাপনে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়ের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
  • প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমিতির কার্যকারিতা নিশ্চিত ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান

উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকবে সাধারণ মানুষ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কোনো একটি উপজেলার জন্য এমন সুবিধা দেওয়া উচিত হবে না, যা পাশের অন্য উপজেলার মানুষ পাবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সর্বজনীন জনস্বার্থের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সব এলাকায় সমান ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন না হলেও প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সৌরবিদ্যুতে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ
প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

আড়াই লাখ সমবায় সমিতিকে কাজে লাগানোর তাগিদ
দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করে সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজে সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

বেতন সমন্বয় নিয়ে সরকারের ভাবনা
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা কেবল চাকরিজীবী নন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে একবারে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক ও পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের মুখে পড়েছেন। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবাইকে একসঙ্গে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে